[x]
[x]
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
bangla news

শিশুদের হাতে যখন অটোরিকশার হ্যান্ডেল

|
আপডেট: ২০১৫-১১-১৬ ৯:০৩:০০ পিএম
ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সমবয়সী অন্য দশজনের মতো স্কুলে যায় না সাগর। বয়স ১০ বা ১২। অথচ এ বয়সেই জীবিকার তাগিদে বসতে হয়েছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার চালকের আসনে। মায়ের হাত শক্ত করে ধরে থাকার বয়সে শিশুটির হাত রিকশার হ্যান্ডেলে।

ময়মনসিংহ: সমবয়সী অন্য দশজনের মতো স্কুলে যায় না সাগর। বয়স ১০ বা ১২। অথচ এ বয়সেই জীবিকার তাগিদে বসতে হয়েছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার চালকের আসনে। মায়ের হাত শক্ত করে ধরে থাকার বয়সে শিশুটির হাত রিকশার হ্যান্ডেলে।

দিন-রাত খাটুনি। অতঃপর ক্লান্ত দেহে বাড়ি ফেরা। ন্যূনতম ধারণা নেই ড্রাইভিংয়ের। জ্ঞান নেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কেও। ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজ বোঝার বয়স না হলেও, থেমে থাকে না ব্যস্ত সড়কে অটোরিকশা নিয়ে ছুটে বেড়ানো।

বুধবার (১১ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে নগরীর নতুন বাজার মোড় এলাকায় অটো রিকশা নিয়ে দাবড়ে বেড়াতে দেখা গেলো শিশু সাগরকে। শুধু সাগরই নয়, নগরীতে তার বয়সী অটোরিকশা চালকের সংখ্যা কম করে হলেও শতাধিক।

পারিবারিক অস্বচ্ছলতা আর জীবিকার তাগিদেই তাদের ধরতে হচ্ছে অটোরিকশার হাতল। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিবারের অভিভাবকদের উদাসীনতাও শিশু-কিশোরদের ঠেলে দিচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজে।

নতুন বাজার মোড় এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন যাত্রী নিয়ে সাগর যখন ছুটলো সানকিপাড়া শেষ মোড় এলাকার দিকে, তখনই বেজে উঠলে তার মুঠোফোন।

এক হাতে মোবাইল, আর অন্য হাতে হ্যান্ডেল ধরে এগুচ্ছিলো আর বলছিলো, অহন (এখন) আর ট্রিপ মারমু না। সানকিপাড়া যাইতাছি। গাড়ির চার্জ শেষ। তাড়াতাড়ি বাড়িত আমু (আসবো)।

নগরীর আকুয়া চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় বাড়ি সাগরের। বাবা নুরুল আমিন পানের দোকানি। একমাত্র বড় ভাই সোহেলও (৩০) অটো রিকশা চালক। মাস কয়েক আগে বড় ভাইয়ের হাত ধরেই শিখেছেন অটোরিকশার চালানো। পড়াশোনার দৌড় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত।

ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজে আসার পেছনের গল্প শোনা গেলো তার মুখ থেকে, সংসারে অভাব-অনটন। লেহাপড়া করতে ভালা লাগে না। আব্বা আমারে এই অটোরিকশা কিইন্ন্যা (কিনে) দিছে। আমি ভাইয়ের কাছ থেকে দেইখ্যা দেইখ্যা এইড্যা চালানো শিখছি।

সাগরের মুখ থেকেই জানা গেলো, তার মতো এমন কম বয়সী অটোরিকশা চালকের সংখ্যা কম করে হলেও শতাধিক হবে। খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে বাধ্য হয়েই তারা অটোরিকশা চালাতে শুরু করেছে।

তবে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের রহস্যময় নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে অনভিজ্ঞ-আনাড়ি এমন চালকদের কারণে নগরীতে মাঝে মধ্যেই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। একই সঙ্গে শ্রম আইন বাস্তবায়নেও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ থেকে ১৬ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। অথচ মাত্র সাড়ে ৭শ অটোরিকশাকে লাইসেন্স দিয়েছে ময়মনসিংহ পৌরসভা। বৈধ-অবৈধ অটোরিকশার কারণেই নগরীর গুরুত্বপ‍ূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট এখন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভিন্ন সময় যানজট এড়াতে প্রশাসন অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা চলাচলে নগরীতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও, কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না অনুপ্রবেশ। এক্ষেত্রে বেশ চতুর অটোরিকশা চালকরাও।

একটি অটোরিকশার লাইসেন্স দিয়ে কোনো কোনো মালিক চার থেকে পাঁচটি অটোরিকশাও নগরীতে চালাচ্ছেন। অবৈধ অটোরিকশা চলাচলের জন্য ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি নগরবাসী সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতাদেরও দায়ী করেন।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নিয়মিত চলাচল করেন খাদ্য বিভাগের চাকুরে পাঠান ফয়সাল।

কমবয়সী আনাড়ি ও অদক্ষ চালকদের কারণেই ছোটখাটো অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে অভিযোগ করে বলেন, এসব শিশুদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই। চালক হিসেবে যেমন ন্যূনতম দক্ষতা নেই, তেমনি ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। যাত্রীবহন করার শক্তিও নেই তাদের। এদের অটোরিকশায় উঠতেই ভয় করে। কিন্তু দিন দিন তাদের সংখ্যা বেড়েই চলছে।

গোলাম মোস্তফা (৪৫) নামে এক অটোরিকশা চালকের বক্তব্যও এক, কোনোরকম অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা বেপরোয়া গতিতে অটোরিকশা চালায়। তাদের গাড়ি চালানোর স্টাইলই ভয়ঙ্কর।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

বাংলাদেশ সময়: ০৭৫১ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৭, ২০১৫
এসএস

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14