ঢাকা, সোমবার, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২২ শাবান ১৪৪৫

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

হারিয়ে যাচ্ছে ছাতিম গাছ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৪৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭
হারিয়ে যাচ্ছে ছাতিম গাছ হারিয়ে যাচ্ছে ছাতিম গাছ

মাদারীপুর: ষড়ঋতুর দেশে এখন চলছে শরৎ কাল। আকাশে কখনো দেখা যায় শুভ্র খণ্ড খণ্ড মেঘের স্থিরতা বা ভেসে চলা। তার ফাঁক গলে দূর নীল আকাশ। আবার আকাশ ভারী করে বৃষ্টির ধারাও বইতে শুরু করে হঠাৎই।

প্রকৃতিতে বয়ে বেড়ানো হালকা বাতাসের সঙ্গে থেকে থেকে ভেসে আসে কোনো এক বুনো ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। বিকেলের সূর্য যখন গোধূলীতে তখন থেকেই যেন একটু একটু করে ছড়াতে থাকে মায়াবী এ ঘ্রাণ।

সুগন্ধ ছড়ানো গাছটির নাম ছাতিম গাছ। শরতের এ সময়ে গাছজুড়ে শুধু ফুল আর ফুল। সাদা ফুলে পুরো গাছ ঢেকে থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকেই এ গাছের ফুলের ঘ্রাণ ছড়াতে থাকে।

এক সময় গ্রামের রাস্তার পাশে, বনে-জঙ্গলে অহরহ এই গাছ থাকলেও বর্তমানে খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। দূর থেকে ভেসে আসা সুগন্ধ শুঁকে গাছটিকে খুঁজে নিতে হয়। নির্বিচারে গাছ কেটে বিক্রি করা বা বসতবাড়ি নির্মাণের ফলে অন্যান্য গাছের সঙ্গে উজার হতে হতে এখন এই ছাতিম গাছ খুব একটা দেখা যায় না। গ্রামের মানুষের কাছে ছাতিম গাছ ‘ছাইতান’ নামে পরিচিত। বছরের এ সময়েই ফুল ফোটে গাছটিতে। পূর্ণ বয়স্ক একটি ছাতিম গাছ বেশ বড় হয়। এ গাছের কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরি করা হয় এবং ঘর নির্মাণ কাজেও ব্যবহৃত হয়।

হারিয়ে যাচ্ছে ছাতিম গাছউইকিপিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, ছাতিম গাছ ‘অ্যাপোসাইনেসি’ বর্গের অন্তর্ভূক্ত একটি উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম এলস্টোনিয়া স্কলারিস। এর আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। ক্রান্তীয় অঞ্চলের এই গাছটি বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্রই জন্মে। আর্দ্র, কর্দমাক্ত, জলসিক্ত স্থানে ছাতিম বেশি জন্মে। ছাতিম মূলাবর্তে সাতটি পাতা এক সঙ্গে থাকে বলে সংস্কৃতে এবং হিন্দিতে একে ‘সপ্তপর্ন’ বা ‘সপ্তপর্না’ নামেও ডাকা হয়। এটি একটি ঔষুধি গাছও বটে। এর কষ ও ছাল ওষুধের কাজে ব্যবহৃত হয়।

মাদারীপুর জেলার শিবচরের উৎরাইল গ্রামের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব মুন্সী বলেন, ‘ছাতিম গাছ এক সময় এই এলাকায় অনেক ছিল। পুরো মাদারীপুরের বিভিন্ন স্থানেই ছাতিম গাছের দেখা পাওয়া যেতো। সারাবছর এই গাছের কথা মনে না থাকলেও শরত এলেই ছাতিম ফুল নিজেই তার সুগন্ধে অস্তিত্ব জানান দেয়। বড় বড় গাছ সাদা ফুলে ঢেকে যায়। তবে আজকাল তেমন একটা দেখা যায় না ছাতিম গাছ। আমাদের এখানে একটা গাছ এখনো আছে। এই এক গাছের ফুলের ঘ্রাণে পুরো গ্রাম ছেয়ে যায়।

হারিয়ে যাচ্ছে ছাতিম গাছমাদারীপুরের তরুণ গল্পকার রিপনচন্দ্র মল্লিক বলেন,‘চলছে দুর্গা পূজা। মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসব। ধূপের গন্ধ। আর সেই সঙ্গে আধো জোৎস্না রাতে মিশে যায় ছাতিম ফুলের মায়াবী সুগন্ধ। এ এক অপূর্ব সমন্বয়! বেশ ভালো লাগে এই সময়টায় ছাতিম ফুলের সুগন্ধ। শহরে দু’একটি গাছ এখনো আছে। তবে হয়তো এক সময় আর খুঁজে পাওয়া যাবে না অপূর্ব সুন্দর ফুলের সুগন্ধের এই গাছটি। ’

মাদারীপুরের কয়েকটি নার্সারির মালিকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান,‘নার্সারিগুলোতে ছাতিম গাছের চারা কম পাওয়া যায়। কেননা এই গাছের চারা তেমন একটা বিক্রি হয় না।

ছাতিম গাছ প্রায় ৪০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। একাধিক শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট গাছটির ছাল অসমতল ও ধূসর। এর পাতার উপরের দিক চকচকে আর তলার দিক ধূসর। ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা পাতা একই মূলাবর্তে ৪ থেকে ৭টি পর্যন্ত থাকে। শাখার শীর্ষে সবুজ মেশানো সাদা রঙের থোকায় থোকায় ক্ষুদ্রাকৃতির ফুল ফোঁটে। ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার লম্বা সরু ফল এক বৃন্তে সাধারণত দু’টো করে ঝুলে থাকে। ছাতিমের বীজ লম্বাটে হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৭২০ ঘণ্টা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।