ঢাকা, বুধবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৪ জিলহজ ১৪৪১

অর্থনীতি-ব্যবসা

মিশ্র সবজি চাষে লাভবান সাটুরিয়ার কৃষকরা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-১২-০৮ ০১:০৩:৪২ পিএম
মিশ্র সবজি চাষে লাভবান সাটুরিয়ার কৃষকরা বাঁধাকপির ক্ষেত পরিচর্যা করছেন কৃষক, ছবি: বাংলানিউজ

মানিকগঞ্জ: সবজি চাষে খ্যাত মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা। অল্প সময়ে অন্যান্য ফসলের তুলনায় অধিক মুনাফা পাওয়ায় সবজি চাষে ঝুঁকছেন এ উপজেলার কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

একই জমিতে অন্যান্য ফসলের সঙ্গে মিশ্র সবজি চাষে বেশ লাভবান সাটুরিয়া উপজেলার অনেক কৃষক। এতে করে অল্প সময় ও পুঁজিতে অধিক মুনাফা পাচ্ছে কৃষকরা।

একদিকে সবজির বাম্পার ফলন, অপরদিকে বাজারদর ভালো থাকায় এবার বেশ লাভবান হয়েছেন চাষিরা।

সাটুরিয়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই কম বেশি সবজির আবাদ হয়। তবে সবচেয়ে বেশি সবজির আবাদ হয় উপজেলার ধানকোড়া, তিল্লী, হরগজ, ফুকুরহাটি ও বরাইদ এলাকায়। স্থানীয় চাহিদার তুলনায় অধিক সবজির আবাদ ভালো হওয়ায় জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব সবজি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে।

সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, লাউ, করলা, ঢেঁড়স, মুলা, লালশাক, পালং শাক, শিম ও ধনে পাতার চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। চলতি মৌসুমে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো এক হাজার ৩৮২ হেক্টর জমিতে। কিন্তু সবজি চাষে বেশি মুনাফা হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে চাষাবাদ হয়েছে সবজির। চলতি মৌসুমে উপজেলায় এক হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদা হয়েছে বলেও জানায় উপজেলা কৃষি অফিস।

উপজেলার কামতা এলাকার কৃষক আব্দুল মান্নান মোল্লা বাংলানিউজকে জানান, ৮৫ ডিসেমল জমিতে কলা ও বাঁধাকপির মিশ্র চাষ করেছেন তিনি। জমি তৈরি, সার, কীটনাশক ও কলা গাছের চারা সংগ্রহ ও বপন করতে তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। একই জমিতে তিনি বাঁধাকপিও চাষ করেছেন। ওই জমিতে নয় হাজার কপির চারা সংগ্রহ ও বপনে খরচ হয়েছে আরও প্রায় ২৫ হাজার টাকা।

চলতি সপ্তাহেই বাঁধাকপি বিক্রির উপযুক্ত হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই জমি থেকে পাইকারি ক্রেতারা বাঁধাকপি ক্রয় করার লক্ষ্যে ৮০ হাজার টাকা দাম হাঁকছেন। তবে লাখ খানেক বা তার কিছু কম হলেও পাইকারি বিক্রি করবেন। কপি বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে ওই একই জমিতে মিষ্টি লাউয়ের চারা বপন করবেন।

একই জমিতে এক হাজার দুইশো কলা গাছের চারা রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া আর ভালো বাজারদর থাকলে প্রতিটি গাছের কলার কাইন দুইশো টাকা মূল্যে পাইকারি বিক্রি করতে পারবেন বলেও জানান তিনি। এভাবে প্রায় অর্ধযুগ ধরে সবজির মিশ্র চাষ করে বেশ লাভবান রয়েছেন তিনি।

আবুল হোসেন নামে অরেক কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে ৪৫ শতাংশ জমিতে ভূট্টার আবাদ করেছেন তিনি। ভূট্টা ফলনে কিছুটা বেশি সময় লাগে তাই একই জমিতে তিনি লাল শাক চাষ করেছিলেন। এতে তার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে মাত্র ছয়’শ টাকা। ইতোমধ্যেই ওই জমি থেকে তিনি ৮ হাজার টাকার লাল শাক বিক্রি করেছেন। আর ভূট্টা চাষে সবমিলিয়ে তার ১২ হাজার টাকার মতো খরচ হলেও তিনি ৩৫ থেকে ৪০ মণ ভূট্টার ফলন আশা করছেন। ভূট্টার সঙ্গে লাল শাকের মুনাফা বোনাস বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বাংলানিউজকে জানান, ভূট্টার সঙ্গে মুলা, ধনে পাতা, লাল শাক এবং কলা গাছের সঙ্গে মিষ্টি লাউ, ফুল কপি, বাঁধাকপি চাষাবাদ করে বেশ লাভবান সাটুরিয়া উপজেলার কৃষকেরা। রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো। যে কারণে এখানকার সবজির চাহিদাও বেশি। অল্প সময়ে অধিক মুনাফা পাওয়ায় কৃষকের মধ্যে সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। একদিকে সবজির বাম্পার ফলন, অপরদিকে ভালো বাজারদর থাকায় চলতি মৌসুমে বেশ লাভবান সাটুরিয়া উপজেলার কৃষকরা।

বাংলাদেশ সময়: ০৭৪৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৮
কেএসএইচ/ওএইচ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa