ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

স্বাস্থ্য

পরিকল্পতভাবে ডা. মুরাদকে হত্যার অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৪০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৪
পরিকল্পতভাবে ডা. মুরাদকে হত্যার অভিযোগ

ঢাকা: সাভারের গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাকলুকুর রহমান মুরাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।



সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও মানবন্ধন করে এ দাবি জানান নিহত মুরাদের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার স্ত্রী শাকিলা রহমান।

তিনি বলেন,‘ ঘটনার পর মুরাদের টিমের অন্যান্য চিকিৎসকের
বক্তব্য ও আচরণ ছিল সন্দেহজনক। পানিতে ডুবে নয় তাকে (ডা. মুরাদ) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। ’

এ ঘটনায় পুলিশের ভ‍ূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের স্ত্রী শাকিলা রহমান বলেন,‘ এ মামলায় পুলিশের ভূমিকা নেতিবাচক। ’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী নিবন্ধক ডা. মাকলুকুর রহমান মুরাদ গত বছরের ৬
ডিসেম্বর টিম নিয়ে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সামুদাবাদে গিয়েছিলেন। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ও‌ই এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়েছিলেন তারা।

কিন্তু ওই দিন বিকেলেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর ৯ ডিসেম্বর রোববার সেখানকার একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে মুরাদের লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাভারের কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন ইর্ন্টান ও শিক্ষার্থীরা।


ডা. মুরাদের স্ত্রী শাকিলা রহমান বলেন, গলাচিপায় যাওয়ার পর ওই দিন (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে মুরাদের সঙ্গে মুঠোফোনে শেষ কথা হয়। চিকিৎসকদের টিমে ছিলেন দুজন নারীসহ সাতজন। এ সময় সিনিয়র চিকিৎসকরা দরজা বন্ধ করে ঘুমুচ্ছেন বলে রুমের বাইরেই ছিলেন মুরাদ। কথার একপর্যায়ে কেউ আসছেন বলে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন মুরাদ।

‘এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি’--বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন শাকিলা।

শাকিলা বলেন,‘বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে ওই চিকিৎসক দলের সমন্বয়ক ডা. আব্দুল কাদের, ডা.
মিজান এবং গলাচিপা থানার ওসি শিশির কুমার পালের সঙ্গে কথা বললে তারাও  বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকেন। ’

এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওসি শিশির কুমার পাল আপত্তিকর ও বাজে আচরণ বলেও অভিযোগ করেন নিহত চিকিৎসক মুরাদের স্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন,‘একমাত্র ছেলেকে অনেক স্বপ্ন আর আশা নিয়ে ডাক্তারি পড়িয়েছিলাম। কিন্তু আমার সব ধ্বংস হয়ে গেলো।   ঘরে বাতি দেওয়ার মতো আর কেউ রইল না। ’

এ সময় অন্যদের মধ্যে ডা. মুরাদের মা মোমেনা বেগম এবং মামা
আজগর আলী খান মনোয়ারসহ সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৪২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৩

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa