ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৩০ মে ২০২৪, ২১ জিলকদ ১৪৪৫

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

শান্তিবাড়ির প্রাকৃতিক ‘জামরুল’

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৫১৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১৩, ২০১৮
শান্তিবাড়ির প্রাকৃতিক ‘জামরুল’ রসালো প্রাকৃতিক জামরুল। ছবিটি সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলের রাধানগর থেকে তোলা।

মৌলভীবাজার: প্রকৃতি এখানে তার আপন মুগ্ধতাটুকু ধরে রেখেছে। চারদিকজুড়ে কেবল সবুজের সমারোহ। নানান ফুলেদের বাহারি হাসি বাড়িয়ে রেখেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ঘাসসহ ক্ষুদ্র তৃণভূমিকেও মমতায় বাঁচতে দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে এখানে।

ফুল, ফলের গাছ তো বটেই; প্রকৃতি তার আপন সৌন্দর্য আর নিসর্গ ঘ্রাণ নিয়ে জেগে আছে শ্রীমঙ্গলের শান্তিবাড়িতে। এখানে শহরের কোনো কোলাহল নেই।

নেই গাড়ির হর্ন, ইঞ্জিনের শব্দ। কেবল চোখ মেললেই সবুজ গাছগাছালি। আর প্রশান্তির ছাপ তাতে।
 
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাধানগর গ্রাম। এ গ্রামেই শান্তিবাড়ি শান্তিময়তা নিয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। ফলেদের মধ্যে রসালো জামরুল চোখ মেলে প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে। থোকা থোকা হয়ে ঝুলে রয়েছে গাছে।
 
শান্তিবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তানভির সরকার লিংকন বাংলানিউজকে বলেন, এই জামরুল গাছের বয়স প্রায় তিন বছর। দু’বছর থেকে ফল ধরছে। ফলগুলো খুব রসালো।
রসালো প্রাকৃতিক জামরুলতিনি জানান, ‘আরো একটি বিষয় শুনলে আপনি কিছুটা অবাক হবেন। এই জামরুল গাছে কোনো প্রকারের সার ব্যবহার করা হয়নি। এমনি গোবর সারও দেয়া হয়নি। শুধু জামরুলই নয়, এখানেই প্রত্যেকটি ফলের গাছগুলো এভাবেই পরিচর্যা করা হচ্ছে। ’
 
প্রকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া ফলগাছের নিচের ঘাসসহ অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় উদ্ভিদগুলোকে আমরা কখনোই কাটি না বা উপড়ে ফেলে দিই না। ওরা ওদের মতোই থাকে। কেননা, এই ঘাসসহ অন্যান্য ছোট ছোট উদ্ভিদগুলো কিন্তু বড় বড় গাছের খাবার সংগ্রহ করে থাকে বলে জানান তানভির সরকার লিংকন।
 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার এবং উদ্ভিদ গবেষক মো. আবদুর রহিম বাংলানিউজকে বলেন, জারুলের উদ্ভিদ তাত্ত্বিক নাম Syzygium samarangense। এটি Myrtaceae পরিবারের উদ্ভিদ। এটি সারাদেশেই রয়েছে। বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন ফলের বাগানে এটি চাষ হয়ে থাকে।
রসালো প্রাকৃতিক জামরুলঅর্গানিক বা প্রাকৃতিক গোবর সার ব্যবহারের পরিবর্তে পুরোপুরি প্রাকৃতিকভাবে পরিচর্যা প্রসঙ্গে এ গবেষক বলেন, কিছু কিছু প্রজাতির ঘাস রয়েছে তারা বড় বড় উদ্ভিদের জন্য পুষ্টির জোগান দেয়। সব উদ্ভিদই একটা আরেকটার সঙ্গে ইকোফ্রেন্ডলি টিকে থাকে। ঋতু অনুযায়ী পুরাতন ঘাসগুলো মরে যায়, পুনরায় নতুন ঘাসগুলো গজিয়ে উঠে। তখন মরে যাওয়া ঘাসগুলো বড় বড় উদ্ভিদের জন্য সারে পরিণত হয়।
 
এই জামরুল ফলটি খুব সুস্বাদু বা মিষ্টি না হলেও প্রচুর পুষ্টিগুণসম্পন্ন। সব ধরনের মৌসুমী ফলেরই কিন্তু আলাদা আলাদা পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং তা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এগুলো আমাদের শরীরের নানান ভিটামিনের অভাবপূরণসহ শরীরের পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে থাকে বলে জানান উদ্ভিদ গবেষক মো. আবদুর রহিম।
 
বাংলাদেশ সময়: ১০৫৬ ঘণ্টা, আগস্ট ১৩, ২০১৮
বিবিবি/আরবি/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।