ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

পাখির ডাক নকল করে ‘বড় ভীমরাজ’

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৪১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮
পাখির ডাক নকল করে ‘বড় ভীমরাজ’ গাছের মগডালে বসে আছে ‘বড় ভীমরাজ’। ছবি: বাংলানিউজ

মৌলভীবাজার: বনের নিস্তব্ধতায় গাছের মগডালে বসে ডেকে চলেছে একটি পাখি। তবে পাখিটি নিজের ডাক নয় অন্য একটি পাখির ডাক নকল করে দিব্বি প্রতিধ্বনি ছড়াচ্ছে সবুজ সমারোহে। 
 

গবেষকের মতে, বড় ভীমরাজ অন্য পাখির ডাক নকল করতে পটু। শুধু তা-ই নয়, ‘ভি’ আকারের লম্বা লেজের দু’পাশটি চিকন এবং মনোমুগ্ধকর।

ওই লম্বা লেজ নিয়ে যখন উড়াল দেয় তখন এ দৃশ্যটি দৃষ্টিনন্দন লাগে। এই বিশেষ ধরনের বাহারি লেজ ভীমরাজের অন্যতম স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
 
বড় ভীমরাজের ইংরেজি নাম Great Racket tailed Drongo এবং বৈজ্ঞানিক নাম Dicrurus Paradiseus। আকারে আমাদের পাতিকাকের সমান। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এর তথ্য অনুযায়ী এরা ‘ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত’ পাখি।
 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং বন্যপ্রাণি গবেষক ড. কামরুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, বড় ভিমরাজ পাখি চিরসবুজ বনের পাখি। বনের বাইরে বা লোকালয়ে এদের পাওয়া যায় না। এরাও পতঙ্গভুক পাখি। যে সব বনে পোকা ও কীটপতঙ্গের উৎপাদন খুব বেশি সেখানে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়। উড়ন্ত পোকা ধরে ধরে খায় এরা। এছাড়াও ফুলের মধু এবং পাখির ডিমও খেয়ে থাকে।
 
গাছের মগডালে বসে আছে ‘বড় ভীমরাজ’।  ছবি: বাংলানিউজশারীরিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এদের দেহ নীলাভ কালো চকচকে। এই পাখিটির কপালে রয়েছে বিশাল ঝুঁটি। এদের লেজ লম্বা এবং দেখতে অনেকটা রকেটের মতো। লেজের শেষভাগের দুই দিকের পালকটি বাঁকানো। এদের চোখ বাদামি-লালচে। পালক এদের শারীরিক উচ্চতা প্রায় ৩২ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১২০ গ্রাম। ’    
 
‘বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভূটান, চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ পূর্ব এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে। ’
 
এ পাখির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- এরা অন্য পাখির ডাক নকল করতে পারে। দেখা যায়, বনের মাঝে অন্য পাখির শিষ নকল করে ভীমরাজ দিব্বি ডেকে চলেছে। এদের গলার আওয়াজ বেশ সুরেলা। অন্যান্য পাখির ডাক ও গান সহজে নকল করতে এরা পারদর্শী বলে জানান ড. কামরুল হাসান।
 
বাংলাদেশ সময়: ১১৩২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮
বিবিবি/আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।