ঢাকা, শুক্রবার, ৮ চৈত্র ১৪২৫, ২২ মার্চ ২০১৯
bangla news
কনক চাঁপার সঙ্গে কিছুক্ষণ

‘শীতে আমার আঁকা ছবির প্রদর্শনী করবো’

1710 |
আপডেট: ২০১৫-১০-২৮ ৮:৩৩:০০ এএম
কনকচাঁপা

কনকচাঁপা

কনক চাঁপা, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে আরটিভির ‘মিউজিক স্টেশন’ অনুষ্ঠানে সরাসরি গান গাইবেন তিনি। সঙ্গে থাকবেন কিরণ চন্দ্র রায়। শচীন দেব বর্মণের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কেবল তারই গান গাইবেন শিল্পীরা।

কনক চাঁপা, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে আরটিভির ‘মিউজিক স্টেশন’ অনুষ্ঠানে সরাসরি গান গাইবেন তিনি। সঙ্গে থাকবেন কিরণ চন্দ্র রায়। শচীন দেব বর্মণের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কেবল তারই গান গাইবেন শিল্পীরা।

এদিকে কনক চাঁপা সম্প্রতি একটি ছবিতে প্রথমবারের মতো গেয়েছেন খুরশীদ আলমের সঙ্গে। আরও কিছু নতুন পরিকল্পনাও সাজিয়েছেন জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী। বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
  
বাংলানিউজ: শচীন কর্তার গান নিয়ে তো আপনি একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম করেছিলেন?
কনক চাঁপা: হ্যাঁ। এর নাম ছিলো ‘কে যাস রে’। আমার মৌলিক গানের অ্যালবাম ‘তালপাতার বাঁশি’ প্রকাশের সময়ই এটি বের হয়েছিলো ২০০২ অথবা ২০০৩ সালের দিকে।

বাংলানিউজ:  অনুষ্ঠানে কোন গানগুলো শোনাবেন?
কনক চাঁপা: দু’জন মিলে প্রায় ২০টি গান গাইবো। এর মধ্যে ৮-১০টি গান করবো আমি। শচীন দেব বর্মণের সব গানই তো শ্রোতাদের শোনা। এর মধ্যে ‘কে যাস রে’, ‘রঙিলা রঙিলা’, ‘নিটোল পায়ে’সহ আরও কিছু গাইবো। অপ্রচিলত গানের মধ্যে আছে ‘না আমারই শশী যেও না’।

বাংলানিউজ: শচীন দেব যুগ যুগ ধরে বেঁচে আছেন তার সুরের সৃষ্টিতে। তার কাজে আপনি কতোটা উদ্বুদ্ধ হন?
কনক চাঁপা:  পঞ্চকবি তো আছেনই। শচীনকর্তাও যুক্ত হতে পারেন এই তালিকায়। শচীন কর্তাকে নিয়ে ষষ্টকবির গান হলে খুব ভালো হতো। আমার কাছে তিনি এতোটাই প্রাসঙ্গিক আর আধুনিক। কী লোকগান, কী ক্লাসিক্যাল- দুই মাধ্যমেই তিনি সফল, কালজয়ী। আর আমার মনে হয়, তার গায়কী নিয়েও গবেষণা হতে পারে। ফোকলোর গবেষকরা এই দিকটায় নজর দিতে পারেন। তিনি সুর বাঁধতেন আর গাইতেন, গান লিখতেন তার স্ত্রী মীরা দেব বর্মণ- সব মিলিয়ে সোনায় সোহাগা ব্যাপার ছিলো। শচীন দেব বর্মণ তো রাজা ছিলেন। সেই জায়গা থেকে তার এসব সৃষ্টি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর খুব ভালোভাবে মিশে গেছে সাধারণ মানুষের মননে। এটাও বেশ ভাবার বিষয়।

