ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৯ মহররম ১৪৪৬

কৃষি

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস

মাদারীপুরে চাহিদার চেয়েও গরুর দুধের উৎপাদন বেশি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫০৫ ঘণ্টা, জুন ১, ২০২৪
মাদারীপুরে চাহিদার চেয়েও গরুর দুধের উৎপাদন বেশি

মাদারীপুর: চাহিদার চেয়েও গরুর দুধের উৎপাদন বেশি রয়েছে মাদারীপুর। নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে মাদারীপুরের খামারে উৎপাদিত দুগ্ধ!  

খামারিদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ কৃষকের গোয়ালের গাভির দুধ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারে আলাদা ভাবেই বসে দুধের বাজার। এছাড়া খামারে উৎপাদিত দুধ জেলার মিষ্টির দোকানসহ দুগ্ধজাত খাবার তৈরির দোকানগুলোতে বিক্রি হয়।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান খুচরা বাজারে এলাকা ভেদে প্রতি লিটার দুধ ৬০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কখনও দাম ৪০-৫০ টাকার মধ্যেও থাকে। আবার ঈদ মৌসুমসহ বিভিন্ন সময়ে দাম বেড়ে ১০০-১২০ টাকা প্রতি লিটার পর্যন্ত হয়ে যায়। তবে পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা কম রয়েছে।  

জেলার শিবচর উপজেলার কয়েকজন ক্ষুদ্র এক খামারি জানান, খামারের গাভি থেকে প্রতিদিন ৩০-৪০ লিটার দুধ পাওয়া গেলে তা খুচরা বাজারে বিক্রি করা যায় না। একত্রে বিক্রি করা কষ্টকর হওয়ায় বিভিন্ন মিষ্টির দোকানি বা পাইকারি ক্রেতার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দুধ বিক্রি করা হয়। এক্ষেত্রে খুচরা বাজারে দাম ওঠানামা করলেও পাইকারি ক্রেতার কাছে একটি নির্দিষ্ট দামে বিক্রি করা হয়। সকাল এবং দুপুরে গাভির দুধ পাওয়া যায়।  

শিবচরের স্থানীয় বাজারে দুধ বিক্রেতা মো. হাসমত আলী বলেন, আমি কৃষি কাজের পাশাপাশি একটা গাভি পালন করি। প্রতিদিন সকালে ৬-৭ কেজি দুধ বাজারে আনি। দুপুরে আবার ৩-৪ কেজি দুধ পাওয়া যায়। বাজারে দুধের দাম তুলনামূলক ভালো। গ্রামে যারা কৃষি কাজ করেন, তাদের প্রায় বাড়িতেই গাভি আছে। এসব গাভির দুধ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়। সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন খাওয়ার জন্যই এ দুধ কিনে থাকেন।

শিবচরের দত্তপাড়া এলাকার ক্ষুদ্র খামারি ফররুখ হাওলাদার বলেন, আমার খামারটি ছোট। গাভি ছাড়াও কোরবানির জন্য গরু রয়েছে। গাভিতে যে দুধ আসে তা পাইকারি বিক্রি হয়। ঘোষ (মিষ্টি তৈরি করেন) এসে প্রতিদিন দুধ নিয়ে যায়। সকাল ও দুপুর দুই বেলা দুধ দোহন হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলায় গাভির খামার রয়েছে ৪ হাজার ৯৩২টি, গরু হৃষ্ট-পুষ্টকরণ খামার রয়েছে ১ হাজার ৩০৪টি। বছরে গাভির খামার থেকে দুধ উৎপাদন হয় ১ দশমিক ৮৩ লাখ মেট্রিক টন এবং মাংসের উৎপাদন ০ দশমিক ৭৭ লাখ মেট্রিক টন। জেলায় বাৎসরিক দুধের চাহিদা রয়েছে ১ দশমিক ১৮ লাখ মেট্রিক টন এবং মাংসের চাহিদা ০ দশমিক ৫৭ লাখ মেট্রিক টন।  

মাদারীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুবোধ কুমার দাস বলেন, জনসংখ্যা অনুপাতে জেলা বাৎসরিক দুধের চাহিদা রয়েছে ১ দশমিক ১৮ লাখ মেট্রিক টন। আমাদের চাহিদার চেয়ে উৎপাদন আরও বেশি। মাদারীপুরের চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও দুধ বিক্রির ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫০৫ ঘণ্টা, জুন ০১, ২০২৪
এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।