ঢাকা, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৮ মে ২০২৪, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫

শিল্প-সাহিত্য

নোবেলজয়ী লেখকের উপন্যাস

নিখোঁজ মানুষ | পাত্রিক মোদিয়ানো (৯) || অনুবাদ: মাসুদুজ্জামান

অনুবাদ উপন্যাস / শিল্প-সাহিত্য | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ৫, ২০১৪
নিখোঁজ মানুষ | পাত্রিক মোদিয়ানো (৯) || অনুবাদ: মাসুদুজ্জামান অলঙ্ককরণ: মাহবুবুল হক

___________________________________

‘নিখোঁজ মানুষ’ [মিসিং পারসন, ১৯৭৮] এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতে নেওয়া পাত্রিক মোদিয়ানোর ষষ্ঠ উপন্যাস। যুদ্ধ মানুষকে কতটা নিঃসঙ্গ, অনিকেত, আত্মপরিচয়হীন, অমানবিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে, এটি হয়ে উঠেছে তারই চমকপ্রদ আলেখ্য।

‘রু দে বুতিক অবসক্যুর’ শিরোনামে ফরাসি ভাষায় লেখা উপন্যাসটির নামের আক্ষরিক অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘অন্ধকার বিপনীর সড়ক’। ড্যানিয়েল ভিসবোর্ট ১৯৮০ সালে এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। এর প্রধান চরিত্র ডিটেকটিভ গাই রোলান্দ। রহস্যময় একটা দুর্ঘটনার পর স্মৃতিভ্রষ্ট গাই তার আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধানে নামে। ধীরে ধীরে তার সামনে উন্মোচিত হতে থাকে হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানরা প্যারি কব্জা করে নিলে বন্ধুদের কাছ থেকে সে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং নিখোঁজ হয়। বন্ধুরাও নানা দিকে ছিটকে পড়ে। সমগ্র উপন্যাসটি সেদিক থেকে বিবেচনা করলে আসলে নিখোঁজ মানুষের গল্প। ১৯৭৮ সালে উপন্যাসটি অর্জন করে প্রি গোঁকুর্ত পুরস্কার। পাঠকদের উপন্যাসটি পাঠের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এখানে উল্লেখ্য যে, এর আগে মদিয়ানোর কোনো লেখা বাংলায় অনূদিত হয়নি। ফরাসি উচ্চারণ এবং কিছু বাক্যাংশের অর্থ উদ্ধারে সাহায্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ফরাসি ভাষার অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য্য। - অনুবাদক
___________________________________

৮ম কিস্তির লিংক

(৯ম কিস্তি)
একটার পর একটা ছবি তিনি আমার হাতে তুলে দিলেন। বলতে থাকলেন ছবিগুলোর পেছনে লিখে রাখা তাদের নাম আর তারিখগুলো। মনে হলো চার্চের স্ত্রোত্রপাঠের মতো রুশ নামগুলোও তার কণ্ঠে অনুরণন তুলছে। ত্রুবেটস্কয়, ওরবিল্যানি, শেরেমেতেভ, গ্যালিতসিন, এরিস্তভ, অবলনস্কি, ব্যাগরেশন, শাভশাৎজে— এইসব রুশ নাম বলতে গিয়ে কখনও খঞ্জনী বাজনার মতো তার গলা ঝনঝন করে বেজে উঠছে, কখনও বিষাদের মৃদু স্বর তাকে আক্রান্ত করছে, কখনও তার কণ্ঠ প্রায় নীরব হয়ে যাচ্ছে। ছবি হাতে নিয়েই নামের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন এবং ঘটনা ও তারিখের কথা আবার বলছেন। একবার একটা অনুষ্ঠান ছিল। বিপ্লবের অনেক পরে শাতো-বাস্কের গ্রান্দ ডিউক বরিসে বল নাচের পার্টি চলছে। তখনই ‘শাদা-কালো’ সেই ডিনারে এই ঝলমলে মুখের ছবিগুলো তোলা হয়, ১৯১৪ সাল... পিটার্সবার্গে আলেজান্ডার লিসের তোলা হলো এই চমৎকার ছবিটি।

“আমার বড় ভাই...”

প্রায় না দেখেই তিনি ছবিগুলো খুব দ্রুত আমার হাতে তুলে দিতে থাকলেন। অবশেষে মনে হলো, এই কাজটা করতে গিয়ে তিনি ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। হঠাৎ একটা ছবি দেখতে গিয়ে আমি থেমে গেলাম, মোটা কাগজে ছাপা একটা ছবি, ছবিটার পেছনে কোনো বিবরণও লেখা নাই।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কী এটা? আপনি কি কোনো ধাঁধায় পড়েছেন?”

