bangla news

বায়ুদূষণ সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধে যা খাবেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১১-০৫ ৯:৫২:০৬ এএম
ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

পরিবেশ দূষণ দিনদিন বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বায়ুদূষণ। একসময় যাদের শ্বাসকষ্ট ছিল না, আজকাল তাদেরও শ্বাসকষ্টসহ শ্বাসতন্ত্রের অন্য সমস্যা বাড়ছে। এই সমস্যার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্যে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

দূষিত বায়ুতে রয়েছে ওজন, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, যানবাহনের কালো ধোঁয়াসহ অসংখ্য ক্ষতিকর পদার্থ। আমাদের ফুসফুসে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এই তীব্র বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে আর যথেষ্ট নয়। তাই বায়ুদূষণ সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

ভিটামিন সি

শরীরের সবচেয়ে জরুরি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হচ্ছে ভিটামিন সি। এটি পানিতে দ্রবীভূত হয়। তাই আমাদের সারা শরীরে উপস্থিত এই ভিটামিন শরীরের সব ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন ই তৈরিতেও ভূমিকা রাখে এটি। ফুসফুসে ভিটামিন সি’র পরিমাণ ঠিক রাখতে প্রতিদিন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রয়োজন ৪০ গ্রাম ভিটামিন সি। ধনেপাতা, বাঁধাকপি, শালগমসহ সব ধরনের সবুজ শাক-সবজিতে ভিটামিন সি রয়েছে। আমলকি, কমলা, পেয়ারা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল। এছাড়া, সাইট্রাসযুক্ত ফলগুলোতে ভিটামিন সি সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রতিদিন লেবুর শরবত খেলে শরীরে এর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব সহজেই।

ভিটামিন ই

ভিটামিন ই চর্বিতে দ্রবীভূত হয়। শরীরের কোথাও আঘাত পেলেই রক্ত পড়া বন্ধ করে টিস্যু পুনর্গঠন করে সুরক্ষা দেয় এই ভিটামিন। সূর্যমুখী, পিনাট, ক্যানোলা ও  জলাপাইয়ের তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে। অ্যালমন্ডসহ সব বাদাম ও সূর্যমুখীর বীজে এটি থাকে। তবে, এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চর্বিও থাকে, তাই প্রতিদিন এক আউন্স খাওয়াই যথেষ্ট। মরিচের গুঁড়া, লঙ্কা, লবঙ্গসহ বেশকিছু মশলায় এই ভিটামিন আছে। রান্নায় এসব ব্যবহার করতে পারেন।

বিটা ক্যারোটিন

শরীরের প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে বিটা ক্যারোটিন। শরীরে তা ভিটামিন এ হিসেবে রূপান্তর হয়। ধনে, লেটুস, পুদিনা পাতা, মেথি, লালশাকসহ বিভিন্ন শাকে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন থাকে। গাজরসহ রঙিন সবজিও বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের ওপর বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে বাধা দেয় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। সরিষাসহ বিভিন্ন বীজ ও বাদামে এটি থাকে। স্যালমন, ট্রাউট, টুনা, সারডিনস- এসব সামুদ্রিক মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ।

আয়ুর্বেদিক ওষুধ

আয়ুর্বেদিক ওষুধি ও মশলা শ্বসনতন্ত্র সুরক্ষা করে। হলুদ অনেক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। ঘিয়ের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খেলে কাশি ও অ্যাজমার সমস্যা কমবে। এছাড়া গুড় ও মাখনের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খেলেও উপকার হবে। পেঁয়াজের রসের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খেলে কফ ও খুসখুসে কাশি থেকে মুক্তি মিলতে পারে। ঘুমের আগে ও ঘুম থেকে ওঠে হরতকি ও গুড় খাওয়া শ্বাসনালীর জন্যে ভালো। আদা, তুলসি, পুদিনা পাতা- এসবই শ্বসনতন্ত্র সুরক্ষা করে।    

বাংলাদেশ সময়: ০৯৫০ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৫, ২০১৯
এফএম/এএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-11-05 09:52:06