ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ আশ্বিন ১৪২৮, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯ সফর ১৪৪৩

স্বাস্থ্য

লক্ষ্মীপুরে নাজুক হচ্ছে পরিস্থিতি, বাড়ছে মৃত্যু-শনাক্তের হার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩১৫ ঘণ্টা, জুলাই ৩১, ২০২১
লক্ষ্মীপুরে নাজুক হচ্ছে পরিস্থিতি, বাড়ছে মৃত্যু-শনাক্তের হার

লক্ষ্মীপুর: মেঘনা তীরের লক্ষ্মীপুর জেলায় দিনে দিনে নাজুক হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি। জেলা সদর, উপজেলা এবং বিভিন্ন চরাঞ্চলে ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা।



এ জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনারোগীর সংখ্যা। একইসঙ্গে মৃত্যুও বেড়ে চলছে আশঙ্কাজনক হারে। ১০০ শয্যার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালটি যেন করোনারোগীদের হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। করোনারোগী বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে এখানকার চিকিৎসকদের।

সর্বশেষ তথ্যমতে এ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২শ ২২ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। গত ১২ দিনে জেলায় প্রায় দেড় হাজার জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল গাফ্ফার।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানাচ্ছে, জেলায় এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৪শ ৫৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্য সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ২০৭ জন রয়েছে। হাসপাতালে করোনারোগী ভর্তি আছে ৫৫ জন। করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছে ৭৫ জন। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৯৮ জন। এর মধ্যে সদর ৫১, রায়পুর ৬, রামগঞ্জ ১৪, কমলনগর ১, রামগতি ৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন ৪৫ জন এবং এ সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৭ জন।

লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গফফার বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। এ জেলার জন্য এটি বিপজ্জনক।  

করোনারোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইতোমধ্যেই যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা কম, এতে করে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব উদ্যোগে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এছাড়া করোনারোগীদের জন্য আরও ৫০ শয্যা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ জেলার ১০০ শয্যার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আইসিইউ বেড রয়েছে তিনটি। যা রোগীর চাপের তুলনায় অপ্রতুল। রয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন ও লিকুইড অক্সিজেন প্লান্ট। এ জেলায় টিকার প্রথম ডোজ সম্পন্ন ৫৫ হাজার ৫শ ২৬ জনের, ২য় ডোজ সম্পন্ন ৩৬ হাজার ৬৩ জনের।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আনোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, রোগীর ভার সামলাতে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। হাসপাতালে যারাই আসছেন তাদের অধিকাংশের শারীরিক অবস্থা ভালো না। তাদেরকে দিতে হচ্ছে অক্সিজেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৩১৩ ঘণ্টা, জুলাই ৩১, ২০২১
এসএইচডি/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa