bangla news

জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ সৈয়দ মোদাচ্ছেরের

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১২-০৭-১০ ৬:৩২:২৮ এএম

দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির এ হার অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে তা দ্বিগুণ হবে। উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়।

ঢাকা: দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির এ হার অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে তা দ্বিগুণ হবে। উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী।   

বুধবার সারা দেশে ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পালিত হবে।

মোদাচ্ছের আলী বলেন, “১৯৬০ সালে এ ভূখণ্ডের মোট জনসংখ্যা ছিলো মাত্র এক কোটি, যা বর্তমান সময়ে ১৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।”

পরিবার পরিকল্পনা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “১৯৭৫ সালে এ হার ছিলো ৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ২ শতাংশ।”

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, “জন্মনিরোধক সামগ্রী ব্যবহারের হার (সিপিআর) বৃদ্ধির সঙ্গে টোটাল ফার্টিলিটি রেট বা মোট জন্মহার (টিএফআর) ও অপূর্ণ চাহিদা হ্রাসের একটি সম্পর্ক রয়েছে।”

‘‘সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে জনউর্বরতা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছি’’ উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “ইতিমধ্যে আমরা খুলনা বিভাগে অপূর্ণ চাহিদা হ্রাসের বিপরীতে জনউর্বরতা অর্জন করেছি। ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগ কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।”

শিশু মৃত্যুহারে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে উল্লেখ করে সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টির ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।”

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রæতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শিশু জন্ম নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থার দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে ৩ হাজার মিডওয়াইফকে প্রশিক্ষণ, ৪২৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মী নিয়োগ, ৫৯ জেলা হাসপাতালের মানোন্নয়ন এবং ৭০টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে জরুরি প্রসূতি সেবা দিতে বিশেষায়িত সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

কিশোরীদের গর্ভধারণ হ্রাসে সামাজিক অংশগ্রহণ ও নূন্যতম বয়স সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ, এক তৃতীয়াংশ মাতৃপুষ্টি ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মানোন্নয়ন করে প্রজনন স্বাস্থসেবা অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান উপদেষ্টা।

পরিবার পরিকল্পনা অপূর্ণ চাহিদার হার ২০১৫ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে আনার দাবি করে উপদেষ্টা বলেন, “এ সময়ের মধ্যে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।”

মোদাচ্ছের আলী আরো বলেন, “জনসংখ্যার প্রায় ২৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরীকে যদি প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা দিযে সচেতন করা যায়, তাহলে আমরা সুস্থ জাতি পাবো। সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করছে।”

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুজিবর রহমান ফকির, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. সেফায়েত উল্লাহ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।  

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মুজিবর রহমান ফকির বলেন, “সরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জনসংখ্যা নীতিমালা চুড়ান্ত করছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নীতিমালা অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।”

বাংলাদেশ সময়:  ১৬৩০ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১২
এসএমএ/ সম্পাদনা : অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2012-07-10 06:32:28