ঢাকা, রবিবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২২ মে ২০২২, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

তিন ইউনিয়নে ৪০টি করাতকল

সৈয়দ বাইজিদ ইমন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২২৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৪, ২০২২
তিন ইউনিয়নে ৪০টি করাতকল ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: হাটহাজারী উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় ৪০টি করাতকল গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে গত ছয় মাসে ১০টি করাতকল স্থাপন করা হয়েছে।

এসব করাতকলে ধ্বংস করা হচ্ছে সরকারি ও সংরক্ষিত বনজ সম্পদ।

প্রতিদিন গভীর রাতে চাঁদের গাড়ি করে আসে সরকারি বনের কাঠ। রাতে চিরাই করে ভোরে চলে যায় কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছে। এসব করাত কল বন্ধে নেই কোনও উদ্যোগ বন বিভাগের।

বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হলেও টাকার বিনিময়ে আবারও চালু হয় অবৈধ করাতকলগুলো। যার কারণে জীববৈচিত্র ও বনজ সম্পদ ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, এভাবে করাত কল বৃদ্ধি পেলে জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। বন্য প্রাণিরা লোকালয়ে নেমে আসবে। ফসলের ক্ষতিসাধন করবে৷ দেশের সম্পদ নষ্ট হবে। এখনই সময় অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ করাত কল উচ্ছেদ করা।

হাটহাজারী উপজেলার সাবেক ইউএনও রুহুল আমিন সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ করাতকল বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি বদলি হওয়ার পর আবারও গড়ে উঠেছে সেই অবৈধ করাতকলগুলো।  

সরেজমিন দেখা যায়, হাটহাজারী পৌর সদরের রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দুইটি, করিয়ার দিঘীর পাড় এলাকায় একটি, চারিয়া বাজারের পূর্বে ঈদগাহের সামনে একটি (মালিক বাবুল মেম্বার), চারিয়া বাজারের দক্ষিণ পাশে শাহজাহান কোম্পানির একটি, চারিয়া মুছার দোকানের পাশে সেলিম কোম্পানির একটি, মগ্গেরহাট বাজারের পশ্চিম পাশে কামাল কোম্পানির একটি, পূর্ব পাশে সালাম কোম্পানির একটি, কালী বাড়ির উত্তর পাশে বালুরটাল ওয়াহিদ কোম্পানির একটি, এনায়েতপুর বাজারের উত্তর পশ্চিম পাশে এরবান কোম্পানির একটি, পূর্ব পাশে রমজান মেম্বারের একটি, এনায়েতপুর কণ্ডলীয়ারঘাটায় আনোয়ার কোম্পানির একটি, ব্রিকফিল্ড রাস্তার মাথায় জহুর কোম্পানির একটি, পাশাপাশি মোহাম্মদ আলী কোম্পানির একটি, সোনাইকুল মহিউদ্দিন কোম্পানির একটি, কাজির হাট বাজারের আগে মাহবুব কোম্পানির একটি এবং বাজারের পূর্ব পাশে শাহজাহান কোম্পানির একটি, মুহুরী ঘাটা মঞ্জু মেম্বারের একটি, নোয়াহাট বাজার রাস্তার পূর্ব পাশে এহসান কোম্পানির একটি, পাশাপাশি মনা সওদাগরের একটি, নাজিরহাট নতুন রাস্তার মাথায় আমু কোম্পানির একটি, পাশাপাশি রনি কোম্পানির একটি, নাজিরহাট ব্রিজের দক্ষিণ পাশে হালদার পাড় ইউসুফ চৌধুরী বাড়ি সড়কে মানিক কোম্পানির একটি, নাজিরহাট পুরাতন বাজার শামীম কোম্পানির দুইটিসহ আরও অনেকগুলো করাত কল স্থাপন করা হয়েছে।  

হাটহাজারী রেঞ্জের বন কর্মকর্তা ফজলুল কাদের চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, অবৈধ করাতগুলোর তালিকা আমরা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে নির্দেশনা এলেই বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আগামি মাসে অভিযান পরিচালনা করা হবে।  

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিদুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, ইতিমধ্যে বনবিভাগের সঙ্গে আমাদের সভা হয়েছে। হাটহাজারীতে অবৈধ কোনও স্থাপনা থাকবে না। করাত কল উচ্ছেদে খুব শিগগির অভিযান পরিচালনা করা হবে।  

বাংলাদেশ সময়: ১২২১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৪, ২০২২ 
বিই/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa