[x]
[x]
ঢাকা, শনিবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৫, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
bangla news

ঢামেক হাসপাতাল উন্নীত হবে ৫ হাজার বেডে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৯-১২ ৪:৫১:২২ পিএম
কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ অতিথিরা, ছবি: বাংলানিউজ

কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ অতিথিরা, ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালকে পাঁচ হাজার বেডে উন্নীত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বার যদি আমরা আবার ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে শুরুতেই এ কাজটি সম্পাদন করবো। আর এর মাধ্যমে আমরা উন্নত বিশ্বের সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য সেবার তুলনা করতে পারবো।

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে এতোটা উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল বিষয়ে অবগত থাকেন এবং সকল বিষয়ে জ্ঞান ধারণ করেন। তার নির্দেশনাতেই সকল উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পাদন হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া অবৈধ জায়গা উচ্ছেদ করে ৫০০ বেডের শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ২০ অক্টোবর উদ্বোধন করা হবে। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) বর্ধিত অংশও ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন।

কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বিষয়ে তিনি বলেন, গরিব অসহায় মানুষ এই সরকারের সহযোগিতা না পেলে এ ধরনের চিকিৎসার আওতায় আসতে পারতো না। প্রতিবন্ধীরাও স্বপ্ন দেখে চিকিৎসার। আমাদের সরকার তাদের স্বপ্ন পূরণের কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এই কাজ এর আগে কেউ কখনও করেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূলত ‘অন্ধকার’ বাংলাদেশকে আলোকিত বাংলাদেশ বানিয়েছেন।

এসময় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতারা বলেছেন তারা নির্বাচন করতে দেবেন না। কিন্তু তারা সংবিধানের বিরোধিতা করছেন স্বৈরাচারী আচরণের মাধ্যমে। সংবিধানকে বাদ দিয়ে কিছুই হবে না। আমি তাদের আহবান জানাবো আপনারা নির্বাচনের উদ্দেশে খেলার মাঠে আসেন। আর খেলার মাঠে ফাউল করলে লাল কার্ড দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ১২টি দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের হাতে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বরাদ্দপত্র তুলে দেন।

জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত প্রমুখ।

বাংলাদেশে দুই হাজার ৬০০ বধির বা শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু প্রতি বছর জন্মগ্রহণ করে। এক লাখের ওপর বধির জনগোষ্ঠীর কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট করা প্রয়োজন। এর মধ্যে ৩০০ জনকে এর আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এই হাসপাতালটিকে উন্নতকরণ ও রোগীদের সহায়তা করা হচ্ছে। যেখানে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ছাড়াও হেয়ারিং এইড দেওয়া হচ্ছে।

সাধারণত ১৫ লাখ টাকা খরচ হয় কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের ক্ষেত্রে। কিন্তু সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারির এ চিকিৎসা সম্পন্ন হচ্ছে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মাধ্যমে এ সেবা চলছে।

বিএসএমএমইউ’র নাক-কান-গলা বিভাগের ও কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাত জোয়ার্দারের নেতৃত্বে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। এদের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় বার যাদের ইমপ্লান্ট করা হয়েছে তারা স্বাভাবিকভাবে কথা বলা এবং শোনা ছাড়াও বর্তমানে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।

এদিকে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আমরা ১০ লাখেরও কম টাকায় কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বিতরণ করছি। বাইরে যার খরচ ১৫ লাখেরও বেশি। দেশে প্রায় দেড় কোটির বেশি শ্রবণ প্রতিবন্ধী রয়েছে। সে তুলনায় আজ মাত্র ৪০ জনকে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বিতরণ করা হচ্ছে। যা খুব অল্প সংখ্যক হলেও আমরা শুরু করেছি। বর্তমান বাংলাদেশে ৬০ ভাগের বেশি মানুষ নন-কমিউনিকেবল রোগে মারা যাচ্ছে। কমিউনিকেবল রোগে কেউ মারা যাচ্ছে না। এই ধরনের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কাজ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় চালিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। তারা আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী এলাকার আড়াই বছর বয়সী মেয়ে কথা বলতে পারে না, কানেও শুনতে পায় না। আনসারা খাতুন ও আব্দুল কাদের দম্পতির এ শিশুটি পেয়েছে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বরাদ্দপত্র। খুব দ্রুত তাদের মেয়ের অপারেশনটি সম্পন্ন হবে।

বাংলানিউজকে তারা জানান, অপারেশনের মাধ্যমে যন্ত্রটি লাগানো হলে শিশু সায়মা কথা বলতে পারবে এবং কানেও শুনতে পাবে। সরকারকে এ সহযোগিতার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮
এমএএম/টিএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa