bangla news

ঢাকায় শুরু হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যকর্মী সম্মেলন’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১১-২২ ২:১৬:১০ পিএম
অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: বাংলানিউজ

অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: প্রতিবছর অসংক্রামক ব্যাধির কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় চার কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। যা মোট মৃত্যুর শতকরা ৭১ শতাংশ। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বছরে ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী প্রায় দেড় কোটি মানুষের মৃত্যু হয় অসংক্রামক ব্যাধির কারণে। যার ৮৫ শতাংশেরও বেশি হলো ‘অকালমৃত্যু’। 

অসংক্রামক ব্যাধি এসব দেশগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য সৃষ্টি করে আর্থিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে। সেক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীদের আবদান তুলে ধরতে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে তুলে ধরতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ‘দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী সম্মেলন’।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী সম্মেলন-২০১৯’।

আইসিডিডিআরবি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ব্র্যাক জেমস পি. গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ (জেপিজিএসপিএইচ) এবং সেভ দ্য চিলড্রেন, বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এবছর সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে অসংক্রামক ব্যাধির নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্ভাবনা’। সম্মেলনের অন্যান্য প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো হলো- স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসূচি, কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শহরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, দুর্যোগ-জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবিক পরিস্থিতির মতো বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা, কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসূচি এবং অসংক্রামক ব্যাধির প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ।

সম্মেলনে জানানো হয়েছে, বিগত ১০০ বছরে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা সফলভাবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, টিকাদান, সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, শিক্ষাদান এবং স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত পরামর্শ সেবাদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাদের এসব কাজের মাধ্যমে বিভিন্ন স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ সংক্রামক ব্যাধিজনিত মৃত্যুহার বিস্ময়করভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে রোগের ব্যাপকতা দ্রুত সংক্রামক থেকে অসংক্রামকের দিকে ধাবমান হওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা চিন্তা-ভাবনা করছেন, কীভাবে অসংক্রামক ব্যাধি শনাক্তকরণ, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা এবং রোগ উপশমকারী সেবায় কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে নিয়োজিত করা যায়।

বিভিন্ন দৃষ্টান্ত থেকে দেখা গেছে যে, কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদানের ফলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা গ্রহীতার সংখ্যা এবং হাসাপাতালে ভর্তির হারও কমেছে, ফলে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত ব্যয় লাঘব হয়।

সম্মেলনটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ সাপোর্ট ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাসসের আলী।

তার বক্তব্যে তিনি এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের বাংলাদেশে স্বাগত জানান এবং বলেন, বাংলাদেশে টিকাদান, অপরিহার্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং পরিবার পরিকল্পনা প্রসারে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য। স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলো- কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, যা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য দৃষ্টান্ত স্বরূপ।

আইসিডিডিআর,বি’র হেলথ সিস্টেমস অ্যান্ড পপুলেশন স্টাডিজ ডিভিশনের সায়েন্টিস্ট ও শেয়ার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. ইকবাল আনোয়ার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং ইউনিসেফ, যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র অ্যাডভাইজার ড. রোরি নেফত ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ২.০: অ্যালমা-অ্যাটা থেকে অ্যাসটানা’ শিরোনামের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকার ধামরাইয়ের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সুবেদী গোস্বামী, উগান্ডার হেলথ সিস্টেমস গ্লোবাল থেমাটিক ওয়ার্কিং গ্রুপের সহ-সভাপতি ড. ডেভিড মুসোক, আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. জন ডি ক্লেমেন্স, জেপিজিএসপিএইচ’র ডিন ও অধ্যাপক ড. সাবিনা ফায়েজ রশিদ, ডিএফআইডি বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুডিথ হার্বার্টসন, বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের ফার্স্ট সেক্রেটারি হ্যান্স ল্যামব্রেচট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ড. নাসিমা সুলতানা, ইথিওপিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. সেহারলা আবদুলাহি প্রমুখ।

সারা বিশ্ব থেকে আসা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সম্মেলনটিকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। ৩৫টি দেশ থেকে প্রায় ৫০০ নীতি-নির্ধারক, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গবেষকরা সম্মেলনে নিবন্ধন করেছেন। 

সম্মেলনে মোট ২৩২টি গবেষণা সারসংক্ষেপ (অ্যাবস্ট্র্যাক্ট) জমা পড়েছে। যার মধ্য থেকে ১৪১টি মৌখিক ও পোস্টার উপস্থাপনার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ থেকে ২০ জন নবীন অংশগ্রহণকারী তাদের অ্যাবস্ট্র্যাক্টের গুণগত মানের ভিত্তিতে বৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিভিন্ন দেশের কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রমের সাফল্য ও চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। 

আয়োজকরা জানান, এই সম্মেলন কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠী কীভাবে অসংক্রামক রোগ মোকাবিলা করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে একটি কৌশলপত্র প্রণয়নের সুপারিশমালা উপস্থাপন করবে। এই উদ্যোগ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।

২০১৭ সালে উগান্ডার কাম্পালায় ‘প্রথম আন্তর্জাতিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসূচির অবদান তুলে ধরা হয়। 

বাংলাদেশ সময়: ১৪১৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ২২, ২০১৯
এমএএম/এসএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-11-22 14:16:10