bangla news

পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা

590 |
আপডেট: ২০১৪-০৭-২০ ১:২৭:০০ এএম
ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)

আসছে ঈদ-উল-ফিতরে দেশের সব পোশাক শ্রমিক বেতন-বোনাস পাবেন কি-না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রায় আড়াইশ’ কারখানায় বেতন-বোনাস দেওয়া নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন-বিজিএমইএ।

ঢাকা: আসছে ঈদ-উল-ফিতরে দেশের সব পোশাক শ্রমিক বেতন-বোনাস পাবেন কি-না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রায় আড়াইশ’ কারখানায় বেতন-বোনাস দেওয়া নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন-বিজিএমইএ।

এ জন্য নেতারা গার্মেন্ট মালিকদের সঙ্গে ‘ওয়ান-টু-ওয়ান’ কথাও বলছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিএমইএ পরিচালনা পর্যদের এক সদস্য।

গত ১৫ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চন্নু বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ২০ রোজা অর্থাৎ ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের সকল পাওনাদি পরিশোধের নির্দেশ দেন।

এর দু’দিন পরেই ১৭ জুলাই ঈদের বেতন-বোনাস দেওয়া নিয়ে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এর নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, যেসব কারখানায় সমস্যা আছে, সেসব কারখানার মালিকদের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করেছেন বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি (অর্থ) রিয়াজ-বিন-মাহমুদ।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, কিছু কিছু কারখানায় সমস্যা আছে এটা ঠিক। আর সেসব সমস্যা সমাধানে বিজিএমইএ কাজ করছে। একদিকে নতুন কাঠামোতে মজুরি অনেক বেশি বাড়ায় বেতন-বোনাস বেড়ে গেছে। ফলে বাড়তি অর্থের যোগান দিতে সমস্যা হচ্ছে বৈকি।
 
তবে বেতন-বোনাস দেওয়া প্রত্যেকেই জন্যই বাধ্যতামূলক বলেই জানান বিজিএমইএ এর এ সহ-সভাপতি। এক্ষেত্রে মালিকদের কোনো প্রকারের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, যারা জুলাই মাসের বেতন দিতে অপারগতা জানাচ্ছেন তাদেরকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাই করতে চান শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে যদি তাদের রাজি করাতে পারেন তাহলে বিজিএমইএ এর কোনো সমস্যা নেই।

কিন্তু শ্রমিকরা না মানলে অবশ্যই তাদেরকে বেতন-বোনাস দিতে হবে বলে মালিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যোগ করেন বিজিএমইএ নেতা রিয়াজ-বিন-মাহমুদ।
 
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা মতো বেতন-বোনাস না দেওয়া হলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন গার্মেন্ট শ্রমিক নেতারা।

 
টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন এর সাধারণ সম্পাদক তপন সাহাও  বেতন-বোনাস না পেয়ে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিকের ঈদ উৎসব মাটি হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এজন্য ঈদের আগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
 
তিনি জানান, লাইফস্টাইল, মিফকিফসহ অনেক কারখানায় রাজধানীর ভেতরেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এটা যতোটা না সামর্থ্য না থাকার কারণে হয়েছে, তারচে বেশি হয়েছে মালিকদের কূটচালের কারণে।

‘শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী যদি ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকরা বেতন বোনাস না পান তাহলে পরিস্থিতির দায় মালিকদেরই নিতে হবে।’
 
মালিকরা যতোই ফন্দিফিকির করুক না কেন, ২৬ জুলাই এর মধ্যে শ্রমিকদের সমস্ত পাওনাদি পূরণ না করা হলে প্রয়োজনে মালিকদের বাড়িঘর ঘেরাও করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, মালিকরা যদি নিজেদের ঈদ পার্বনের জন্য বিদেশে শপিং করতে যেতে পারেন তাহলে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে এতো সমস্যা কেন? শ্রমিকরা সারা বছর গায়ের ঘাম ঝড়িয়ে এ শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে কিন্তু মালিকপক্ষ নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করেন তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য। এবার এসব কিছুতেই মেনে নেয়া হবে না।

** যাত্রী যখন সিরিয়াল ম্যান!

বাংলাদেশ সময়: ১১২৬ ঘণ্টা, জুলাই ২০, ২০১৪

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2014-07-20 01:27:00