ঢাকা, সোমবার, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮, ০২ আগস্ট ২০২১, ২২ জিলহজ ১৪৪২

অর্থনীতি-ব্যবসা

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এক বছরের জন্য মিয়ানমারের ভিসা পাবেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১১৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১০
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এক বছরের জন্য মিয়ানমারের ভিসা পাবেন

ঢাকা: বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এখন থেকে এক বছরের জন্য মিয়ানমারের মাল্টিপল ভিসা পাবেন। এছাড়া আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সরাসরি লেনদেনের পরিবর্তে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যৌথ-বাণিজ্য কমিশনের দুইদিনব্যাপী চতুর্থ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকের আলোচ্যসূচির ওপর ভিত্তি করে ‘সম্মত কার্যবিবরণী’তে স্বাক্ষর করে উভয়পক্ষ।

তবে বহুল আলোচিত মিয়ানমারের জমি ইজারা নিয়ে বাংলাদেশের চাষাবাদ এবং সেদেশে বাংলাদেশের গ্যাস দিয়ে সার কারখানা স্থাপনের কোনও সুযোগ নেই বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন।  

ব্যবসায়ীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো প্রসঙ্গে বাণিজ্যসচিব জানান, ব্যবসায়ীরা এতোদিন সর্বোচ্চ ৩ মাসের বর্ডার পাস নিয়ে মংদু যেতেন। সেখানে তিন দিন থাকার পর সিতুওয়ে শহরে যাওয়ার অনুমোদন মিলতো।

বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, ব্যবসায়ীরা এখন থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য মিয়ানমারের ভিসা (বর্ডার পাস) পাবেন। তবে এক্ষেত্রে আগে ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বিশেষ অনুমোদন নিতে হবে। ’

মংদু শহরে যাওয়ার পর এ অনুমোদন নিতে হবে বলে তিনি জানান।

দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির টাকার অংকের সর্বোচ্চ সীমাও বাড়ানো হয়েছে।

গোলাম হোসেন বলেন, ‘এতোদিন সাধারণ পণ্যের জন্য সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১০ হাজার ডলার এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের জন্য ২০ হাজার ডলার। এ সীমা যথাক্রমে ৩০ হাজার ডলার এবং ৫০ হাজার ডলার করা হয়েছে। ’

এর ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন বলে মনে করেন বাণিজ্যসচিব।

দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মুদ্রা বিনিময়ে প্রথাগত ব্যাংকিং চ্যানেল ছিল না। ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে বিশেষভাবে তা চলতো। বৈঠকে দু’দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে এ ধরনের লেনদেন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের মাধ্যমে এখন থেকে এলসি’র অর্থ পরিশোধ করা যাবে। ’

তিনি জানান, সীমান্তে উভয় দেশ পাইকারি হাট বসাবে।

এছাড়া, সীমান্ত-বাণিজ্য বাড়াতে উভয় দেশ ৮ সদস্য করে একটি ‘সীমান্ত সমন্বয় কমিটি’ গঠন করবে। তারা প্রতিমাসে টেকনাফ ও মংদু শহরে বৈঠক করবে বলেও জানান গোলাম হোসেন।

তিনি আরও জানান, এর বাইরে এফবিসিসিআইয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আগামী বছরের শুরুতেই ইয়াঙ্গুন সফর করবে।

মিয়ানমারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রচলন ও বাজার বাড়াতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মাধ্যমে আগামী বছর ইয়াঙ্গুনে ‘একক বাণিজ্য মেলা’র আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সর্বোতভাবে সহায়তা করতে রাজি হয়েছে। ’

দু’দেশের মধ্যে বেসরকারি পর্যায়ে বিমান চলাচলে কোনো বাধা নেই। বেসরকারি উদ্যোক্তারা চাইলে এক্ষেত্রে দু’দেশের সরকার সহায়তা করবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

মিয়ানমার থেকে সার ও বিদ্যুৎ আমদানির প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের গ্যাসে মিয়ানমারে সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে সেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আমদানির প্রস্তাবের কথাও শোনা গেছে।  

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘এ বিষয়গুলো পুরনো। এখন সর্বশেষ অবস্থা হলো, সেখানে বাংলাদেশের সার ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। ’

‘তবে সেখান থেকে ভবিষ্যতে সার আমদানি করা যায় কী-না সে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রাজিও হয়েছে’, তিনি বলেন।

বিদ্যুৎ আমদানি প্রসঙ্গে গোলাম হোসেন বলেন, ‘৪০০ থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ’

তিনি জানান, গত আগস্টে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল মিয়ানমার সফর করে। তারা (বিদ্যুৎ বিভাগ) এ ব্যাপারে কাজ করছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস আপাতত না পাওয়া গেলেও এবারের বৈঠককে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ হিসেবেই অভিহিত করলেন বাণিজ্য সচিব।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কূটনীতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থান করছে। ’

এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মিয়ানমারের উপ-বাণিজ্যমন্ত্রী অং টুন বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার দু’দেশের মধ্যে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চায়। ’  

বাংলাদেশ সময়: ২০২৫ ঘণ্টা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa