ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৩০ মে ২০২৪, ২১ জিলকদ ১৪৪৫

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

রেমা-কালেঙ্গার বিপদাপন্ন ‘বড় কাঠবিড়ালি’

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৩৪৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮
রেমা-কালেঙ্গার বিপদাপন্ন ‘বড় কাঠবিড়ালি’ রেমা-কালেঙ্গা বড় কাঠবিড়ালি। ছবি: ড. মো. কামরুল হাসান

মৌলভীবাজার: গাছ-গাছালিপূর্ণ বনের এক জায়গায় হঠাৎ নড়েচড়ে উঠলো। কিন্তু তার কারণটা তখনও বুঝা গেলো না– এটি আসলে কি! কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর পাতাঘেরা ঝোপের সেই অদেখা অংশ থেকে বেরিয়ে এলো বড় আকারের একটি কাঠবিড়ালি। কালো-সাদা রঙে সে দারুণ মাখামাখি।  

হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমে কালেভদ্রে দেখা মেলে এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটির। বছর তিনেক আগে এর সাক্ষী হয়ে উঠেছিলাম আমরাও।

সাম্প্রতিক এক গবেষণার কাজে এই অভয়াশ্রমে গিয়ে এই প্রজাতির একটি প্রাণীর দেখা পেলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান।
 
এ বড় কাঠবিড়ালির ইংরেজি নাম Malayan Giant Squirrel ও বৈজ্ঞানিক নাম Ratufa bicolor। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এর রেডলিস্ট অনুযায়ী, এরা আমাদের দেশের ‘বিপদাপন্ন’ প্রাণী।

ক্রমাগতভাবে বন ধ্বংস, বনের প্রাকৃতিক প্রতিবেশব্যবস্থা বিনষ্ট, বনের পুরানো এবং দীর্ঘদেহী বৃক্ষগুলো উজার, বনের নতুন করে বসতি স্থাপন, দীর্ঘদিন ধরে বনে বাস করা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষেরা বন্যপ্রাণীদের গোপনে শিকার বা হত্যা প্রভৃতি কারণে মারাত্মকভাবে বিপন্ন হতে চলেছে দেশের মহামূল্যবান বন্যপ্রাণীরা। এর মাঝে বড় কাঠবিড়ালি অন্যতম।   রেমা-কালেঙ্গা বড় কাঠবিড়ালি।  ছবি: ড. মো. কামরুল হাসান জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আকারের কাঠবিড়ালি। রেমা-কালেঙ্গার গভীর বনে প্রবেশ করলেই মাঝে মাঝে এরা চোখে পড়ে। আমরা যখন রেমা-কালেঙ্গায় গবেষণার কাজ করি তখন বড় কাঠবিড়ালির ১৬টা বাসা পেয়েছিলাম। প্রতিবছরই এরা নতুন বাসা তৈরি করে প্রজনন করে থাকে। স্থানীয়রা এ কাঠবিড়ালিকে ‘রাম কটা’ বলেন। সিলেট অঞ্চলের স্থানীয়রা কাঠবিড়ালিকে ‘কটা’ বলে থাকেন।
 
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, চীনসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এ প্রাণীটির বৈশ্বিক অবস্থান রয়েছে বলে জানান তিনি।
 
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এ প্রাণীটির উপস্থিতি সম্পর্কে ড. কামরুল হাসান বলেন, সিলেটের অন্য কোনো বনে এটা নেই বললেই চলে। অনেকে বলে থাকেন যে বড় কাঠবিড়ালি নাকি লাউয়াছড়াতে মাঝে মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু এই তথ্যটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়।

‘যেহেতু এই কাঠবিড়ালিটি বড় আকারের, তাই এটি ওখানে থাকলে সহজেই আমাদের চোখে পড়তো। লাউয়াছড়াতে আমাদের ২০ বছর কাজের মধ্যে এটি কখনো আমাদের চোখে পড়েনি। ’
 
বড় কাঠবিড়ালির আকার-আকৃতি ও শারীরিক গঠন সম্পর্কে তিনি বলেন, এদের দৈর্ঘ্য মাথাসহ ২৩ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। এদের লেজ অনেক লম্বা। দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। পুরো শরীরজুড়ে কালোর রঙের উপস্থিতি। মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত পুরোটা কালো রঙে ঢাকা। তবে লেজের কেশরে হালকা হলুদাভ রঙের আভা দেখা যায়।  

বাংলাদেশে ৯ প্রজাতির কাঠবিড়ালির মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়। শুধু তা-ই নয়, পৃথিবীতে যত প্রকারের কাঠবিড়ালি রয়েছে তার মধ্যে আমাদের এই প্রজাতি সবচেয়ে বড়।

বিভিন্ন গাছের ফল-মূল, নবীন কচি-পাতা প্রভৃতি এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে বলে জানান বন্যপ্রাণী গবেষক ড. মো. কামরুল হাসান।  
 
বাংলাদেশ সময়: ০৯৪০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৮
বিবিবি/এমএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।