বাংলানিউজ: তরুণ প্রজন্ম টিভি অনুষ্ঠানে কালজয়ী শিল্পী-সুরকারদের গান করছেন। তাদের পরিবেশনা নিয়ে কথা উঠছে। বেসুরো গাওয়ার অভিযোগও আছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
কনক চাঁপা:  বাচ্চাদের (তরুণ প্রজন্মের শিল্পী) দোষ দিয়ে কী হবে? তারা যতটুকু পারছে, করছে। চ্যানেল কর্তপক্ষ যেটা করতে পারে- শিল্পী নির্বাচনের বেলায় আরেকটু সচেতন হতে পারে। কারও গান ট্রিবিউট করার ক্ষেত্রে একজন গুণী সংগীতকারকে রাখা যেতে পারে এই দায়িত্বে। তিনি অনুষ্ঠানের আগের দিন মহড়া করাবেন, ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেবেন। এমনকি তরুণ শিল্পীরা কীভাবে কথা বলবে, কীভাবে বসবে সেটাও শিখিয়ে দেবেন। কারণ এখন শুধু বেসুরো গান গাওয়া নয়, টিভি পর্দায় ওদের বসার ভঙ্গি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সত্যি বলতে, তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার আস্থা আছে। ওদের অনেকেই ভালো করছে। কারও মধ্যে কিছু ত্রুটি ধরা পড়লে, যতোটা সুযোগ হয় সরাসরি বুঝিয়ে বলি আমি। বড়দেরকে এভাবে, অভিভাবকের মতো ওদের পাশে থাকতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, সুন্দরভাবে বললে ওরা সবই গ্রহণ করবে।
 
বাংলানিউজ: গুণী শিল্পী খুরশীদ আলমের সঙ্গে প্রথমবার গেয়েছেন। অনুভূতি কেমন?
কনক চাঁপা:  আমি প্রথমবার শুনেই রাজি হয়েছি। চলচ্চিত্রে এতো গান করেছি কিন্তু সহশিল্পী হিসেবে কখনও খুরশীদ আলমকে পাইনি। নতুন গানটি গেয়েছি ‘মায়া ডোরে বাঁধা’ নামের একটি ছবির জন্য। পরিচালক এস এম জাহিদ। এর কথা, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন  বিলাস চৌধুরী। মজার ব্যাপার হচ্ছে, গানটিতে খুরশীদ আলম আর আমার পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েছেন সৈয়দ আব্দুল হাদী।

বাংলানিউজ: গান নিয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনা করেছেন?
কনক চাঁপা:  আমার ছেলের (মাশুক ইসলাম খান) একটি পরিকল্পনা আছে। ওর তত্বাবধানে তিনটি গানে কণ্ঠ দিয়েছি। এর মধ্যে আছে একটি নজরুলসংগীত, একটি পুরনো হিন্দি ছবির গান (মোহে ভুল গ্যায়ি সাবেরিয়া) আর আমার ওস্তাদজির একটি গান। শ্রুতি স্টুডিওতে এগুলোর রেকর্ডিং আর ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। মাশুক গানগুলো ইউটিউবে ছাড়বে। সেটা হতে পারে আমার চ্যানেল বা ওর চ্যানেলে।

বাংলানিউজ: আগামী একুশে বইমেলায় কিছু প্রকাশ করছেন?
কনক চাঁপা:  সিলেটের এক ছেলে (রাশেদীন ফয়সাল) আমাকে মা বলে ডাকতো। কিছুদিন আগে সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ও ফেসবুক থেকে আমার কবিতা নিয়ে একটি পাণ্ডুলিপি সাজিয়েছিলো। ওর ইচ্ছে ছিলো নিজের প্রকাশনী (নাগরী প্রকাশনী) থেকে বইটি বের করবে। এটি সে চমক হিসেবে রেখেছিলো। কিন্তু ও এভাবে হারিয়ে যাবে- এমন চমকের জন্য আমি তৈরি ছিলাম না। এখন ভাবছি, ওর তৈরি করা পাণ্ডুলিপি দিয়েই বই করবো। বইটির নামও সে-ই ঠিক করেছে, ‘মেঘের ডানায় চড়ে’। প্রচ্ছদও ওর। নাগরী প্রকাশনী থেকেই প্রকাশ করবো বইটি। এ ছাড়া আরেকটি বই আসবে ওখান থেকে। বিভিন্ন পত্রিকায় আমি যে কলামগুলো লিখেছি, সেগুলোর সংকলন নিয়ে সাজানো হবে এটি।

বাংলানিউজ: আপনার ছবি আঁকার কী খবর? প্রদর্শনী করবেন?
কনক চাঁপা:  সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন থেকে আর শখে নয়, পেশাদারি মনোভাব নিয়ে ছবি আঁকবো। কারণ আমি আঁকতে জানি। ৪০-৪৫টি ছবি নির্বাচন করে রেখেছি। আগামী শীতে আমার আঁকা ছবির একটি প্রদর্শনী করবো।

বাংলাদেশ সময়: ১৮২৬ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৮, ২০১৫
এসও/জেএইচ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14