ঢাকা, সোমবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

স্বাস্থ্য

প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কম পায় ৬৩ ভাগ রোগী

আয়নাল হক, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৪৯ ঘণ্টা, মার্চ ৩১, ২০১৫
প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কম পায় ৬৩ ভাগ রোগী

নেত্রকোনা: ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) অনুযায়ী খুব কম ওষুধ পান শতকরা ৬৩ ভাগ রোগী। এছাড়া হাসপাতালে  আসা ৩৩ ভাগ মা ও শিশুর জন্য সেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।



সম্প্রতি সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) কর্তৃক নেত্রকোনা জেলার স্বাস্থসেবা প্রতিষ্ঠান ও সেবা গ্রহণকারীদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে বিরাজমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা, কর্মদক্ষতা নিরুপণ, দরিদ্র্য ও প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে এলাকার জনগণের মধ্যে সচেতনতা এবং জনমত তৈরির উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এ জরিপ সম্পন্ন হয়।

পাশাপাশি জরিপের গবেষণা প্রতিবেদনে সেবা গ্রহণকারী সরকারি সেবার পর্যাপ্ততা, মান, দুর্বলতা এবং সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের স্বক্ষমতারও বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

এ জরিপের জন্য জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়, কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ওই উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, কান্দিউড়া ইউনিয়নের জালালপুর ও বিষ্ণুপুর কমিউনিটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক ও এখানে আগত সেবা প্রদানকারী, সেবা গ্রহণকারী ও জনপ্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

জরিপ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,  কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রসূতি ও নবজাতকের জন্য টিকার ব্যবস্থাসহ সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কমিটির সদস্যরা নিয়মতি মিটিং করেন।

এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবার সুবিধা রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা উপকরণ ও পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মচারী সংকট রয়েছে।

এসব কেন্দ্রে শুধু জ্বর, সর্দি-কাশি, পরিবার পরিকল্পনা ও ডায়রিয়ার ওষুধ দেওয়া হয়।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর শৌচাগার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলেও বিশুদ্ধ পানির তেমন ব্যবস্থা নেই। এসব কেন্দ্রে  সেবা প্রদানকারীরা রোগীদের সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শুনলেও কোনো প্রেসক্রিপশন দেন না। তবে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যথেষ্ট চিকিৎসক রয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে।

এছাড়া এখানে মা ও শিশুর প্রয়োজনীয় সেবা অপ্রতুল এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কোনো তালিকা নেই। উপরন্তু বাজেট ঘাটতি থাকায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের শতকরা ৩৩ ভাগ জানিয়েছেন, সেবাকেন্দ্রগুলোতে টেলিমেডিসিনের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যান্য সুবিধাও রোগীরা ভালোভাবে পান।

একই পরিমাণ সেবা প্রদানকারীরা জানান, এসব কেন্দ্রে মা ও শিশুর জন্য পর্যাপ্ত সেবার ব্যবস্থা নেই।

তারা জানান, মাত্র অর্ধেক কেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকলেও সচল নেই একটিও। সবগুলো কেন্দ্রে বিনামূল্যে ওষুধের সুবিধা থাকলেও কোনো ওষুধই পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই।

সাক্ষাৎকার দাতাদের বেশিরভাগই ওষুধসহ অন্যান্য সুবিধার ব্যাপারে ও প্রদেয় সরকারি ভতুর্কির ব্যাপারে জানেন না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারীদের শতকরা ৬৫ বলেন, চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় না। শতকরা ৬৩ ভাগ বলেছেন, ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী তা‍রা খুব কম ওষুধ পান।

এদের মধ্যে শতকরা ১২ জন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করান। অভ্যন্তরীণ রোগীর সবাই ওয়ার্ডে সিট পান এবং নার্স ও চিকিৎসকের সেবার মান নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে  হাসপাতালের কল্যাণ তহবিল বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

এদিকে, জরিপ শেষে প্রতিবেদন নিয়ে নেত্রকোনা প্রেসক্লাবে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সভায় কিছু জেলার স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে সমস্যা নিরসনে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এছাড়া সভায় একটি অ্যাকশন প্লান তৈরি হয় এবং তা বাস্তবায়নে ১১ সদস্যের একটি নাগরিক সহায়ক দল গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৮ ঘণ্টা, মার্চ ৩১, ২০১৫

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa