ঢাকা, বুধবার, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

অর্থনীতি-ব্যবসা

তিন মাস পর পুঁজিবাজারে হাজার কোটি টাকার লেনদেন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩৬ ঘণ্টা, জুলাই ৩, ২০১১
তিন মাস পর পুঁজিবাজারে হাজার কোটি টাকার লেনদেন

ঢাকা: পুঁজিবাজার আবার চাঙ্গা হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন বাড়ছে।

প্রায় তিন মাস পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার পর রোববার থেকে তা কার্যকর হয়। ফলে প্রথম দিনেই সূচক বেড়েছে ৪০ পয়েন্ট ও লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজার গত জানুয়ারি থেকেই তারল্য সংকটে ভুগছে। ২০১০ সালে যেখানে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন ছিল ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। সেখানে চলতি বছরের শুরু থেকে তা হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে আসে। সরকারি বিভিন্ন ইস্যু, স্টক এক্সচেঞ্জ ও সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ (এসইসি) সংশ্লিষ্ট মহলগুলোর তৎপরতায় লেনদেন কিছুটা বাড়লেও তা স্থায়ী হয়নি।

ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোরতা, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িতদের নাম প্রকাশে বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় পুঁজির বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ না করে নিষ্ক্রিয় থাকে। এতে গত তিনমাসে লেনদেন নেমে আসে ৪০০ কোটি টাকার কোঠায়।

বাজারে এ মন্দার প্রধান কারণ ছিল তারল্য সরবরাহ কমে যাওয়া। ফলে ২০১০-১১ বাজেটে ডিএসই, সিএসই ও এসইসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করে। শেষ পর্যন্ত ৯ জুন প্রস্তাবিত বাজেটে এ সুপারিশের প্রতিফলন না থাকায় বাজারে লেনদেনে আরও অবনতি ঘটে।

অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে চূড়ান্ত বাজেটে তারল্য সংকট কাটাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয় যা গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে প্রথম দিনেই বাজার ব্যাপক চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী বলেছেন, কালো বিনিয়োগের সুযোগ রাখায় বাজারে তারল্য সংকট ও মন্দা কেটে যাওয়ার আভাস দেখা যাচ্ছে। এখন আইপিও মার্কেট শক্তিশালী করা হলে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

পিএফআই সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফরিদউদ্দীন আহমেদ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাজারে তারল্য সংকট কাটাতে ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার প্রয়োজন ছিল। বাজেটে এ সুযোগ রাখায় বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এখন পর্যাপ্ত শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো হলে স্থিতিশীলতা ফিরবে।  
 বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১১ এপ্রিল বাজারে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২২৪   কোটি ১৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এরপর প্রায় তিন মাস ধরে ধারাবাহিক মন্দার কবলে পড়ে শেয়ারবাজার। অবশেষে গতকাল কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখায় আর্থিক লেনদেন হয় ১ হাজার ১৩৯ কোটি ৪৫ লাখ ২ হাজার টাকা।  

এদিন মোট ২৫৬টি কো¤পানির ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৭৯ হাজার ৭৪৮ টি  শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪০ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ১৫৭ দশমিক ৫২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে ডিএসই’র- ২০ মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ২২ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯১ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনকৃত ২৫৬টি কো¤পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২০৪ টির কমেছে ৪৯টি কো¤পানির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩ টি কো¤পানির শেয়ারের।

আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো - আফতাব অটোমোবাইলস, বেক্সিমকো লিঃ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ, ইউসিবিএল, এমআই সিমেন্ট, ন্যাশনাল ব্যাংক, পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স এন্ড সার্ভিসেস, মালেক স্পিনিং, ওয়ান ব্যাংক ও লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স।

দর বৃদ্ধিতে ১০টি কো¤পানি হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ, এসিআই ফর্মুলেশন, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, গ্রামীন স্কিম-১, মেট্রো স্পিনিং, ১ম প্রাইম ফাইন্যান্স মিউঃ ফান্ড, ওরিয়ন ইনফিউশন, রংপুর ফাউন্ড্রি ও মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টস বাংলাদেশ।

অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো- ইস্টার্ণ ব্যাংক, এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড, মুন্নু স্টাফলার, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, স্ট্যার্ন্ডার্ড ব্যাংক, চিটাগাং ভেজিটেবল, ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ অক্সিজেন কোং, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স।

 বাংলাদেশ সময়: ১৮২৩ ঘন্টা, জুলাই ০৩, ২০১১

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa