[x]
[x]
ঢাকা, বুধবার, ৬ চৈত্র ১৪২৫, ২০ মার্চ ২০১৯
bangla news

মুরাদপুর ফ্লাইওভার নির্মাণের যৌক্তিকতা নেই: গণপূর্তমন্ত্রী

2049 |
আপডেট: ২০১৫-০৫-১৭ ৯:৩০:০০ এএম
ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

নগরীর মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার নির্মাণের কোন যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

চট্টগ্রাম: নগরীর মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার নির্মাণের কোন যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন,‘মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত যে ফ্লাইওভার নির্মাণ হচ্ছে আমি এটার পক্ষে না। আমি যোগদান করার পূর্বে এ ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।  এটা যুক্তিযুক্ত হয়নি।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ফ্লাইওভারটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করতে এসেছিলেন তখন আমি উনাকে বলেছিলাম চট্টগ্রামের যানজট নিরসণে এটা সম্পূর্ণ সমাধান না।’
 
রোববার সকাল সাড়ে দশটার দিকে কদমতলী ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন,‘চট্টগ্রামের যানজট নিরসণে সম্পূর্ণ সমাধান হবে মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত যে ফ্লাইওভার হচ্ছে এটা বারিকবিল্ডিং হয়ে বিমান বন্দর পর্যন্ত।নিয়ে যেতে হবে। বিষয়টির গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্দি করেছেন।  তিনি ঘোষণা করেছিলেন এ ফ্লাইওভার চট্টগ্রাম বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মিত হবে।  অর্থায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।  যদি ওটা ব্যর্থ হয় তাহলে আমি চাইনিজ অর্থায়ন পাওয়ার চেষ্টা করছি। ’

৪৫৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণ করছে সিডিএ।  গত বছরের ১২ নভেম্বর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেছিলেন, চট্টগ্রামবাসীর দাবি অনুসারে এই ফ্লাইওভার যাতে পরবর্তীতে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত নেওয়া হয় সে উদ্যোগ তিনি নেবেন।

রোববার গণপূর্তমন্ত্রীও বলেন,‘ফ্লাইওভারটি লালখান বাজারে শেষ হবে না। এটা বিমানবন্দরে গিয়ে শেষ হবে। বিমানবন্দরে যারা আসা যাওয়া করে তাদের এখন দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে।  ফ্লাইওভারটি নির্মাণ হলে আধ থেকে একঘণ্টার মধ্যে আসা যাওয়া করা যাবে।’

কদমতলী ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে চারমাসের মধ্যে ফ্লাইভারটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,‘ফ্লাইওভারটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে দুইমাস লাগবে বলেছে সিডিএ কর্মকর্তারা।  আমি মৌখিকভাবে তাদেরকে আরও দুইমাস সময় বাড়িয়ে দিলাম।’

মন্ত্রী বলেন,‘কদমতলী-দেওয়ানহাট এলাকায় যানজট হতো। আন্তঃজেলা বাসগুলো যাওয়ার সময় দেওয়ানহাট মোড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।  ফ্লাইওভারটি নির্মাণ হলে তারা সহজে যাতায়াত করতে পারবে। তাছাড়া দেওয়ানহাট ব্রিজটিও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বিমানবন্দর যাওয়ার জন্য ফ্লাইওভারটি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার হবে।’ 

নগরীর পুরাতন রেলস্টেশনের সামনে থেকে দেওয়ানহাটের বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা পর্যন্ত এক দশমিক ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ফ্লাইওভার নির্মাণ করছে সিডিএ।  নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ কোটি টাকা।   ২০১৩ সালের জুনে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাল ধরা হয়েছে।

নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের তাগিদ দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী। তিনি বলেন,‘নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় সিডিএ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা এবং গ্যাস কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।  এ শহরটাকে পরিকল্পিত হিসেবে গড়ে তুলতে সেবা সংস্থারগুলোর সমন্বয় খুবই জরুরী।’

পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সিডিএর বোর্ড সদস্য ইউনুস গণি চৌধুরী, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, সচিব তাহেরা ফেরদৌস, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, উপপ্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীন উল ইসলাম খান,কদমতলী ফ্লাইওভার প্রকল্প পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দিন, অথরাইজড কর্মকর্তা মোহাং মনজুর হাসান ও মোহাম্মদ শামীম।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩২ ঘণ্টা, মে ১৭, ২০১৫
এএএম/টিসি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14