ছবির সামনের দিকটায় এক বৃদ্ধ, শক্তভাবে হাতলঅলা একটা চেয়ারে বসা এবং তিনি হাসছেন। পেছনে সোনালি চুলের এক তরুণী, তার চোখ দুটো চকচক করছে। তাদের ঘিরে আছে অল্পকিছু মানুষ যাদের বেশিরভাগের পেছন দিকটা ক্যামেরার দিকে ফেরানো। একেবারে বাম দিকে ছবিতে জায়গা না হওয়ায় তার ডান হাতটা কাটা পড়েছে। ওই হাতের কিছুটা অংশ সোনালি চুলের এক তরুণীর কাঁধের ওপর রাখা। ছবির এই লোকটা অনেক লম্বা, অসম চেকের একটা স্যুট পরা, বয়স প্রায় তিরিশ, চুল ঘন কালো, গোঁফ সরু। আমি নিশ্চিত, এই লোকটিই আমি।

আমি তার গা ঘেঁসে বসলাম। আমরা দুজনেই বসেছি বিছানায় ঠেঁস দিয়ে। পা মেঝেয় ছড়ানো, একজনের কাঁধ আরেক জনের কাঁধকে ছুঁয়ে আছে।

“বলেন, এরা কারা?” আমি তাকে জিগ্যেস করলাম।

ছবিটা তিনি হাতে তুলে নিলেন এবং তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে দেখতে থাকলেন।
“এ হলো জিয়োরজাদজে...”
বৃদ্ধ যে লোকটি হাতলঅলা চেয়ারে বসে আছেন, তিনি তাকে দেখালেন।
“ছবিটা যখন তোলা হয় সেই সময়টায় তিনি প্যারির জর্জীয় দূতাবাসে কাজ করতেন...”
স্তিওপ্পা বাক্যটা শেষ করলেন না, যদিও তিনি কী বলতে চাইছেন বুঝতে আমার কোনো অসুবিধা হলো না।
“আর ওই যে মেয়েটিকে দেখছেন, সে হলো তার নাতনি... ওর নাম গে... গে অরলভ, গে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে আমেরিকায় অভিবাসী হয়ে চলে গেছে...”
“আপনি কি তাকে চিনতেন?”
“না, তেমন একটা না। সে দীর্ঘ দিন আমেরিকায় ছিল। ”
“আর এই লোকটিকে?” আমার ছবিটা তাকে দেখিয়ে নিচু স্বরে জিগ্যেস করলাম।
“এ কে?”
ভ্রু কুচকে তাকালেন তিনি।
“ইনি কে আমি জানি না। ”
“সত্যি বলছেন?”
“না। ”
একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেললাম আমি।
“আপনার কি মনে হয় না, এই লোকটি দেখতে আমার মতো?”
আমার দিকে চোখ তুলে তিনি দেখলেন।
“আপনার মতো দেখতে? না। কেন বলেন তো?”
“না, কিছু না। ”
আরেকটা ছবি তিনি আমার হাতে দিলেন।
শাদা পোশাকের একটা ছোট্ট মেয়ে, চুল লম্বা, সমুদ্রতটের একটা রিসোর্ট, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সমুদ্রকুটীর। এ হলো একদিকের ছবি। অন্যদিকে সমুদ্রসৈকত আর সমুদ্র। ছবিটার পেছনে বেগুনি কালিতে লেখা— “মারা অরলভ— ভাল্টা। ”
“এই ছবিতে দেখেন... সেই একই মেয়ে... গে অরলভ... ওর নাম ছিল মারা... তখনও সে তার আমেরিকান প্রথম নামটা পায়নি...”
আমি একটা ছবি ধরে আছি। এবার তিনি সেই ছবির আরেক সোনালি চুলের নারীর প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন।
“আমার মা, এই ছবিগুলো সংরক্ষণ করেছেন...”

হঠাৎ তিনি কী ভেবে যেন উঠে পড়লেন।

“কিছু মনে করবেন না, এখন এসব থাক। আমার মাথাটা ঘুরছে ...”
চোখের ওপর হাত রাখলেন তিনি।
“আমি পোশাকটা বদলে একটু বেরুবো... আপনার ইচ্ছা হলে আমার সঙ্গে ডিনার করতে পারেন...”

আমি একা, মেঝের ওপর বসে আছি, আমার চারদিকে ছবিগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ছবিগুলোকে আমি জড়ো করে লাল বাক্সে ভরে রাখলাম। দুটো ছবি রাখলাম বিছানার ওপর। এর একটাতে গে অরলভ এবং বৃদ্ধ লোকটার পাশে আমাকে দেখা যাচ্ছে, অন্য ছবিতে ভাল্টায় দেখা যাচ্ছে শিশু গে অরলভকে। আমি উঠে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।

তখন রাত্রি নেমেছে। জানালাটা একটা শূন্য জায়গার পাশেই, জায়গাটাকে ঘিরে আছে অসংখ্য ভবন। দূরে, একদিকে, স্যন নদী, বাম দিকে পঁত পুতো। সামনেই একটা বিস্তীর্ণ দ্বীপ। সেতুর ওপর সার সার গাড়ি। ভবনগুলোর মূল প্রবেশদ্বারের ওপর আমার চোখ পড়লো। সবগুলো জানালার আলো জ্বলছে, ঠিক যেমনটা জ্বলছে আমি যে জানালায় দাঁড়িয়ে আছি সেখানে। গোলকধাঁধার এই ভবনগুলো, অসংখ্য সিঁড়ি আর চোরকুঠুরি রন্ধ্রের ভেতরে একজন মানুষকে দেখতে পেলাম... জানালার ওপর কপাল ঢুকছি আমি। নিচে, প্রতিটি বিল্ডিংয়ের প্রবেশমুখে জ্বলছে হলুদ আলো, যা সারা রাত ধরে জ্বলতে থাকবে।

“রেস্তোরাঁটা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে,” বললেন তিনি।

বিছানার ওপর যে ছবি দুটো রেখেছিলাম, সেই দুটো ছবি আমি হাতে তুলে নিলাম।
বললাম, “মিস্টার দ্য জাগোরেভ, এই দুটো ছবি কি আমি ধার নিতে পারি?”
“হ্যাঁ, নিতে পারেন। ”
লাল বাক্সটার দিকে তিনি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন।
“আপনি সবগুলো ছবি নিতে পারেন। ”
“কিন্তু... আমি...”
“নেন, সবগুলো ছবিই নেন। ”

তার কথার জোরটা এত বেশি যে যুক্তি দিয়ে অগ্রাহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব হলো না। আমরা যখন অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লাম, সঙ্গে নিয়ে এলাম সেই লাল বাক্সটা।

রাস্তার সমতলে অবস্থিত কে দ্যু জেনেরাল-কোয়েনিগের দিকে আমরা এগুচ্ছি।

কয়েকটা পাথুরে পদক্ষেপে অনেকটা সামনে চলে এসেছি, এবং সামনেই, স্যন নদীর ডান দিকে একটা ইটের বিল্ডিং। দরোজার ওপরে লেখা: “বার-রেস্তোরঁ দ্য লিল”। আমরা ভেতরে ঢুকলাম। প্রায় নদীর মধ্যে নিচু সিলিং বিশিষ্ট একটা ঘর, শাদা ন্যাপকিনের টেবিল আর বেতের চেয়ারে ঘরটা ভরা। জানালা দিয়ে স্যন নদী দেখা যায় আর দেখা যায় পঁত দ্য পুতের ঝলমলে আলো। ঘরটার পেছনে গিয়ে আমরা বসলাম। খদ্দের বলতেও আমরাই।

স্তিওপ্পা তার পকেট হাতড়াতে থাকলো আর টেবিলের মাঝখানে সেই প্যাকেটটা রাখলো, যেটা আমি তাকে মুদি দোকান থেকে কিনতে দেখেছিলাম।

“সাধারণ যে খাবারটা আছে সেটাই কি দেব?” ওয়েটার জিজ্ঞেস করলেন।
“হ্যাঁ, সেটাই দেন। ”
“আর আপনি?” ওয়েটার আমার দিকে ঘুরে জানতে চাইলেন।
“আমাকে যা দেবেন এই ভদ্রলোককেও তাই দেন। ”

খুব দ্রুত ওয়েটার আমাদের দুজনের জন্য বাল্টিক সাগরের বাছা মাছ আর দুটো গ্লাসে মিনারেল ওয়াটার নিয়ে এলেন। স্তিওপ্পা প্যাকেট থেকে কিছু শশা বের করে টেবিলের মাঝখানে রাখলেন আর আমরা দুজনে তা খেতে থাকলাম।

আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কী, আপনার সব ঠিকঠাক আছে তো?”
“আপনি কি এইসব ছবি, অর্থাৎ স্মৃতিচিহ্ন আপনার কাছে রেখে দিতে চান না?” আমি জানতে চাইলাম।
“না, এগুলো এখন আপনার। টর্চটা এখন আপনার হাতে, আমি হস্তান্তর করে দিয়েছি। ”

