ঢাকা, শনিবার, ১৫ কার্তিক ১৪২৭, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ফুটবল

মেসি একা, বড় একা

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৫৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০
মেসি একা, বড় একা ক্যাম্প ন্যুয়ে মেসিকে একা রেখে একে একে চলে গেছেন অনেকেই/ছবি: সংগৃহীত

একে একে কাছের বন্ধুরা সব চলে যাচ্ছে। এইতো সেদিন সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু লুইস সুয়ারেসও গেলেন।

সবমিলিয়ে ক্যাম্প ন্যুয়ে লিওনেল মেসি ক্রমেই একা হয়ে পড়ছেন।  

সুয়ারেসের সঙ্গে মেসির বন্ধুত্ব বহু চর্চিত বিষয়। দুজনে মিলে ক্যাম্প ন্যুয়ে বহু ইতিহাস গড়েছেন। মাঠের বাইরেও দুজনের সম্পর্ক দারুণ। দুজনের পারিবারিক বন্ধনও মজবুত। এহেন প্রিয় বন্ধু ও সতীর্থের বিদায় তাই সহজে মানতে পারেননি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাই ক্লাবের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি।

সুয়ারেসের অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে যাওয়া নিশ্চিত হওয়ার পরই হতাশা না লুকিয়ে ক্লাবের সমালোচনায় মুখ খোলেন মেসি। উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ডকে এক আবেগী বিদায় বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে ধুয়ে দেন ক্যাম্প ন্যুয়ের আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।  

নিজের ইন্সটাগ্রামে মেসি লেখেন, ‘তারা তোমাকে বের করে দেওয়ার জন্য যা করেছে তার জন্য নয়, তবে সত্য হলো এর কোনোকিছুই আমাকে আশ্চর্য করেনি। তোমাকে ছুড়ে ফেলা হলো, তা তোমার প্রাপ্য ছিল না। তুমি ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। দলের অংশ হয়ে এবং ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছু জিতেছো। ’

সুয়ারেস একাই নন, এর আগেও প্রিয় বন্ধু ও সতীর্থদের বিদায় দেখেছেন মেসি। এতে ক্রমেই একা হয়ে পড়ছেন তিনি। এই লম্বা তালিকায় সবার আগে আসবে সেস ফ্যাব্রেগাসের নাম। লা মেসিয়ায় দুজনে একসঙ্গে বেড়ে ওঠেছেন। কিন্তু ২০১৪ সালে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসিতে পাঠিয়ে দেয় বার্সা।  

ফ্যাব্রেগাসের পরেই আসে নেইমারের নাম। যে মেসির সঙ্গে জুটি বেঁধে ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটিয়েছেন, সেই প্রিয় সতীর্থের ছায়া থেকে বের হতেই পিএসজিতে নাম লেখান এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোর ট্রান্সফার ফি’র বিনিময়ে ফরাসি জায়ান্টদের দলে নাম লেখালেও এক মৌসুম পরেই ভুল ভাঙে তার। কিন্তু ততক্ষণে ফেরার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ভেঙে যায় ‘এমএসএন’ ত্রয়ী। সুয়ারেস যাওয়ার পর তো বাকি রইলো শুধু ‘এম’ অর্থাৎ মেসি।  

গত মৌসুমেও অবশ্য নেইমারের ক্যাম্প ন্যুয়ে ফেরা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বার্সার পক্ষ থেকে চুক্তি স্বাক্ষরের যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এমনকি খোদ মেসি নিজেও ক্লাবের চেষ্টার ঘাটতি নিয়ে মুখ খোলেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি।  

সুয়ারেস ছাড়াও মেসির আরেক কাছের বন্ধু আর্তুরো ভিদালও এক গ্রীষ্মে ক্যাম্প ন্যু ছেড়ে গেছেন। চিলিয়ান মিডফিল্ডারের নতুন ঠিকানা এখন ইন্টার মিলান। আরও আগে বার্সা ছেড়ে যাওয়া ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দানি আলভেজও মেসির কাছের বন্ধু ছিলেন।

এ তো গেল সতীর্থ ও বন্ধুদের কথা। এর আগে পেপ গার্দিওলার সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক ছিল মেসির। আরেক সাবেক কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দের সঙ্গেও তাই। ফলে তাকে বরখাস্ত করা নিয়েও খুশি হতে পারেননি মেসি। পরে দায়িত্ব পাওয়া কিকে সেতিয়েনের সঙ্গে তার কিছুতেই বনিবনা হচ্ছিল না। তিনি যাওয়ার পর বর্তমান কোচ রোনাল্ড কোম্যান আসার পর পরই দুজনের দূরত্ব প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে।

ক্লাবের বোর্ড নিয়েও অসন্তুষ্ট মেসি। সেই অসন্তুষ্টি এতটাই যে ক্লাব প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া বার্তোমেউ এবং তার বোর্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও দ্বিধা করেন না তিনি। সুয়ারেস ইস্যু ছাড়াও ক্লাবের সমালোচনায় পিছপা হননি তিনি। এমনকি বোর্ডের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ক্লাবই ছেড়ে যেতে চেয়েছিলেন। যদিও ক্লাব তাকে চুক্তির শর্ত দেখিয়ে যেতে দেয়নি।

বর্তমান বোর্ড প্রেসিডেন্ট মেসির প্রতি শত্রুভাবাপন্ন আচরণ করেই যাচ্ছেন। এমনকি মেসিসহ সাবেক ও বর্তমান তারকা ফুটবলারদের নিয়ে কুৎসা রটনার জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ দিয়েছিলেন বার্তোমেউ। মেসিকে যেতে না দেওয়ার জন্য হেন কোনো কাজ নেই যে তিনি করেননি। অথচ আগের ক্লাব প্রেসিডেন্ট হুয়ান লাপোর্তার সঙ্গে দারুণ সখ্য ছিল বার্সা অধিনায়কের। লাপোর্তা তার মেয়াদে মেসিকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখতেন। সবমিলিয়ে মেসি আসলেই বড্ড একা হয়ে পড়ছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০
এমএইচএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa