ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৯ জিলহজ ১৪৪২

শিল্প-সাহিত্য

বইমেলায় আর কখনো আসবেন না জুলিয়েট ও শেবাগ!

আদিত্য আরাফাত, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১২
বইমেলায় আর কখনো আসবেন না জুলিয়েট ও শেবাগ!

বইমেলা থেকে: কানাডিয়ান নাগরিক জুলিয়েট জয়েট ও ডেন শেবাগ। দু’জনই একটি এনজিওর প্রজেক্টে দু’মাসের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন।

দু’দিন পরই চলে যাবেন। এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এসেছেন এ পর্যন্ত দু’দিন। শুক্রবার বিকেল ৩টায় বইমেলায় প্রবেশ করেই সাংবাদিকদের হন্য হয়ে খুঁজছিলেন এ দু’জন বিদেশি। মিডিয়া সেন্টারে এ প্রতিবেদককে পেয়ে জানালেন অনেক ক্ষোভের কথা।

শুরুতেই জুলিয়েট জয়েট বললেন-‘তোমাদের এ মেলার প্রবেশদ্বারে বাংলাদেশের দারিদ্র্য ফুটে ওঠে। ’
জুলিয়েটের কাছে এ অভিযোগের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘বইমেলার শুরুতেই ভিক্ষুকের সারি। মেলায় প্রবেশ করতেই কয়েকজন ভিক্ষুক আমাদের পা ধরে আছে। এতে আমরা খুব বিব্রতবোধ করেছি। ’

জুলিয়েট জানান, এ দেশে এলেও আর বইমেলায় আসবেন না এবং তাদের দেশে গিয়েও বলবেন এ বিব্রতকর অবস্থার কথা।

ডেন শেবাগ বলেন, ‘রাষ্ট্রে দরিদ্র থাকবে, কিন্তু তাদের পূনর্বাসন সরকারকে করতে হবে। এভাবে রাস্তাঘাটে ভিক্ষাবৃত্তি ঠিক নয়। সরকারকে এসব বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। আমরা বলছি, না উন্নত বিশ্বে দরিদ্র নেই। ভিক্ষুক নেই। আছে। কয়েকটি উন্নত দেশেও ভিক্ষুক দেখা যায়। কিন্তু তোমাদের দেশের মতো নয়’

দু’জনই জানান, তারা তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশ ঘুরেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এতো ভিক্ষুক এবং ভিক্ষুকের অত্যাচার দেখেননি।

শেবাগ বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশেই ভিক্ষুক রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো ভিক্ষুকদের এমন উৎপাত কোথাও নেই। ’

এ দু’জন কানাডিয়ান বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষের প্রতিও ক্ষোভ জানান।

ক্ষোভ প্রকাশ করে জুলিয়েট বাংলানিউজকে বলেন, ‘মেলায় উন্নতমানের টয়লেট ব্যবস্থা তো নেইই, মহিলাদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থাও নেই। পৃথিবীর আর কোনো দেশে উন্নত টয়লেট ব্যবস্থা না রেখে এত বড় ইভেন্ট হয় কি-না আমাদের জানা নেই। ’

জুলিয়েট জানান, এর আগে মেলায় মহিলাদের টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। তিনি এর জন্য বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ প্রতিবেদককে এসব ক্ষোভের কথা বলে তারা জানান, ‘জীবনে কখনো আর কখনো বাংলাদেশের বইমেলায় আসবেন না তারা।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে কথা হয় বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রথমত: ভিক্ষাবৃত্তি সারাদেশেই আছে, শুধু বইমেলার সামনে নয়। মেলার সামনে কি হচ্ছে তা দেখা আমাদের দায়িত্ব নয়। আর টয়লেটের সমস্যা রয়েছে, এটা আমি স্বীকার করছি। বিশেষ করে মহিলাদের সমস্যা হচ্ছে। তবে স্পেশাল কেউ বা বিদেশি কেউ আসলে বাংলা একাডেমীর টয়লেট ব্যবহারের সুযোগ আমরা  দেই। ’

তিনি জানান, আগামীতে বাংলা একাডেমীর এ সমস্যা হবে না। এ প্রতিবেদকের কাছে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক দু’জন বিদেশীর বিব্রত অবস্থায় পড়ার জন্য দু:খপ্রকাশ করেন এবং তার রুমে আসার আমন্ত্রন জানান।

কানাডিয়ান এ দু’জন নাগরিককে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের রুমে নিয়ে যেতে চাইলে বলেন, ‘আমরা ইচ্ছুক নই। আপনি শুধু আমাদের বার্তাটি মহাপরিচালককে পৌঁছে দেবেন আমরা আর কখনো এ বইমেলায় আসবো না। ’

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১২

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa