ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৯ মহররম ১৪৪৬

কৃষি

এবার শুধু খরচ উঠলেই ‘রাজাবাবুকে’ ছেড়ে দেবেন মওফেল

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৩০ ঘণ্টা, জুন ৫, ২০২৪
এবার শুধু খরচ উঠলেই ‘রাজাবাবুকে’ ছেড়ে দেবেন মওফেল

মাদারীপুর: শখের বশে একেকটা গরুর পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করেন অনেক খামারি। খামারিদের যত্নে বেড়ে ওঠা বিশাল দেহের গরুগুলোই কোরবানির হাট মাতিয়ে তোলে।

হয় খবরের শিরোনামও।  

মাদারীপুরের এক খামারির খামারে আদর-যত্নে বেড়ে ওঠা এমনই এক গরুর নাম ‘রাজাবাবু’। খামারির গোয়ালে জন্ম নেওয়া বাছুরটি এখন ৩০ মণের ষাঁড়।

গত বছর কোরবানিতে আশা নিয়ে রাজধানীর হাটে তুলেছিলেন রাজাবাবুকে। দাম হেঁকেছিলেন ৩০ লাখ! তবে এতো দামের কারণে গরুটি বিক্রি হয়নি। ফিরিয়ে এনেছিলেন বাড়িতে। আবার এক বছরের লালন-পালন। এবার শুধু খরচ উঠে এলেই বিক্রি করে দেবেন বলে জানান গরুর মালিক। আদরের রাজাবাবু এখন বোঝা হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের খাটোপাড়া গ্রামের মওফেল ভূঁইয়া তার গোয়াল ঘরে 
জন্ম নেওয়া একটি ছোট্ট বাছুরের নাম শখ করে রাখেন রাজাবাবু।  

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই অন্য সব গরুর চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত বাড়তে থাকে রাজাবাবু। পাঁচ বছর তিন মাস বয়সী রাজাবাবুর ওজন ৩৫ মণেরও বেশি। অন্যসব গরুর মতোই স্বাভাবিক খাবার দিয়ে লালন-পালন করেছেন গরুটি। তবে আদরের গরু নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন তিনি।

প্রতিদিন রাজাবাবুর পেছনে খরচ হয় এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা। এ পর্যন্ত রাজাবাবুর পেছনে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।  

গত বছর কোরবানির হাটে গরুটির দাম হাঁকানো হয়েছিল ৩০ লাখ টাকা। পর পর দুই বছর ঢাকার হাটে নেওয়া হলেও বিক্রি হয়নি। তবে এ বছর শুধু খরচসহ কিছু দাম পেলেই বিক্রি করে দেবেন মওফেল ভূইয়া।  

মওফেল ভুঁইয়া বলেন, নিজের সন্তানের মতো আদর-যত্ন করে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করেছি গরুটি। গতবার ভালো দাম না ওঠায় বিক্রি করিনি। এ বছর বিক্রি করে দিতে হবে।

মওফেল ভুঁইয়ার ছেলে এমদাদুল হক বলেন,
গরুটি পুষতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন বাবা। এ বছর বিক্রি করতেই হবে। রাজাবাবুকে লালন-পালনের সামর্থ্য আর নাই আমাদের।

এদিকে বড় গরু দেখতে দর্শনার্থীরা প্রায়ই ভিড় করেন মওফেলের বাড়িতে। আশেপাশে এতো বড় গরু দেখেননি আগে। কোরবানি এলেই বড় গরু নিয়ে উদ্দীপনা তৈরি হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে মাদারীপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মাদারীপুরে গরু রয়েছে দুই লাখ ৭১ হাজার ৩৫৭টি। এছাড়া এক লাখ ৩১ হাজার ৫৬৯টি ছাগল, ১৬৫টি মহিষ ও ২৪৬টি ভেড়া রয়েছে।

চলতি বছর কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুবোধ কুমার দাস।

খামারির দাবি, রাজাবাবুকে কোনো কৃত্রিম পন্থায় মোটাতাজা করা হয়নি। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হয়েছে গরুটিকে। শখের গরুকে বড় করতে গিয়ে কৃষক পরিবারটি হয়ে পড়েছে ঋণগ্রস্থও। মওফেল এ কোরবানিতে গরুটি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশা খামারি ও এলাকাবাসীর।  

বাংলাদেশ সময়: ১১২৬ ঘণ্টা, জুন ৫, ২০২৪
এসআই
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।