bangla news
শাহী জামে মসজিদে ইফতার

ভেদাভেদ ভুলে ধনী-গরীব এক কাতারে

973 |
আপডেট: ২০১৫-০৬-১৯ ১১:৪২:০০ এএম

মসজিদের খোলা বারান্দা। উপরে সামিয়ানা টাঙানো। সারিবদ্ধভাবে বসা কয়েক’শ মুসল্লি। ভেদাভেদ ভুলে ধনী-গরীব সবাই বসেছেন এক কাতারে। সামনে সাজানো বাহারি ইফতার। কেউ দোয়া-দরুদ পড়ছেন। কেউ করছেন ইফতারের ক্ষণ গণনা।

চট্টগ্রাম: মসজিদের খোলা বারান্দা।  উপরে সামিয়ানা টাঙানো।  সারিবদ্ধভাবে বসা কয়েক’শ মুসল্লি।  ভেদাভেদ ভুলে ধনী-গরীব সবাই বসেছেন এক কাতারে।  সামনে সাজানো বাহারি ইফতার। কেউ দোয়া-দরুদ পড়ছেন।  কেউ করছেন ইফতারের ক্ষণ গণনা।

শুক্রবার প্রথম রমজানে নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে গিয়ে দেখা যায় এ চিত্র।  প্রতিবছর রমজান মাসের শুরু থেকেই এখানে ইফতারের বিশাল আয়োজন করা হয়।  একই সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।

শাহী জামে মসজিদ মুসল্লি পরিষদ সূত্র জানায়, প্রথম থেকে ১০ রমজান পর্যন্ত এক হাজার ২০০ জনের ইফতারের আয়োজন থাকে।  ১০ রমজানের পর থেকে ১৫ রমজান পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার জনের ইফতারের ব্যবস্থা করেছি।  এরপর থেকে শেষ রমজান পর্যন্ত দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা রাখা হবে।

রমজানের শেষ দিকে লোকজন বেড়ে যায় বলে জানা গেছে।

ইফতার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে মুড়ি, খেজুর, চানাবুট, পেঁয়াজু, জিলাপি, সমুচা, আলুর চপ, শরবত ইত্যাদি। এর মধ্যে চানাবুট, পেঁয়াজু, জিলাপি, সমুচা, আলুর চপ তৈরি হয় রান্নাঘরে।  জিলাপি, মুড়ি ও শরবত বানানো হয় অন্য জায়গা থেকে।  মসজিদের নিজস্ব ডিপ টিউব অয়েল থেকে পানি সরবরাহ করা হয়। 

ইফতার করতে আসা স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বললেন,‘আমি নিয়মিত এখানেই ইফতার করি। সবার সঙ্গে ইফতার করায় বেশি ফজিলত।  তাই আসরের নামাজের পরপর এখানে ইফতারে শরিক হতে চলে আসি।’

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের খতিব সৈয়দ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন তাহের জাবেরী আল-মাদানীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং ইসলামী ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এ ইফতারের আয়োজন করা হয়। এর সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে শাহী জামে মসজিদ মুসল্লি পরিষদ।

জানা যায়, ১৯৯৬ সালের দিকে প্রথম মক্কা-মদিনার আদলে এ ধরনের ইফতারের রেওয়াজ চালু করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা এবং আলাপ-আলোচনা করতে থাকেন মসজিদের খতিব।  ২০০১ সাল থেকে চালু হয় ভিন্নধর্মী এ ইফতার।

প্রতিবছর চার-পাঁচজন বিত্তবান নিয়মিত সহযোগিতা দিয়ে আসছেন বিশাল এ কর্মযজ্ঞে।  তবে তারা সবাই নিজেদের পরিচয় গোপন রাখেন।  আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এ মহৎ কাজে শরিক হন তারা। এ ছাড়া অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন এখানে।  কিন্তু তাও পরিচয় গোপন রেখে।

প্রতিদিন সকাল থেকেই চলে ইফতার তৈরির প্রস্তুতি।  মসজিদের একপাশের রান্নাঘরে বড় বড় পাতিলে রান্না পাকানো হয়।

মসজিদে প্রতিদিন আসরের নামাজের পর শুরু হয় রমজানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা। চলে ইফতারের আগ পর্যন্ত। এরপর মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয় আলোচনা।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩৮ঘণ্টা, জুন ১৯, ২০১৫
এএএম/টিসি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2015-06-19 11:42:00