bangla news

৫ম দফায় সোমবার ৭৩ উপজেলায় ভোট

225 |
আপডেট: ২০১৪-০৩-৩০ ২:০৬:০০ পিএম

চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে সোমবার ৩৪টি জেলার ৭৩ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে ইসি বরাবরের মতো এবারও দাবি করছে ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।’ রোববার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

ঢাকা: চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে সোমবার ৩৪টি জেলার ৭৩ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে ইসি বরাবরের মতো এবারও দাবি করছে ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।’

রোববার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক এ বিষয়ে সাংবাদিকদের  বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

এ ধাপেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বহাল থাকায় সহিংসতা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার দেশে না থাকায় এ সহিংসতা বেশি হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা। এছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে ধাপে ধাপে সহিংসতা বেড়েই চলছে।

কমিশনার আবদুল মোবারক সহিংসতা সম্পর্কে সাংবাদিকদের ‍জানান, মানুষ অনেক বেশি ডেসপারেড হয়ে গেছে। এতটা ডেসপারেড হওয়া ঠিকনা। যারা ডেসপারেড হয়ে জীবন দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানেন না যাদের জন্য তারা জীবন দিচ্ছেন তারা তাদের পরিবারের খবর ও নেবেন না। কেবল তাদের পরিবারকে অনিশ্চয়তায় ফেলেই তারা জীবন হারাচ্ছেন।

সহিংসতার আরেকটি কারণ হিসেবে দুর্নীতিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে নির্বাচিত হয়েই কিছু মানুষ দুর্নীতির সুযোগ নিতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলো ও দলীয় প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে সহিংসতা উসকে দেয়। তারা জেতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে। অথচ দলগুলোর উচিত প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয় হলেও দলীয় প্রভাব রয়েছে সবখানেই। আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের পছন্দমতো প্রার্থী দেওয়ায় নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মাঝে রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ।

এদিকে সহিংসতার সঙ্গে নতুন করে চতুর্থধাপে যুক্ত হয়েছে নির্বাচনী কর্মকর্তাকে জিম্মি করে ভোটগ্রহণের আগেই ব্যালট বাক্সে ভরার সংস্কৃতি।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর জোট ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ’র (ইডব্লিউজি) তথ্য মতে, প্রথম ধাপের চেয়ে দ্বিতীয় ধাপে সহিংসতা বেড়েছে। দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় ধাপে তা আরো বেড়ে যায়। কিন্তু চতুর্থ ধাপে এর সঙ্গে যুক্ত হয় অনিয়মের নতুন মাত্রা।

চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনিয়ম ও সহিংসতা ছিল নজিরবিহীন এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতির সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি।

অন্যদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন জানায়, নির্বাচনী সহিংসতারোধে সেনা মোতায়েন করা হলেও তারা গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকা পালন করেনি।

সুজন সম্পাদক আরো জানান, নির্বাচনে ক্রমবর্ধমান কারচুপি ও সহিংসতা আমাদের শঙ্কিত করছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা কলুষমুক্ত করা না হলে দেশে শান্তি আসবে না। বস্তুত, চলমান সহিংসতার কারণে দেশে নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আর এজন্য যা যা করা দরকার, আমরা তা-ই করছি। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে এবং নিরাপদে পৌঁছতে পারে, সেজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে ইসি। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে একটানা ভোটগ্রহণ। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের যান্ত্রিক যান চলাচলের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

এ ধাপে ৩৫ জেলার ৭৩ টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ হবে। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মোট ১ হাজার ৫৬জন।   চেয়্যারম্যান পদে ৩৬২ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪১৮ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়্যারম্যান ২৭৬ জন প্রার্থী। মোট ভোটার ১ কোটি ৩৮ লাখ ৯১ হাজার ৭৫১ জন। মহিলা ভোটার ৬৯ লাখ ৬১ হাজার ৪৮২ জন ও পুরুষ ভোটার ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ২৬৯ জন। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি নির্বাচনে পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশি।

৭৩ টি উপজেলায় মোট ভোটার সংখা ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ৯১ হাজার ৭৫১ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৩৪টি, ভোটকক্ষ ৩৪ হাজার ৮৮৫টি। প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে ৫ হাজার ৫৩৪ জন। সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকক্ষের জন্য একজন করে মোট ৩৪ হাজার ৮৮৫ জন। পোলিং অফিসার ৬৯ হাজার ৭৭০ জন । মোট ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে ১ লাখ ১০ হাজার ১৮৯ জন।

নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে এরই মধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড। নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে পাঁচ দিন তারা মাঠে থাকবেন। প্রতি উপজেলায় এক প্লাটুন করে সেনাবাহিনীর সদস্য টহল দেবেন। বড় উপজেলায় এ সংখ্যা বাড়তে পারে।

পাশাপাশি প্রতি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দুই থেকে তিনটি গাড়ি টহলে থাকবে। সঙ্গে সেনাবাহিনীর কমান্ডিং অফিসার ও একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এছাড়া মোবাইল ফোর্স হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকছে। প্রতি কেন্দ্রে একজন পুলিশ (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার একজন (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার ১০ জন (মহিলা-৪, পুরুষ-৬ জন) এবং আনসার একজন (লাঠিসহ) ও গ্রামপুলিশ একজন করে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ২৯২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৭৩ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।

পঞ্চম ধাপে যে উপজেলায় নির্বাচন হবে সেগুলো হলো- বিরল, পার্বতীপুর, হাকিমপুর, ডোমার, কালীগঞ্জ, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, বগুরা সদর, পবা, বেলকুচি, শাহাজাদপুর, পাবনাসদর, বেড়া, চুয়াডাঙ্গাসদর, আলমডাংগা, সাতক্ষীরাসদর, দেবহাট, তালা, বরগুনা সদর, বামনা, পাথরঘাটা, আমতলী, দশমিনা, কলাপারা, টাঙ্গইল সদর,ঘাটাইল, মির্জাপুর, গোপালপুর, মাদারগঞ্জ, গফরগাঁও, ত্রিশাল, নান্দাইল, আষ্টগ্রাম, পাকুন্দিয়া, টঙ্গিবাড়ী, সিরাজদিখা, লৌহজং, শ্রীপুর, কালিগঞ্জ, নরসিংদি সদর, মনোহরদি, রায়পুরা, সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ, আরাইহাজার, গোয়ালন্দ, বিশ্বম্ভপুর, তাহিরপুর, বিরানিবাজার, জুড়ী, রাজনগর, বানিয়াচং, ব্রাক্ষ্মণবাঢ়িয়াসদর, কসবা, আশুগঞ্জ, মুরাদনগর, চান্দিনা, ছাগলনাইয়া, সুবর্নচর, হাতিয়া, লক্ষীপুর সদর, রামগতি, রায়পুরা, সন্দ্বীপ, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, উখিয়া, দিঘিনালা, রাংগামাটি সদর, লংগদু, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি।

উল্লেখ্য, এ ধাপের নির্বাচনে বাসাইল উপজেলায় ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও উপনির্বাচনের কারণে ভোট হচ্ছে না। আবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভোট এদিনই নেওয়া হবে। এ উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সহিংসতার ফলে নির্বাচনী পরিবেশ না থাকায় তা স্থগিত করা হয়।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এ ধাপে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২ মার্চ, বাছাই ৫ মার্চ এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল ১২ মার্চ।

বাংলাদেশ সময়: ০০০৬ ঘণ্টা, মার্চ ৩১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2014-03-30 14:06:00