ঢাকা, বুধবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২২ মে ২০২৪, ১৩ জিলকদ ১৪৪৫

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

চতুরঙ্গা সুদর্শন ‘অংকিত ইসেবল’

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৫১১ ঘণ্টা, আগস্ট ৪, ২০১৭
চতুরঙ্গা সুদর্শন ‘অংকিত ইসেবল’ সৌন্দর্য ছড়িয়ে রয়েছে ‘অংকিত ইসেবল’, ছবি: অমিত কুমার নিয়োগী

মৌলভীবাজার: শরীরজুড়ে তার চারটি রঙের দারুণ সমাহার। পাশ দিয়ে উড়ে গেলে সহজেই দৃষ্টিসীমায় ধরা দেয়। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বনবিথীকায় প্রায়ই তাদের দেখা যায় এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াতে। সবুজ লতাগুল্ম আর কচিকোমল ঘাসের দল বহুকাল ধরেই তার সঙ্গে গড়ে তুলেছে সখ্যতা। পাশ দিয়ে গেলেই তার উপর একবার হলেও বসা চাই!

এর শরীরের চারটি রঙের মধ্যে প্রথমেই ‘হলুদ’ রংটি দারুণভাবে আকর্ষণ করে। ক্রমান্বয়ে কালো, লাল এবং সাদা তার শারীরিক সৌন্দর্য ছড়ায়।



প্রতিটি প্রজাপতির জীবনব্যবস্থা সরাসরি বনের উদ্ভিদের সঙ্গে অতি নিবিড়ভাবে জড়িত। গাছের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ততার ফলেই তারা যুগ যুগ ধরে প্রাকৃতিক সুস্থতার প্রতীক হয়ে টিকে রয়েছে। তবে পরিবেশের যেকোনো প্রতিকূল পরিবর্তনে এরা বিশেষভাবে প্রভাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রজাপতি গবেষক অমিত কুমার নিয়োগী বাংলানিউজকে বলেন, দারুণ সুন্দর এ প্রজাপতির বাংলা নাম ‘অংকিত ইসেবল’। ইংরেজি নাম Painted Jezebel এবং বৈজ্ঞানিক নাম Delias hyparete। নিম্ফালিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এ অপরূপ সুন্দর প্রজাপতিটির পাখার প্রসারতার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০-৯০ মিলিমিটার।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে Delias জেনাসের অন্তর্ভুক্ত আরও ৫টি প্রজাতি নথিভুক্ত রয়েছে। এগুলো হলো Yellow Jezebel (Delias agostina), Red Spot Jezebel (Delias descombesi), Red-breast Jezebel (Delias acalis), Common Jezebel (Delias eucharis) ও Redbase Jezebel (Delias pasithoe)।

রঙের বৈশিষ্ট্য তুলে উল্লেখ করে অমিত বলেন, পুরুষ ও মেয়ে উভয়েরই ডানার রং একই। পশ্চাৎ ডানার উপর প্রান্তীয় অংশ লাল এবং প্রান্তীয় দিকে কালো। সম্মুখ পাখনা সাদাটে হলুদ, যার শিরাগুলো কারো। পশ্চাৎ পাখার চেয়ে সম্মুখ পাখার কালো শিরাগুলো তুলনামূলক মোটা। সম্মুখ ডানার ডিসকাল অংশের দাগগুলো লম্বাটে, যা উপ-প্রান্তীয় পর্যন্ত কিছুটা সুচালো। সম্মুখ পাখার সেল অংশের রং সাদা যার চারিদিকে কালো। মাথা, বক্ষ ও উদরের রং সাদাটে। ‘এন্টেনা’ কালো বর্ণের।

প্রজাপতিটির প্রাপ্তিস্থান প্রসঙ্গে এ গবেষক বলেন, অংকিত ইসেবল আমাদের দেশের সব অঞ্চলে পাওয়া যায়। তবে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে শীতকালে এর আধিক্য দেখা যায়। পত্রঝরা, চিরসবুজ বা মিশ্র চিরসবুজ সব ধরনের বনে এদের দেখা মেলে। ঢাকা শহরেও জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে এদের মাঝে মধ্যে দেখা যায়।

অমিত কুমার নিয়োগী বলেন, এদের নিজেদের মধ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধে লিপ্ত হতে দেখা যায়। সাধারণত উঁচু গাছে বিশ্রাম নেয়। পাথুরে ছড়া বা সাধারণ ছড়ার ভেজা বালু থেকে এদের জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করে। ফুল থেকে মধু খেতে এরা বেশি পছন্দ করে এবং Loranthaceae গোত্রের গাছে ডিম পাড়ে।

আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) এর লাল তালিকায় ২০১৫ সালে এ প্রজাতিটিকে বাংলাদেশে কম ঝুঁকিপূর্ণ (Least Concern) বলে ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান প্রজাপতি গবেষক অমিত কুমার নিয়োগী।

বাংলাদেশ সময়: ১১০৫ ঘণ্টা, আগস্ট ৪, ২০১৭
বিবিবি/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।