ঢাকা, সোমবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ১৭ মে ২০২১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪২

শিক্ষা

অনলাইন স্কুল চলাকালীন হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষা

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৩২ ঘণ্টা, এপ্রিল ১০, ২০২১
অনলাইন স্কুল চলাকালীন হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষা

ঢাকা: ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের অনলাইন পাঠদানের আট মাসে প্রবেশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি)। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীরা নতুন পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শেখার মাধ্যমে তারা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা এখন তাদের কাজে প্রতিফলিত হচ্ছে।

 

স্কুল কমিউনিটির বাইরের মানুষেরা এখনও প্রায়শই জিজ্ঞাসা করে থাকেন যে, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে হাতে-কলমে যে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেন, অনলাইনে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা এখন তা কিভাবে করছেন?  
বিজ্ঞান শিক্ষকরা উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে এই বাধা অতিক্রম করেছেন।  

এমওয়াইপি বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞান শিক্ষক জেসন লামজা প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষাদান শুরু করেছেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা রুটির ওপর ছত্রাক জন্মানো থেকে শুরু করে টাইমলাইন তৈরি পর্যন্ত নানাবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা যাতে মুখস্থ না করে বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলো সত্যিকার অর্থে শিখতে পারে তা নিশ্চিত করা। অনলাইন ক্লাসের জন্য শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট সময় স্ক্রিনের সামনে কাটাতে হয়। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার জন্য কম্পিউটার স্ক্রিনের বাইরে যতটা সম্ভব তারা যাতে শিখতে পারেন তিনি সে চেষ্টাই করে যাচ্ছেন।  

পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষক চার্লস তার সৃজনশীলতার সাক্ষ্য রেখে একটি বাড়িভিত্তিক পরীক্ষামূলক (হোম বেইজড এক্সপেরিমেন্ট) ডিজাইন ব্যবহার করছেন।  

তিনি শিক্ষার্থীদের তাদের নিজস্ব পরীক্ষার মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞানের বিষয়াবলি প্রদর্শন করতে বাড়ির জায়গা, ছাদ এবং জিমকে পরীক্ষাগার হিসেবে এবং তাদের গৃহস্থালি ও খেলাধুলার জিনিসপত্রকে ল্যাব সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করতে সাহায্য করছেন। চার্লসের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের আশপাশের জিনিসপত্র যেমন, তাদের খেলার বাস্কেটবল, টেনিস বলের মতো সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যে গবেষণা চালাতে পারে তা নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীদের ডিজাইন করা ল্যাব এক্সপেরিমেন্টে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রায়ই তাদের ভাই-বোন এবং পরিবারের সদস্যদের সাহায্যের প্রয়োজন হয়, যা পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার নতুন সুযোগ তৈরি করে।

অভিজ্ঞ রসায়ন শিক্ষক ড. রাঠোড় তার শিক্ষার্থীদের দেশীয় এবং বৈশ্বিক সংযোগ রয়েছে এমন ব্যবহারিক ল্যাবের কাজ দিয়ে থাকেন। ঘরে বসে করা ল্যাব পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের দেখিয়েছেন যে, সাধারণ রান্নাঘরের উপাদানও ল্যাব রাসায়নিক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ফার্মাসিতে উপলব্ধি সেরা ব্র্যান্ডের অ্যান্টাসিড নির্ধারণের জন্য তার ছাত্ররা পিএইচ সূচক হিসেবে লাল বাঁধাকপির রস ব্যবহার করেছিল। তার লক্ষ্য দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান এবং স্টোরের মধ্যে বিজ্ঞানকে খুঁজে নিতে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা। তিনি তার পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এসিড রিফ্লাক্সের (বুক জ্বালাপোড়া) মতো বাংলাদেশের সাধারণ একটি অসুখের সমাধান পেতে সাহায্য করেন।  

আইবি যদিও আসন্ন আইবি পরীক্ষায় গ্রুপ ৪ সাবজেক্টের ল্যাব পেপার ডিপি পেপার ৩ সরিয়ে নিয়েছে, আমি নিজে বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে ল্যাব কিভাবে পরিচালনা করতে পারে সে উপায়গুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। যদিও আইবিতে শিক্ষার্থীদের এই ল্যাব দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন পড়ে না, আমরা মনে করি শিক্ষার্থীদের এই অভিজ্ঞতা অর্জন প্রয়োজন; কারণ এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই কেবল গুরুত্বপূর্ণ নয়, বিজ্ঞানমনস্ক ভাবনা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি দক্ষতাও বটে। শিক্ষার্থীরা যাতে ঘরে বসে ল্যাব পরিচালনা করতে পারে সেজন্য আইবি প্রেসক্রাইবড সাইন্স ল্যাবকে আমরা আবার নতুন করে সাজিয়েছি। এর একটি উদাহরণ হচ্ছে, ল্যাব এনজাইমগুলোকে রান্নাঘরে পাওয়া যায় এমন এনজাইম দ্বারা প্রতিস্থাপিত করেছি যেমন, অ্যামাইলেজের জায়গায় ইস্ট, এবং ব্রোমেলাইনের জায়গায় ব্রোমেলাইন সরবরাহকারী আনারস।  

ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখতে উৎসাহিত এবং সাহায্য করতে ল্যাব টেকনিশিয়ান আমীন এবং আফরিনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, সেজন্য তারা সাইন-আউট প্রক্রিয়া তৈরি করেছেন। শিক্ষার্থীরা যেসব ল্যাব সরঞ্জাম এবং উপকরণ নিজেরা জোগাড় করতে পারেন না, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা এসব স্কুল থেকে নিতে পারেন। শিক্ষার্থীরা নিজেরা যাতে ল্যাব পরিচালনা করতে পারেন, সেজন্য তারা সময় বের করে তাদের জন্য দিক-নির্দেশনামূলক ল্যাব ভিডিও তৈরি করেছেন। এ ধরনের শিক্ষামূলক ল্যাব ভিডিও তৈরির ফলে শিক্ষার্থীরা যখন ল্যাবে নতুন কিছু করে তখন তাদের দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় না এবং শিক্ষার্থীরা যাতে নিজস্ব গতিতে শিখতে পারে সেজন্য তারা ভিডিওগুলো বার বার এবং থামিয়ে থামিয়ে দেখার সুযোগ পায়।  

হাতে-কলমে শেখার বিভিন্ন সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে বিজ্ঞান বিভাগের প্রচেষ্টা এবং সমর্থন দেখে শিক্ষার্থীরা শেখার ক্ষেত্রে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হচ্ছে ।

লেখক: সায়মা সৈয়দা, বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও জীববিজ্ঞান শিক্ষক, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি)।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩০ ঘণ্টা, এপ্রিল ১০, ২০২১
এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa