ঢাকা, সোমবার, ২৮ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ অক্টোবর ২০১৯
bangla news

চাহিদা থাকলেও মফস্বলে বাড়ছে না ইসলামী ব্যাংকিং

410 |
আপডেট: ২০১৫-০৩-১৬ ১:৫৪:০০ এএম

দৃশ্যত ইসলাম শরীয়াহ মেনে চলে শহরের চেয়ে গ্রামেই বেশি। আর এদের কাছে সাধারণ ব্যাংকের চেয়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমই বেশি জনপ্রিয়। কিন্ত দেশে কার্যরত ইসলামী ব্যাংকগুলো মফস্বল এলাকায় নতুন কোনো শাখা খুলছে না।

ঢাকা: দৃশ্যত ইসলাম শরীয়াহ মেনে চলে শহরের চেয়ে গ্রামেই বেশি। আর এদের কাছে সাধারণ ব্যাংকের চেয়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমই বেশি জনপ্রিয়। কিন্ত দেশে কার্যরত ইসলামী ব্যাংকগুলো মফস্বল এলাকায় নতুন কোনো শাখা খুলছে না।

যে অনুপাতে শহরে শাখা বাড়ানো হচ্ছে সে তুলনায় মফস্বলে শাখা খোলা হচ্ছে না। এতে মফস্বলের মানুষ ওইভাবে ইসলামী ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসতে পারছে না।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন মতে, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। একই সময়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

তারল্যের পরিমাণ ইসলামী ব্যাংকের কাছেই ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।  আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের কাছে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। শাখা খুলে ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনা করছে এমন ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো রয়েছে এমন ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ২শ ২ কোটি টাকা।

দেশে পরিপূর্ণ ইসলামী ব্যাংক রয়েছে ৮টি, অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিং শাখা খুলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৯টি।

ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো খুলে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে আরও ৮টি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মোট শাখা রয়েছে ৯শ ৩৪টি। শহর এলাকায় ৬শ ২টি মফস্বল এলাকায় ৩শ ৩২টি। দেশব্যাপী চাহিদা রয়েছে কয়েকশ শাখার।

গ্রামে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এর প্রসার বাড়ছে শহরে। ব্যাংকগুলো মফস্বলে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে না। শহর এলাকাতেই বেশি ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনা করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃষ্টিতে আমানত ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির হার সন্তোষজনক। কিন্তু তাদের কাছে বাড়ছে অতিরিক্ত টাকা। চাহিদা না থাকায় বিনিয়োগ বাড়াতে পারছে না ব্যাংকগুলো।

বাজারে চাহিদা না থাকায় ব্যাংকগুলো এই টাকা শিল্প ও বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারছে না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে অলস টাকার একটি বড় অংশ সরকারি বিভিন্ন বন্ডে নামমাত্র মুনাফায় বিনিয়োগ করেছে।

ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশিদ বাংলানিউজকে বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সকল ব্যাংকের বিনিয়োগে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে ইসলামী ব্যাংকগুলো শহরের পরিবর্তে মফস্বলে শাখা খুললে বিনিয়োগ বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও সহকারী মুখপাত্র এএফএম আসাদুজ্জামান ইসলামী ব্যাংকগুলোকে শহরের সঙ্গে মফস্বলে শাখা না খুললে অনমুতি দেওয়া হচ্ছে না বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১১৫৫ ঘণ্টা, মার্চ ১৬, ২০১৫

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2015-03-16 01:54:00