ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২১ মে ২০১৯
bangla news

ধর্ষিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পুরুষ ডাক্তার নয়

243 |
আপডেট: ২০১৪-০৪-২০ ৩:১১:০০ এএম
হাইকোর্ট

হাইকোর্ট

সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ধর্ষিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় (বয়স) পুরুষ ডাক্তার যেন না রাখা হয় সে ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) দীন মো. নুরুল হককে সতর্ক করেছেন হাইকোর্ট।

ঢাকা: সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ধর্ষিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় (বয়স) পুরুষ ডাক্তার যেন না রাখা হয় সে ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) দীন মো. নুরুল হককে সতর্ক করেছেন হাইকোর্ট।
 
রোববার এ বিষয়ে জারি করা রুলের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
 
আদালতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত রায়।
 
গত ২ এপ্রিল আদালতের আদেশ অনুযায়ী ধর্ষিতা নারীর পরীক্ষায় নারী চিকিত্সক নিয়োগ না দেওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে তলব করেন হাইকোর্ট।
 
এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার হাইকোর্টে হাজির হন স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি।
 
আদালত ডিজিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা আপনাদের ডাকতে চাই না। আপনারাও ব্যস্ত মানুষ।

ডিজি বলেন, আমি নতুন নিয়োগ পেয়েছি। মাত্র একমাস হলো।
 
এ সময় ডিজির আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী নারী ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আদালত বলেন, এতো ডাক্তার পেলেন কোথায়?

জবাবে তিনি বলেন, যেখানে যেভাবে পেয়েছি সেভাবে নারী ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের সব অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তবে সব রেজিস্ট্রার দফতরে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ভুল হয়ে গেছে। এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
 
পরে আদালত ডিজিকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনারা তদারকি করবেন। এরপর আদালত ডিজিকে অব্যাহতি দিয়ে রুলের নিষ্পত্তি করে দেন।

আদালত বলেন, কোনো নারীর বয়স নির্ধারণের দায়িত্ব যেন কোনো পুরুষ ডাক্তারকে দেওয়া না হয়।।   

গত বছরের এপ্রিলে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ঢাকা মেডিকেলে ফরেনসিক বিভাগ, নারীর জন্য এ কেমন ব্যবস্থা?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
 
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ধর্ষণের শিকার নারীর শারীরিক পরীক্ষা করেন পুরুষ চিকিৎসক। ওই চিকিৎসককে সহায়তা করেন পুরুষ ওয়ার্ডবয়। দেশের সবচেয়ে গৌরবময় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণের প্রমাণপত্র নিতে এসে নারীকে চরম লজ্জা আর অপমানের মুখোমুখি হতে হয় প্রায়ই’।

এ প্রতিবেদনটি গত বছরের ১৬ এপ্রিল আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিএম ইলিয়াস কচি, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী। এরপর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগে নারী চিকিৎসক, নার্স ও এমএলএসএস নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং একটি রুল জারি করেন।

রুলে পুরুষ চিকিৎসক, ওয়ার্ডবয় ও এমএলএসএস দিয়ে ধর্ষিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে নারীর সম্মান ও নারিত্বের প্রতি অবহেলামূলক কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

পরবর্তীতে জুন মাসে আদালত দেশের সব সরকারি হাসপাতালে সংশিষ্ট বিভাগে নারী চিকিৎসক, নার্স ও নারী এমএলএসএস নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেন।

এ আদেশ প্রতিপালন করে তা আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতর আদালতের ওই আদেশের বিষয়ে কোনো জবাব দাখিল না করায় ২ এপ্রিল ডিজিকে তলব করে ২০ এপ্রিল আসতে বলেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ সময়: ১৩১১ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০১৪

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db