ঢাকা, শুক্রবার, ২২ আশ্বিন ১৪২৯, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

কিছু ভুঁইফোড় সংগঠন ডালপালা মেলেছে: আ জ ম নাছির 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৩১ ঘণ্টা, আগস্ট ১৫, ২০২২
কিছু ভুঁইফোড় সংগঠন ডালপালা মেলেছে: আ জ ম নাছির  ...

চট্টগ্রাম: মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, রাজনীতিতে আমাদের সবাইকে পরিশুদ্ধ হতে হবে। যারা একদিন ইতিহাসের চাকাকে উল্টো পথে পরিচালনা করেছে ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচার করেছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে যারা ভূলুন্ঠিত করে পাকিস্তানি ভাবধারায় এদেশকে পরিচালনা করেছিল তারা আজও ঘাপটি মেরে আছে।

তাদের মুখোশ উন্মোচিত করতে হবে।

ইতিহাস বিকৃতিকারীদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সফলতা যেন কোনো অবস্থায় ব্যর্থ না হয় সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সংগঠনের চেইন অব কমান্ড আমাদের সবাইকে মেনে চলতে হবে। কিছু ভুঁইফোড় সংগঠন আজকে ডালপালা মেলেছে। এদের কাছ থেকে সতর্ক থাকতে হবে। দলের আদর্শিক ত্যাগী নেতাকর্মীদের দলের নেতৃত্বে আনতে হবে। তাহলেই দল আরো শক্তিশালী হবে।  

রোববার (১৫ আগস্ট) সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন তা শোষিত মানুষের বাসযোগ্য ভূমির জন্য। শুধু ভৌগোলিক স্বাধীনতা জাতির জন্য যথেষ্ট পরিচয় নয়, মূল লক্ষ্য সাম্য-মৈত্রী-শান্তি ও প্রগতির জয়যাত্রা রচনা করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সে আরাধ্য জয়যাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।  

সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসের বর্বরতম ও নৃশংস কালো অধ্যায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্তরা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম খলনায়ক। বঙ্গবন্ধুর হত্যার মাস্টারমাইন্ড ও প্রধান সুবিধাভোগী জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার ও শাস্তি বিধান নিশ্চিত করে ইতিহাসের দায়মুক্তি ঘটানো সময়ের দাবি। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে শারীরিকভাবে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শ ও স্বপ্নের মৃত্যু হয়নি। পৃথিবীতে যতদিন আকাশ-বাতাস এবং চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু অম্লান, অমলিন ও চিরঞ্জীব হয়ে রইবেন। এই সত্যকে যারা অস্বীকার করে তাদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যার ইন্ধনদাতা ও বেনিফিসিয়ার তাদের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করতে হবে।

তিনি প্রশ্ন করেন, একজন মানুষের ৬টি জন্মদিন হয় কীভাবে? আমরা তার জন্মনিবন্ধন সনদ জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। ১৫ আগস্ট শোক দিবসকে কালিমালিপ্ত করে যারা ভুয়া জন্মদিন করে তাদের জীবন্ত কবর দিতে হবে।

তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তি বড় নয়, দল ও দেশ বড়।  দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ছন্নছাড়ার মতো সস্তা জনপ্রিয়তার মোহে এমন কিছু করা যাবে না, যাতে সরকার, দল ও নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এর আগে সকালে দলীয় ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, খতমে কোরআন, দোয়া, মিলাদ মাহফিল, শেষে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন এতিমখানা, মসজিদ, মাদ্রাসা, উপাসনালয়, অনাথ-দুস্থদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, উপদেষ্টা সফর আলী, কোষাধ্যক্ষ আব্দুচ ছালাম ও সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৯২৪ ঘণ্টা, আগস্ট ১৫, ২০২২
এমআই/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa