ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

শিল্প-সাহিত্য

কবি শামসুর রাহমানের ৮৫তম জন্মদিন

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৪৬ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৩, ২০১৪
কবি শামসুর রাহমানের ৮৫তম জন্মদিন শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬)

নক্ষত্রপুঞ্জের মতো জলজ্বলে পতাকা উড়িয়ে আছো আমার সত্তায়।
মমতা নামের প্রুত প্রদেশের শ্যামলিমা তোমাকে নিবিড়
ঘিরে রয় সর্বদাই।

কালো রাত পোহানোর পরের প্রহরে
শিউলিশৈশবে ‘পাখী সব করে রব’ ব’লে মদনমোহন
তর্কালঙ্কার কী ধীরোদাত্ত স্বরে প্রত্যহ দিতেন ডাক। তুমি আর আমি,
অবিচ্ছিন্ন পরস্পর মমতায় লীন,
ঘুরেছি কাননে তাঁ নেচে নেচে, যেখানে কুসুম-কলি সবই
ফোটে, জোটে অলি ঋতুর সংকেতে।

(শামসুর রাহমান, বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা)

সমকালীন আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান কবি শামসুর রাহমানের ৮৫তম জন্মদিন বৃহস্পতিবার। জীবনান্দ-ফররুখ আহমদ পরবর্তী আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান সিদ্ধপুরুষ কবি শামসুর রাহমান। তাঁকে বাংলা কবিতার রাজপুত্তুরও বলা হয়। কবিতার সাথে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক যোগ ও কৃত্য সৃষ্টিতে অমর হয়ে থাকবে তাঁর পঙ্‌ক্তিমালা।  
দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এরইমধ্যে বুধবার কবির জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। গতকাল বিকেলে একাডেমির ‘কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে’ অনুষ্ঠিত ‘শামসুর রাহমান : রূপ-রূপান্তরের কবি’ শীর্ষক এই বক্তৃতানুষ্ঠানে একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক শান্তনু কায়সার। সব্যসাচী লেখক ও বাংলা একাডেমির ফেলো সৈয়দ শামসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

কবির স্বাধীনতা বিষয়ক অমর কবিতামালা চিরকাল পাঠকের কাছে উজ্জীবনের উৎস হয়ে থাকবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির রবীন্দ্রচত্বরে জাতীয় কবিতা পরিষদ এবং শামসুর রাহমান স্মৃতি পরিষদ যৌথভাবে শামসুর রাহমানের জন্মদিন উদযাপন করবে। এতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সালেহ চৌধুরী, শামসুজ্জামান খান ও অধ্যাপক কায়সার হক। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে থাকবে কবিতা পাঠ, কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি, সংগীত এবং নৃত্য।

১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্মগ্রহণ করেন কবি শামসুর রাহমান। আর মৃত্যুবরণ করেন ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট। এই আটাত্তর বছরে শামসুর রাহমান হয়ে উঠেছেন জাতির প্রিয় কবি। আঠার বছর বয়সে লেখালেখি শুরু করেন তিনি। বিষয়ে, আঙ্গিকে, উপস্থাপনায় তাঁর কবিতা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল।

পড়াশোনা করেছেন মূলত পুরান ঢাকায়। ১৯৪৫ সালে পোগোজ স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৪৭ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আইএ পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে ভর্তি হন। তবে অনার্সে পড়াকালে চূড়ান্ত পরীক্ষা দেননি। ১৯৫৭ সালে কর্মজীবন শুরু করেন দৈনিক মর্নিং নিউজ-এ সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে। পরে তিনি দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রায় কাজ করেন। দৈনিক বাংলা ও বিচিত্রায় তিনি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন শামসুর রাহমান। ৬৮, ৬৯ ৭০ ও ৭১ জুড়ে স্বাধীনতার আবেগময় আওয়াজ ছড়িয়ে দিয়েছেন শামসুর রাহমান। সে সময়গুলোতে ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, ‘আসাদের শার্ট’, ‘স্বাধীনতা তুমি’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতাসমূহ গণমানুষের হৃদয়ে স্বাধীনতার জন্য ঝড় তুলেছিল।

১৯৬০ সালে শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশিত হয়। তিনি লিখেছেন বিপুল। কবিতা ছাড়াও উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ছড়া, অনুবাদসহ তার বহু সাহিত্যকর্ম রয়েছে। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৬৬টি।

কবিতা ও সাহিত্য সৃষ্টির স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন আদমজী সাহিত্য পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ একুশে পদক, নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক, জীবনানন্দ পুরস্কার, আবুল মনসুর আহমেদ স্মৃতি পুরস্কার, স্বাধীনতা পদক ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনন্দ পুরস্কার।

এছাড়া ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মান সূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।



বাংলাদেশ সময়: ১৪৪০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৩, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।