bangla news

পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১২-১১ ৯:৪৮:৩৫ এএম
প্রতীকী

প্রতীকী

ঢাকা: বাংলাদেশে এক সময় প্রকট খাদ্য সংকট ছিল, কিন্তু এখন আর নেই। উৎপাদন বাড়ায় দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, খাদ্য রপ্তানিও করছে। কিন্তু পুষ্টি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশ এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। সরকার, গণমাধ্যম, দাতা সংস্থা এবং এনজিওসহ সবার সমন্বিত উদ্যোগে খাদ্যের পাশাপাশি জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) প্রেস ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশের (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় ‘খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালায়’ বক্তারা এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় সমাপনী বক্তব্যে পিআইবি মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ বলেন, দেশের জনগণের মধ্যে পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করা জরুরি। ভবিষ্যত প্রজন্মকে ভেজালমুক্ত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিষয়ক রিপোর্টিং উৎসাহিত করতে সাংবাদিকদের জন্য এ বিষয়ে ফেলোশিপ প্রবর্তনের জন্য উন্নয়ন অংশীদারদের আহ্বান জানান।

কর্মশালায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও কৃষি পরিবীক্ষণ ইউনিটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ বদরুল আরেফিন বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। একইসঙ্গে জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। প্রান্তিক মানুষের জন্য পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটু চ্যালেঞ্জিং বিষয়। কিন্তু আমরা আশা করছি, গণমাধ্যম, দাতা সংস্থা, এনজিওসহ সব অংশীজনের সহযোগিতায় এবং সমন্বিত উদ্যোগে আমরা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সবার জন্য পুষ্টি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারবো।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রোগ্রামের ম্যানেজার আশুন্তা টেসতা বলেন, সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকরা যদি জনগণকে পুষ্টি নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয় এবং সচেতন করে তাহলে সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। 

উন্নয়ন সংস্থা ইউএসআইডি’র খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি নীতি বিষয়ক জেষ্ঠ্য উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহিদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশে এক সময় খাদ্য সংকট প্রকট থাকলেও বর্তমানে সে অবস্থা আর নেই। বাংলাদেশ এখন নিয়মিত খাদ্য রপ্তানি করছে। তবে সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। এক্ষেত্রে আমরা এখানও পিছিয়ে রয়েছি। সরকারসহ সব অংশীজনরা যথাযথ উদ্যোগ নিলে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএসআইডি’র ইকোনমিক গ্রোথ কমিউনিকেশন অ্যাডভাইজর আইরিশ ক্রজ, ইউএসআইডি’র ইকোনমিক গ্রোথ অফিসের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মেহেদি হাসান, সেভ দ্যা চিলড্রেনের পরিচালক (চাইল্ড পোভার্টি) ফ্রেডরিক ক্রিস্টোফার, মিটিং দ্যা আন্ডার নিউট্রেশান চ্যালেঞ্জ প্রকল্পের চিফ ট্যাকনিক্যাল অ্যাডভাইজর নাউকি মিনমিগোসি, যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ডিএফআইডি) প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসনিম সিদ্দিক এবং সূচনা প্রকল্পের চিফ অব পার্টি শেখ শাহেদ রহমান।

এছাড়া কর্মশালায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, কৃষি ও জেন্ডার বিষয়ক রিপোটিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৩ জন সংবাদকর্মী অংশ নেন।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৩৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
এমএএম/ওএইচ/

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2019-12-11 09:48:35