নীরবে আমরা খেতে থাকলাম। খুব কাছ দিয়ে একটা নৌকা আমাদের অতিক্রম করে গেল। ভেতরে যারা ছিলেন তাদের চোখে পড়লো। লোকগুলো একটা টেবিলে বসে আছে, আমাদের মতোই খাচ্ছে তারা।

“আর এই যে... গে অরলভ,” আমি বললাম, “কী হয়েছিল তার আপনি কি জানেন?”
“গে অরলভ? আমার মনে হয় তিনি মারা গেছেন। ”
“মারা গেছেন?”
“আমার তাই বিশ্বাস। দু-তিনবার তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। খুব বেশি তাকে চিনতাম না... আমার মা ছিলেন জিয়োরজিয়াদজের বন্ধু। শশা কি আরও দেব?”
“ধন্যবাদ। ”
“আমার মনে হয় সে আমেরিকায় ভীষণ বিশ্রামহীন দিন কাটিয়েছে...”
“গে অরলভ... আপনি কি জানেন কে আমাকে তার সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেন?
গভীর আবেগময় দৃষ্টিতে তিনি আমার দিকে তাকালেন।
“দুঃখিত বন্ধু... কেউ দিতে পারবেন না... হয়তো আমেরিকায় যারা আছেন তাদের কেউ তার সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেন...”
আরেকটা নৌকা পেরিয়ে গেল, কালো, প্রায় পরিত্যাক্ত হতে চলেছে এমন একটা ধীরগতির নৌকা।
“ডিজার্টের সঙ্গে আমি সবসময় একটা কলা খাই,” তিনি বললেন। “আপনি কি খাবেন?”
“আমিও খাব। ”
আমরা কলা খেতে থাকলাম।
“আর এই গে অরলভের বাবা-মা... তাদের সম্পর্কে কিছু জানেন?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
“তারা মনে হয় আমেরিকাতেই মারা গেছেন। যে কেউ যে কোনো জায়গায় মরতে পারেন, আপনি তো জানেন...”
“ফ্রান্সে কি জিয়োরজিয়াদজের অন্য কোনো আত্মীয় আছেন?”
তিনি কাঁধ ঝাঁকালেন।
“কিন্তু আপনি গে অরলভ সম্পর্কে এত আগ্রহী কেন? সে কি আপনার বোন হয়?”
চমৎকারভাবে হাসলেন তিনি।
জিগ্যেস করলেন, “কফি খাবেন?”
“না, ধন্যবাদ। ”
“আমিও খাব না। ”

বিলটা দিতে তিনি উদ্যত হলেন, কিন্তু আমি তাকে নিবৃত্ত করলাম। ‘দ্য লিলে’ রেস্তোরাঁটা যখন আমরা ছেড়ে আসছি তখন তিনি তীরবর্তী উঁচু পাটাতনে উঠবার সময় আমার হাতটা আঁকড়ে ধরে ওপরে উঠে এলেন। কুয়াশা নামছে, মৃদু, কোমল, কিন্তু কেমন একটা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব। এরকম পরিবেশে আপনার ফুসফুসে এমন শীতল অনুভূতির জন্ম হতে পারে, যেন আপনি বাতাসে ভাসছেন। পাটাতনের ওপর দাঁড়ানোর পর কয়েক গজ দূরের ভবনগুলোকেও আমি দেখতে পারছিলাম না।

তাকে পথ দেখিয়ে ভবন অব্দি নিয়ে এলাম, যেন তিনি অন্ধ একজন মানুষ। ভবনে ঢোকার সিঁড়িতে কুয়াশার জমাটবাধাঁ হলুদ হলুদ ছোপ। এ ছাড়া বলবার মতো কিছু নেই। তিনি আমার হাতটা আঁকড়ে ধরলেন।

বললেন, “যত তাড়তাড়ি পারি গে অরলভকে খুঁজে দেখবো, ব্যাপারটা যেহেতু আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে...”

আমি দেখলাম তিনি আলোকজ্জ্বল প্রবেশপথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। একবার দাঁড়ালেন আর আমার উদ্দেশে হাত নাড়লেন। আমি তখনও দাঁড়িয়ে আছি, স্থির, হাতে সেই বড় লাল বাক্স, যেন কোনো শিশু কোনো জন্মদিন থেকে ফিরছে, আর ওই মুহূর্তে আমার নিশ্চিতভাবেই মনে হলো তিনি যেন আমাকে আরও কিছু বলছেন, কিন্তু সেই কুয়াশা যেন তার কথাগুলোকে মাফলারের মতো জড়িয়ে ধরছে, তার কথাগুলো তাই ঠিক ঠিক আমার কানে পৌঁছুলো না।

(চলবে)

১০ম কিস্তির লিংক



বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৯ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৫, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।