ঢাকা, রবিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ০৩ জুলাই ২০২২, ০২ জিলহজ ১৪৪৩

কৃষি

বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে আলু চাষিদের স্বপ্ন 

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬০৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৭, ২০২১
বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে আলু চাষিদের স্বপ্ন 

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): আলুর রাজধানী সিরাজদিখান ও পাশের কেরানীগঞ্জে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে আলু চাষিদের স্বপ্ন।  

দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে আলু চাষিদের ফসলি জমি।

 

বিশেষ করে গত এক সপ্তাহের মধ্যে যারা আলুর বীজ রোপণ করেছিলেন, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। তবে কেরানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল আমিন জানিয়েছেন বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা গেলে অনেকটাই রক্ষা পাবে আলু চাষিরা।

সিরাজদিখান উপজেলার ও এর পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আলু ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে, রোপণ করা আলুর প্রায় সব ক্ষেতই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা বৃষ্টিতে ভিজে ডুবে যাওয়া জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন।

সিরাজদিখান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, উপজেলায় এবার আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে, যা গত বছর ছিল ৯ হাজার ৩০০ হেক্টর। এরই মধ্যে এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি আলু রোপণ করা হয়ে গেছে।

অপরদিকে কেরানীগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১২০ হেক্টর জমিতে, যার প্রায় ৩০ শতাংশ রোপণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস। কর্মকর্তারা জানান, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে দুইদিন টানা বৃষ্টিতে গত এক সপ্তাহে যত আলু লাগানো হয়েছে, তার বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিভিন্ন এলাকার ক্ষেতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সিরাজদিখানের গা ঘেঁষা কেরানীগঞ্জের চর সোনাকান্দা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক যুবক আলমগীর হোসেন ছাতা মাথায় তার জমির পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, ছলছল চোখে তাকিয়ে আছেন সদ্য রোপণ করা আলু ক্ষেতের দিকে। প্রায় ৫ লাখ টাকায় ২০ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছেন। কিন্তু তার সবটাই পানির নিচে। গত বছর আলু বিক্রি করে যা লাভ হয়েছে, সে টাকার সঙ্গে কিছু টাকা ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন আলু। কিন্তু বৃষ্টিতে সব হারিয়ে হতাশ এ যুবক।

নূর মোহাম্মদ নামে এক আলু চাষি বলেন, মাত্র কয়েকদিন হলো আলু লাগিয়েছি, এখনো চারা তেমন দেখা দেয়নি, এ বৃষ্টির পানির নিচে থাকলে আলুগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। জানি না কীভাবে মহাজনের ঋণ শোধ করব।
 
প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন নূর ইসলাম। তিনি বলেন, সকাল থেকে নিচু জমিনগুলোর পানি সরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু পানি যতই নিষ্কাশন করি, অবিরাম বৃষ্টিতে হতে থাকলে কোনোমতেই আলু রক্ষা করা যাবে না।

ফারুক নামে এক কৃষক বলেন, মাত্র দুইদিন হলো ১ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি, পুরো আলুর জমিন এখন পানির নিচে। দুইদিনের মধ্যে আমার মতো গরিবের ৪০ হাজার টাকা লোকসান।

সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, প্রতি বছর এ জেলায় আগাম আলুর চাষ হয়। এবার বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু জমির বীজ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। পানি নেমে গেলে কিছুটা ক্ষতি কম হবে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে দুইদিন টানা বৃষ্টি। আসলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নাই। তবে আমরা আলু ক্ষেতগুলো ঘুরে দেখে একটাই পরামর্শ দিচ্ছি, সেটা হলো যত দ্রুত সম্ভব পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে আলু কিছুটা হলেও রক্ষা করা। এতে কৃষকরা কিছুটা হলেও বাঁচবে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৬০১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৭, ২০২১
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa