ঢাকা, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৮ মে ২০২৪, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫

কৃষি

সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৫৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১১, ২০১৯
সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা

মাগুরা: মাগুরার প্রায় সব জায়গায় সরিষার আবাদ হয়েছে। আর সরিষা ক্ষেতের চারপাশে সারিবদ্ধভাবে মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এসব বাক্সে পালিত মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌবাক্সে জমা করছে। এই মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষিরা। 

মৌচাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরিষা ফুলের ভালো পরাগায়ন হবে। এ কারণে সরিষা চাষেও চাষিরা উৎসাহিত হচ্ছেন।

ফলে এবার জেলায় সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে সঙ্গে সঙ্গে মৌচাষিরাও বেশ লাভবান হবে এমনটাই ভাবছে এলাকার চাষিরা।

মৌচাষি মনজুর বাংলানিউজকে বলেন, আমি বেকার সেজন্য আতিয়ার ভাইয়ের মা মৌ খামারে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছি। আমি ১৩০টা মৌ বাক্স স্থাপন করেছি। তা থেকে প্রায় ৬০ মন মধু সংগ্রহ করবো। আমি আশা করছি আর ৭০টা মৌ বাক্স স্থাপন করবো।

আঙ্গারদহ গ্রামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আলমগীর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আতিয়ার ভাই সরিষা ফুল থেকে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহ করছে, তা দেখে আমার ভালো লেগেছে। আমি মনে করি মৌচাষ করলে অনেক বেকার যুবক তাদের আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারবে।  

মৌচাষি নাসির বাংলানিউজকে বলেন, এ বছর জেলায় প্রায় ১০০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি। এ চাষকে আরো সম্প্রসারিত করতে পারলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও মধু রফতানি করা সম্ভব।
 
তিনি আরো বলেন, নানা জাতের মাছি থাকালেও সাধারণত বাণিজ্যিকভাবে আফ্রিকান মেলি ফ্রা জাতের মৌমাছি এখন বেশি চাষ হচ্ছে। কারণ এরা পরিমাণে অনেক বেশি মধু সংগ্রহ করতে পারে। বিভিন্ন ফুল থেকে বছরের প্রায় ৮ মাস চাষিরা মধু সংগ্রহ করে থাকে। বর্তমানে প্রায় ৫০০টি পরিবার মৌচাষের ওপর নির্ভরশীল।

মৌচাষি রিপন বাংলানিউজকে জানান, সরিষা মৌসুমে বেশি মধু উৎপাদন হওয়ায় উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে অনেক কম দামে মধু বিক্রয় করতে বাধ্য হন। ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মখিন হন। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে সাধারণত মৌমাছির নানা বিধ রোগ ব্যাধি হয়ে থাকে। ফলে প্রচুর মাছি মারা যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে তারা কোনো পরামর্শ বা সহযোগিতা পান না। চাষিদের তখন নিজস্ব ধারণা থেকে মাছিকে বাঁচিয়ে রাখার নানা কৌশল অবলম্বন করতে হয়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সহজ শর্তে সুদ বিহীন ঋণ সুবিধা পেলে আরো অনেক বেকার যুবক এ পেশায় এগিয়ে আসবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকতা রুহুল আমিন বাংলানিউজকে বলেন, জেলায় মোট ৪৫ জন নিবন্ধিত মৌ খামারি রয়েছে। তবে এ মৌসুমে ১০০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ হবে বলে আমি আশা করছি। বিসিক’র সহযোগিতায় ইতিমধ্যে ১২টি ব্যাচে প্রায় ৪৫০ জন নারী-পুরুষকে মৌচাষের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই মৌচাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাদের মধ্যে সহজ শর্তে সুদ বিহীন ঋণ সুবিধা দেওয়া যায় সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

বাংলাদেশ সময়: ১০৪৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১১, ২০১৯
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।