ঢাকা, বুধবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ মে ২০২২, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চবি অর্থনীতি: সহপাঠীরা অসুস্থ হওয়ায় বাকিরাও দেননি পরীক্ষা

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৩২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৩, ২০২২
চবি অর্থনীতি: সহপাঠীরা অসুস্থ হওয়ায় বাকিরাও দেননি পরীক্ষা ...

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: জ্বর, সর্দি, কাশির মতো করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী। সহপাঠীদের এমন পরিস্থিতিতে বাকিরাও পরীক্ষা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কর্তৃপক্ষের কাছে পরীক্ষাটি স্থগিত করার আবেদন জানান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এতেও কাজ হয়নি। ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতিতে মাত্র ১৬ জন শিক্ষার্থীকে নিয়েই পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে অর্থনীতি বিভাগ।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় শুরু হয় পরিবেশ অর্থনীতি-৪০৫ নম্বর কোর্সের এ পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের কাছে এ পরীক্ষাটি মৌখিক পরীক্ষার আগে বা পরে যেকোনো দিন নেওয়ার অনুরোধ জানান।  

বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, এটা আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা। সহপাঠীদের এমন অসুস্থ অবস্থায় আমরা তাদের কথা চিন্তা করে স্যারদের কাছে বারবার অনুরোধ করেছি পরীক্ষাটি পেছানোর জন্য। বাকি পরীক্ষাগুলো আমরা পেছাতে বলিনি। বিভাগ থেকে বলা হয়েছিলো, যারা অসুস্থ আছে তারা যেন সবাই ভিন্ন ভিন্ন আবেদন স্যারের কাছে মেইল করেন। সেখানে অন্তত ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। অথচ এরপরও কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি নিয়েছে।  

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের ১৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বাকিরা পরীক্ষা বর্জন করেছেন। আমরা প্রক্টর স্যারের কাছেও বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনিও বললেন, এটা বিভাগের বিষয়।  

অর্থনীতি বিভাগের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হোসাইন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের ১৫০ এর উপরে পরীক্ষার্থী আছে। সেখানে ৪০ জনের মতো আবেদন করলেও বাকিদের বিষয়ে চিন্তা করে আমরা পরীক্ষাটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে অনেকেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। আগামীকাল বিভাগের একটি সভা রয়েছে। সেখানেই পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। বাকিদের পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া যায় সেটাও আলোচনা হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. শহীদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, যদিও বিষয়টা নির্দিষ্ট বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। এরপরও বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে এসে বিষয়টা জানালে আমরা বিভাগে যোগাযোগ করেছি। বিভাগ থেকে বলেছে, কারও যদি আসতে দেরিও হয়, তাকে সে সময় থেকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেবেন তারা। কিন্তু পরীক্ষা পেছানো হবে না।  

প্রক্টর বলেন, আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর কমিটির একটি সভা ছিল। যদিও বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক, তবুও আমি এ বিষয়ে জানিয়েছি। তখন অনুষদের ডিনদের মাধ্যমে বিভাগগুলো জানাতে বলা হয়েছে, কোনো বিভাগে যদি অসুস্থতার কারণে স্টাফ বা শিক্ষক সংকট থাকে। তবে তারা চাইলে পরীক্ষা পেছাতে পারবে। এ বিষয়টা সম্পূর্ণ বিভাগের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পরীক্ষা চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো বিভাগের শিক্ষকরাই দেখবেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১১৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৩, ২০২২
এমএ/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa