ঢাকা, শনিবার, ১ কার্তিক ১৪২৮, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

নেতাদের পেয়ে কর্মীরা উচ্ছসিত

মো.মহিউদ্দিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৫০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৯, ২০১৪
নেতাদের পেয়ে কর্মীরা উচ্ছসিত ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামে বিএনপি শীর্ষ নেতাদের এক মঞ্চে দেখা গেছে। নেতাদের কাছে পেয়ে কর্মীদের মাঝে ফিরে এসেছে প্রাণ চাঞ্চল্য।



এতোদিন মামলার কারণে আত্মগোপন এবং কারাগারে থাকার কারণে একত্রে মিছিল সমাবেশে দেখা যায়নি বিএনপি শীর্ষ নেতাদের।

ওই সময়ে স্বল্প পরিসরে মিছিল সমাবেশ করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করলেও শীর্ষ নেতারা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেননি। কখনো বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান আবার কখনো নগর বিএনপি সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানকে দেখা গেছে এসব কর্মসূচিতে।

একই সঙ্গে কয়েকটি কর্মসূচিতে এই দুই নেতাকে দেখা গেলেও আবদুল্লাহ আল নোমানের অনুপস্থিতিতে দলের কার্যক্রম চালিয়েছেন আবু সুফিয়ান।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর অবরোধ চলাকালে নগরীর একে খান, কর্নেলহাট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর ওইদিন রাতে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ডা.শাহাদাত হোসেনের বাসায় তল্লাশি চালায় পুলিশ।

তার পরেই আত্মগোপনে চলে যান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এরপর থেকে অবরোধের সমর্থনে চট্টগ্রামের কোন কর্মসূচিতে আমীর খসরু, শাহাদাত হোসেনসহ শীর্ষ নেতা বা তাদের কোন অনুসারীদের দেখা যায়নি।    

পরদিন অবরোধ চলাকালে নগরীর চট্টেশ্বরী মোড়ে সিএনজি চালিত অটো রিকসায় আগুন ও দু’জন যাত্রীর শরীরে আগুনে দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় বিএনপি শীর্ষ নেতাদের নামে চকবাজার থানাসহ একাধিক থানায় পাঁচটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

এসব মামলায় নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের ‍উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাত হোসেনকে আসামী করা হয়। একই মামলায় নগর জামায়াতের আমীর আ ন ম শামসুল ইসলামসহ ১৮ নেতাকে আসামী করা হয়।

ওইদিন (২৮ নভেম্বর) সকালে অবরোধের সমর্থনে বের করা একটি মিছিল থেকে গোলাম আকবর খন্দকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর রাত ৮টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।

মূলত এর পর থেকেই চট্টগ্রামে অবরোধ কর্মসূচি শিথিল হয়ে পড়ে। অবরোধ চললেও নগরী অনেকটাই ছিল স্বাভাবিক। অবরোধের সমর্থনে ভোরে সংক্ষিপ্ত মিছিল সমাবেশ হলেও তার কোন প্রভাব পড়েনি নগর জীবনে।

সরকার বিরোধী আন্দোলনে একাধিক মিছিল সমাবেশে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের একমঞ্চে দেখা গেলেও মূলত গত দুই মাস তারা এক সঙ্গে কোন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি।

এরই মধ্যে গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে বুধবার সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছে।

নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি নের্তৃত্বাধীন জোট নির্বাচন পরবর্তী তেমন কোন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

গত ২০ জানুয়ারি নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। ওই কর্মসূচিতে নগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাত হোসেন উপস্থিত থাকলেও অন্য কোন সিনিয়র নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

বুধবারের কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচিতে আমীর খসরু, আবু সুফিয়ান, ডা.শাহাদাত হোসেন ছাড়াও মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন পর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে কর্মীদের মাঝে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বুধবার বিকেলে সমাবেশ শুরু হওয়ার আগে থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশে উপস্থিত কর্মীরা জানান, নেতারা না থাকলে কর্মীরা সাহস পায় না। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতে কর্মসূচিতে আসতে চান না সাধারণ কর্মীরা।

দীর্ঘদিন পর শীর্ষ নেতারা সমাবেশে আসায় প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে কর্মীরা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে যে কোন কর্মসূচি সফল হবে বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ সময়:২১১০ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৯, ২০১৪ 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa