bangla news

আ’লীগ বিকম, বিএনপি অষ্টম!

|
আপডেট: ২০১৫-১২-১৭ ১:৪৩:০০ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর চেয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাকজিল খলিফা কাজল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব কমার্স (বিকম) পাস করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর চেয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাকজিল খলিফা কাজল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব কমার্স (বিকম) পাস করেছেন।

অপরদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মন্তাজ মিয়া স্থানীয় বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেছেন। নির্বাচন কমিশনে প্রার্থী কর্তৃক পূরণ করে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে জমা দেওয়া হলফনামা সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

হলফনামায় দেখা যায়, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাকজিল খলিফা কাজলের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার কলামে বিকম উল্লেখ করা হয়েছে।

অপরদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মন্তাজ মিয়ার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার কলামে অষ্টম উল্লেখ করা হয়েছে। কাজল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে বিকম পাস করেন।

মন্তাজ মিয়া স্থানীয় দেবগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাকজিল খলিফা কাজলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সাতটি ফৌজদারি মামলা ছিল। এর মধ্যে আখাউড়া থানায় পাঁচটি ও আখাউড়া রেলওয়ে থানায় দুটি। অবশ্য সবগুলো মামলা থেকেই তিনি খালাস পেয়েছেন।

অপরদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মন্তাজ মিয়ার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা ছিল। ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৯ ধারা মতে তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

হলফনামায় মেয়র প্রার্থী তাকজিল খলিফা কাজল উল্লেখ করেছেন, তিনি পৌর এলাকার রাধানগর জাহানারা কুটিরের বাসিন্দা মৃত আব্দুছ ছাত্তার ও মৃত জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি ১৯৭৩ সালের ৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পেশা হিসেবে তিনি আমদানি ও রফতানি ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন।

হলফনামায় উল্লেখ করা তার বার্ষিক আয়ের খাতগুলো হলো- বেতন বাবদ এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার নগদ রয়েছে ৬০ হাজার টাকা, ব্যাংকে ১০ হাজার, স্বর্ণালংকার রয়েছে ২১ ভরি। তার নিজের নামে কোনো কৃষি জমি নেই, যৌথ মালিকানায় চার শতক অকৃষি জমির মধ্যে তিনি এক-পঞ্চমাংশের অংশীদার।

হলফনামায় মেয়র প্রার্থী মন্তাজ মিয়া উল্লেখ করেছেন, তিনি পৌর এলাকার দেবগ্রাম গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়া ও হাজেরা খাতুনের ছেলে। ১৯৫৬ সালের ০১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পেশা হিসেবে তিনি মুদি ও স্টেশনারি ব্যবসার (ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ) কথা উল্লেখ করেছেন।

হলফনামায় উল্লেখ করা তার বার্ষিক আয়ের খাতগুলো হলো- কৃষি খাতে ২০ হাজার, ব্যবসা খাতে দুই লাখ ৩১ হাজার টাকা ও কাউন্সিলর হিসেবে সম্মানি ভাতা (সংখ্যা উল্লেখ করেননি)। তার নগদ রয়েছে দুই লাখ টাকা, ব্যাংকে ৮৫ হাজার, স্বর্ণালংকার রয়েছে ১০ ভরি। তার নিজের নামে ৩০ শতক কৃষি জমি ও স্ত্রীর নামে ১৪ শতক কৃষি জমি রয়েছে। এছাড়া ৪৫ শতক অকৃষি ও ১৪ শতক ভিটেবাড়ি রয়েছে।

ফরম-‘ঢ’ তে অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎস হিসেবে তাকজিল খলিফা কাজল উল্লেখ করেন, নির্বাচনে ব্যয়ের জন্য প্রবাসে থাকা ভাই নেছার আহমেদ খলিফা’র কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিবেন। এই টাকার মধ্যে তিনি পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল বাবদ ৬৫ হাজার টাকা, নির্বাচনী ক্যাম্প বাবদ ৩০ হাজার টাকা, যাতায়ত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, পথসভা বাবদ ২০ হাজার টাকা, মাইকিং বাবদ ১৫ হাজার টাকা, কর্মীদের খরচ বাবদ ৯ হাজার টাকা, আপ্যায়ন বাবদ ১৬ হাজার টাকা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা ও বিবিধি পাঁচ হাজার টাকা খরচ করবেন।

অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎস হিসেবে মন্তাজ মিয়া উল্লেখ করেন, নিজ ব্যবসা ও বিদেশ থেকে ছেলের পাঠানো টাকায় তিনি নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করবেন। এই টাকার মধ্যে তিনি পোস্টার, লিফলেট, মাইকিং বাবদ ৪৯ হাজার টাকা, নির্বাচনী ক্যাম্প বাবদ ২০ হাজার টাকা, প্রার্থীর কেন্দ্রীয় ক্যাম্প বাবদ ১০ হাজার টাকা, যাতায়ত বাবদ ২০ হাজার টাকা, ঘরোয়া বৈঠক বাবদ ১০ হাজার টাকা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অফিস আপ্যায়ন ও কর্মী খরচ বাবদ ২১ হাজার টাকা ও আরো ২৩ হাজার টাকা বিবিধ খরচ করবেন।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়র, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মেয়র পদে ৫ জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আলাউদ্দিন আল-মামুন জানান, ইতোমধ্যে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে মাঠে একজন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। প্রার্থীদেরকে আচরণ বিধি মানার বিষয়ে সচেতন করতে আগামী ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে ৫৩ জন প্রার্থীকে নিয়ে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভা করা হবে। সেখানে তাদের এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হবে।

১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু  করা 'খ' শ্রেণির এ পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২৪ হাজার ৯৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ৪৯২ জন ও নারী ভোটার ১২ হাজার ৪৫৮ জন।

বাংলাদেশ সময়: ১২৪৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৫
এসএইচ/

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2015-12-17 01:43:00