ঢাকা, রবিবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২২ মে ২০২২, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

শিক্ষা

২০২১ সালে খুবির যত অর্জন

মাহবুবুর রহমান মুন্না, ব্যুরো এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৩৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩, ২০২২
২০২১ সালে খুবির যত অর্জন

খুলনা: করোনা মহামারিতে স্থবির হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা। তবে মহামারির পর গত পাঁচ মাসে অনেকাংশেই কেটে গেছে সে স্থবিরতা।

করোনার কারণে সৃষ্ট স্থবিরতা কাটিয়ে কর্মব্যস্ত ও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। পুরোদমে চলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। ২০২১ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে অনেক পালক। শিক্ষার্থীরা যেমন সফলতার গল্প রচনা করেছেন তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন শিক্ষকরা। সার্বিক বিচারে যা খুবিকে অনন্য করে তোলে।

শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পর থেকে দেশের এই একটি মাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিকভাবে সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত পরিবেশের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ছাত্র সংঘর্ষ কিংবা ছাত্র-কর্মচারী কিংবা কোন ছাত্রের রক্তে রঞ্জিত হয়নি ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাস। বলা যায় দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যার ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের ঐতিহ্যের ধারা এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণাকর্মে আন্তরিকতা ও নিরন্তর প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা, অনুশীলন-অনুধাবনে অভিনিবেশ সাফল্য অনেক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

খুবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় সকল শাখায় সফলতার সাথে এগিয়ে চলছে খুবি। অভূতপূর্ব অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে এ ক্যাম্পাসে।

খুবি পেয়েছে নতুন ভিসি
বিদায়ী ২০২১ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে নতুন ভাইস-চ্যান্সেলর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলোজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন ২৫ মে ভিসি হিসেবে যোগদান করেন। ভিসি হিসেবে তার নিয়োগের মেয়াদ চার বছর। প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ভাইস-চ্যান্সেলর এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিযুক্ত দ্বিতীয় ভাইস-চ্যান্সেলর।

বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় খুবির ভিসি
২০২১ সালে বিশ্ব বিজ্ঞানীদের তালিকায় মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান লাভ করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক, গবেষক, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন।

১০ অক্টোবর এডি সাইন্টিফিক ইনডেক্স নামের আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা সংস্থা বিশ্বের ২০৬ দেশের ১৩ হাজার ৫৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত লক্ষাধিক বিজ্ঞানীর সাইটেশান এবং অন্যান্য ইনডেক্সের ভিত্তিতে এই র‌্যাংকিং তালিকা প্রকাশ করে।

এই র‌্যাংকিং করার ক্ষেত্রে বিশ্বের ৭ লাখ ৮ হাজার ৪৮০ জন, এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৬২ জন, বাংলাদেশের ১৭৯১ জন এবং খুবির ২৯ জন বিজ্ঞানীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চলতি বছরসহ গত ৫ বছরের সাইটেশন আমলে নেওয়া হয়। এর মধ্যে গবেষক প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও ফরেস্ট্রিতে এবং পৃথকভাবে ফরেস্ট্রি উভয় ক্যাটাগরিতে ১ম, দেশে ফরেস্ট্রি বিজ্ঞানীদের মধ্যে ৪র্থ, এশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে ১৫১তম এবং সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের মধ্যে ৮২৫তম স্থান লাভ করেন।

এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ২৮ জন শিক্ষক-গবেষক এই র‌্যাংকিং তালিকায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্থান লাভ করেন।

নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের ৭ মাস
নতুন উপাচার্য হিসেবে প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন গত ২৫ মে যোগদানের পর ইতোমধ্যে সবক্ষেত্রে গতি ফিরেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির কারণে অবকাঠামো নির্মাণকাজ মুখ থুবড়ে পড়ে। দেখা দেয় নানা জটিলতা। একাডেমিক কার্যক্রমেও দেখা দেয় অনেকটা অনিশ্চয়তা। টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। গত ৭ মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় নতুন উপাচার্য উদ্ভুত এসব জটিলতা নিরসনে সক্ষম হয়েছেন। ফলে ক্যাম্পাসে এখন চলছে নির্মাণ কার্যক্রমের সরব যজ্ঞ। অনলাইনে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পুরোদমে সশরীরে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় এখন মুখরিত ক্যাম্পাস। এছাড়া ডিসেম্বর মাসে আরও একটি টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে একাডেমিক জটও অনেকটা কমছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শতাধিক কোটি টাকা ব্যয়ে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করোনার প্রাক্কালে শুরু হয়। কিন্তু গত দেড় বছরে তা ঝুলে পড়ে। তাছাড়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিও দেখা যায়। উদ্ভূত হয় জটিল সমস্যা। তবে সব জটিলতা কাটিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে উপাচার্যের নেতৃত্বে সম্মুখযাত্রায় এগিয়ে চলেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। এসব প্রকল্পের কাজ এখন শুরু করা হয়েছে পুরোদমে। প্রকল্পগুলো হলো দশতলা জয়বাংলা একাডেমিক ভবন, ৫ তলা আইইআর ভবন, চারতলা মেডিকেল সেন্টার, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার নির্মাণ, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের পার্শ্ব ও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, ১১ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ। প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত টিএসসি ভবনের নির্মাণকাজের চুক্তি শেষে এ কাজ শুরু হয়েছে। ২৪ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ জিমনেশিয়ামের চুক্তি সম্প্রতি সম্পাদন হয়েছে। ফলে ৩৩৫ কোটি টাকার সংশোধিত প্রকল্পের অবশিষ্ট প্রায় ২২৩ কোটি টাকার সব কম্পোনেন্টের কাজ চালু হয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণাধীন এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সুবিধা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি আবাসিক হল এবং একাডেমিক তিনটি ভবনের ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

খুবির আর-টি পিসিআর ল্যাবে করোনার নমুনা চালু
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোমিক্স ল্যাবে স্থাপিত আর-টি পিসিআর মেশিনে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়।

গবেষণায় আগ্রহী করতে অনুদান দেবে খুবি
খুবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করতে অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ২১৪তম সভায় এ সংক্রান্ত সংশোধিত নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে এ প্রস্তাব বোর্ড অব অ্যাডভান্স স্টাডিজের সভায় উপস্থাপিত হয়, যা একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সিন্ডিকেটে সুপারিশ করা হয়।

করোনাকালীন পরিবহন ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ
করোনা সংক্রমণের ফলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা সময় শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় টার্মের পরিবহন ভাড়া মওকুফ করা হয়। অর্থ কমিটির ৭৬তম সভার এ সংক্রান্ত সুপারিশ অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ২১৪তম সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পেল খুবির দুই শিক্ষার্থীর সংগঠন
জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২১ পেয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই শিক্ষার্থীর সংগঠন। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য ‘মনের স্কুল’-এর প্রতিষ্ঠাতা ফাইরুজ ফাইজা বিথার এবং সংস্কৃতি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘রিফ্লেকটিভ টিনস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব পেয়েছেন এই অ্যাওয়ার্ড।

খুবির শিক্ষার্থী পেলেন চেঞ্জমেকার পুরস্কার
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করায় প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে ‘গোলকিপার্স গ্লোবাল চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ‘মনের স্কুল’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাইরুজ ফাইজা বিথার। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ‘চেঞ্জ মেকার’ হিসাবে তাকে এ সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার পাওয়ার পর আজ ‘মনের স্কুল’র ফেসবুক পেজে বিষয়টি জানানো হয়। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে এমন ব্যক্তিদের তিনটি বিভাগে পুরস্কার দেয় বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৩, ২০২২
এমআরএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa