ঢাকা, সোমবার, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৪ জিলহজ ১৪৪৩

স্বাস্থ্য

অন্তঃসত্ত্বাকে বের করে দিলেন নার্স, রাস্তায় সন্তান প্রসব!

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১১৯ ঘণ্টা, মে ২০, ২০২২
অন্তঃসত্ত্বাকে বের করে দিলেন নার্স, রাস্তায় সন্তান প্রসব!

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে (মাতৃমঙ্গল) শিল্পী নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে বের করে দেওয়ার পর তাকে রাস্তায় বাচ্চা প্রসব করতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  

বুধবার (১৮ মে) দুপুর ২টার দিকে ওই প্রসূতির স্বজনেরা তাকে সেখানে ভর্তি করান।

সেদিনই সন্ধ্যায় সেখানে দায়িত্বরত নার্স এবং আয়া শিল্পীকে সেখান থেকে বের করে দেন।  

এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। এমন অভিযোগ করেছেন তার স্বজনেরা। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য অভিযুক্ত নার্স শারমিন আক্তার ও আয়া রৌশন আক্তারের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।  

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা কোনো ধরনের দায়িত্বে অবেহলা করেননি। রোগী স্বেচ্ছায় হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।  

জানা গেছে, প্রসব বেদনা উঠলে দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমসেরাবাদের জোড়দিঘিরপাড় এলাকার ফল দোকানের শ্রমিক আজগর হোসেনের স্ত্রী শিল্পী আক্তারকে তার স্বজনেরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করেন। সেখানে দায়িত্বরতরা রোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করে চরম অবহেলা করেন।  

শিল্পীর মা নুরজাহান বেগম ও বোন জরিনা আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, প্রসব ব্যথা উঠলে বুধবার দুপুর ২টার দিকে শিল্পিকে সদর হাসপাতাল সংলগ্ন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করি। মাগরিবের নামাজের আগে তার ব্যথা বেড়ে যায়। সেখানে থাকা সেবিকা (নার্স) শারমিন আক্তার ইফতার করতে যান। এসময় আয়া রৌশন আক্তার স্বাভাবিক প্রসব হবে না বলে শিল্পীকে বাইরে সদর হাসপাতাল কিংবা কোনো প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করাতে বলেন। একপর্যায়ে তিনি শিল্পীকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। তারা কোনোভাবেই শিল্পীকে সেখানে রাখতে রাজি হননি।  
 
জরিনা বলেন, দায়িত্বরত নার্স-আয়া চরম খারাপ আচরণ করেছেন। আমাদের সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করেছেন। তাদের খারাপ আচরণের কারণে আমরা বের হয়ে গেছি। পরে রাস্তায় শিল্পীর ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

এসময় পাশের সদর হাসপাতাল থেকে নার্স এসে মা ও নবজাতককে নিয়ে সেখানে ভর্তি করেন।  
 
শিল্পী আক্তারের ভাই আরিফ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, হাসপাতালে আসে মানুষ সেবা নেওয়ার জন্য। কিন্তু আমার বোনকে সেবা না দিয়ে অবহেলা করা হয়েছে। আশা করি, কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।  

শিল্পীর মামাতো বোন রুনা আক্তার বলেন, ঘটনা শুনে আমি সেখানে যাই। বাচ্চার মাথা দেখা যাচ্ছে বললেও আয়া রৌশন তাদের প্রতিষ্ঠানে আমার বোনকে রাখতে রাজি হননি। আয়া বারবারই বলছিলেন বাইরে কোনো হাসপাতালে নিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করাতে। কিন্তু কোনো হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ হয়নি। পথেই আমার বোন সন্তানের জন্ম দেন।  

এ ঘটনায় অভিযুক্ত নার্স এবং আয়ার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জেলা পরিবার ও পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. আশফাকুর রহমান মামুন বাংলানিউজকে বলেন, ঘটনাটি শুনে আমি মাতৃমঙ্গলে গিয়ে নার্স, আয়া এবং অন্যান্য রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওই রোগী ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার চিকিৎসা শুরু করা হয়। রোগীর স্বজনদের স্বাভাবিক প্রসবের জন্য অপেক্ষা করতে বললে তারা অপেক্ষা করেননি। নিজেরাই হাসপাতাল থেকে বের হয়ে চলে যান। এরপর রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে আমাদের এখানেই প্রসব করাতে পারতেন।
এদিকে এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দুপুরে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. আশফাকুর রহমান মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  
 
তিনি জানান, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের জেলা কনসালটেন্ট ডা. আক্তার হোসেনকে প্রধান করে সদর উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা নাজমুল হাসান ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেনকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  
 

বাংলাদেশ সময়: ১১১৭ ঘণ্টা, মে ২০, ২০২২
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa