ঢাকা, বুধবার, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ শাবান ১৪৪৫

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

দৃষ্টির আয়োজনে নোবেল বিজ্ঞান বক্তৃতা অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৩৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২, ২০২৩
দৃষ্টির আয়োজনে নোবেল বিজ্ঞান বক্তৃতা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম: চিকিৎসা ও শারীরবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে দৃষ্টি চট্টগ্রামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মার্কস দৃষ্টি নোবেল বিজ্ঞান বক্তৃতা ২০২৩’।  
শনিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।

 
 
চট্টগ্রামে তৃতীয়বারের মত আয়োজিত এ আয়োজনে পৃষ্টপোষকতায় ছিলেন মার্কস ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের সহ আয়োজক ছিলেন ডিজিজ বায়োলজী অ্যান্ড মলিকুলার এপিডেমিওলজি রিসার্চ গ্রুপ, চিটাগাং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ অ্যান্ড হায়ার স্ট্যাডি সোসাইটি,  এনওয়াইবিবি নেটওয়ার্ক অফ ইয়ং বায়োটেকনোলজিস্ট বাংলাদেশ, হোয়াইট বোর্ড সায়েন্স ক্লাব, ইউএসটিসি ফার্মা সায়েন্স ক্লাব, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি রোবোটিক্স ক্লাব।

আয়োজনে মূল বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক ড. এস এম মাহবুবুর রশিদ। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের  মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ সিরাজ উদ্দিন, বিআইটিআইডি বিভাগীয় প্রধান ও ল্যাব ইনর্চাজ ডা. মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, চট্টগ্রাম ভেটেরনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এম এ এম জুনায়েদ সিদ্দিকী।  
দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি সাইফ চৌধুরির সভাপতিত্বে সমাপনি অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল, চিটাগং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ এন্ড হায়ার স্ট্যাডি সোসাইটির সম্পাদক আল আমিন, ইউএসটিসি ফার্মা সায়েন্স ক্লাবের সহকারী মডারেটর আব্দুল কাইয়ুম সিদ্দিকী, দৃষ্টি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মুন্না, দৃষ্টি চট্টগ্রামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ড. এস এম মাহবুবুর রশিদ বলেন, ২০২৩ সালের চিকিৎসা ও শারীরবিদ্যায় নোবেল পেয়েছেন ক্যাটালিন কারিকো এবং ড্র উইসম্যান। তারা মূলত এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কার করে এ পুরস্কার জিতেছে।  

তিনি বলেন, যেকোন প্রতিষেধক সাধারণত ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি প্রতিষেধক তৈরি করতে ১০ থেকে ৩০ বছর সময় লেগে যায়। এরপরও নিশ্চয়তা থাকে না ,দেখা যায় তৈরিকৃত প্রতিষেধক ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ কার্যকর হয়।  

প্যানেল আলোচক অধ্যাপক ড. সিরাজ উদ্দিন বলেন, নতুন বিজ্ঞানীদের মানবসেবা করতে হলে লেগে থাকতে হবে। এমআরএনএ প্রযুক্তিকে তৈরি করা প্রতিষেধক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বায়োলজিক্যাল সাইন্সের মাধ্যমে বৃহৎ আকারে মানবসেবা করা যায় সেটি দেখিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন বিজ্ঞানীদের একটা শিক্ষানীয় দিক হল লেগে থাকতে হবে। লেগে থাকলে সফলতা আসবে।

আরেক প্যানেল আলোচক ড. জাকির হোসেন বলেন, ২০২০ সালের যেভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল  কল্পনাও করতে পারিনি আজকের এ অনুষ্ঠানে আসতে পারব। করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কার করে দুই বিজ্ঞানী  রিকাগো ও ওয়াইজম্যান মানুষকে নতুন জীবন দান করেছে। এমআরএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব দ্রুততার সাথে প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পেরেছে।  

সভাপতির বক্তব্য সাইফ চৌধুরী বলেন, গবেষকরা হচ্ছে এক একটা ইনিস্টিউট। নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে গবেষকরা দেশকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। যত বেশি গবেষণা হবে দেশ ততবেশি উন্নত হবে। কিন্তু র্দুভাগ্য, আমাদের দেশে গবেষকদের যতটানা গবেষণায় দেখা যায় তার থেকে বেশি প্রশাসনিক কাজে দেখা যায়।  

বাংলাদেশ সময়: ২১২১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০২, ২০২৩
এমআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।