ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৯ শাবান ১৪৪৫

ফুটবল

‘সুযোগ পেলে রামোসের মতো গোল করবো’

আবীর রহমান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, স্পোর্টস | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৫০ ঘণ্টা, মার্চ ২৭, ২০২৩
‘সুযোগ পেলে রামোসের মতো গোল করবো’ সিশেলসের ডিফেন্ডার মাইকেল মাসিয়েন

সিলেট থেকে: জন্ম ইংল্যান্ডে। খেলেছেন চেলসি, নটিংহ্যাম ফরেস্টের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে।

স্বপ্ন ছিল ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে খেলার। কিন্তু বয়সভিত্তিক দলে আলো ছড়ালেও কখনো জাতীয় দলে খেলার সুযোগ হয়নি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের স্বাদ পেতে মাইকেল মাসিয়েন তাই বেছে নেন বাবার দেশ সিশেলসকে।  

ফুটবলটা মাসিয়েনের রক্তেই। বাবা ছিলেন সিশেলসের সাবেক ফুটবলার। বাবার কাছ থেকেই খেলাটির প্রতি ভালোবাসা জন্মেছে তার।  বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব বার্টন আলবিয়নের হয়ে খেলছেন এই সেন্টারব্যাক। একইসঙ্গে সার্ভিস দিচ্ছেন সিশেলসকেও। তবে তার ক্যারিয়ারে বড় অর্জন চেলসির হয়ে খেলা। যদিও খেলেছেন কেবল ছয় ম্যাচ। কিন্তু বেড়ে উঠেছেন চেলসির একাডেমিতেই।  বাংলাদেশের বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসা ৩৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরের সঙ্গে আলাপে শোনালেন সেই গল্প-

প্রশ্ন: ২০০৯ সালে আপনি চেলসির হয়ে খেলেছেন। সেই অভিজ্ঞতাটা কেমন?

মাইকেল মাসিয়েন: চেলসিতে আমার অভিষেক হয়েছিল ওয়াটফোর্ডের বিপক্ষে। তখন কেবল ২১ বছরে পা দিয়েছিলাম। আমার জন্য সেটি অনেক অসাধারণ স্মৃতি। কারণ আমি আট বছর বয়সে এই একাডেমিতে এসেছিলাম। সেটা আমার জন্য অনেক বড় অর্জন ছিলো। সেখানে খেলার অভিজ্ঞতা সত্যিই খুব দারুণ ছিল।

প্রশ্ন: সিশেলস থেকে চেলসি এই যাত্রার শুরুটা কিভাবে?

মাইকেল মাসিয়েন: আমার বাবাও ফুটবল খেলতেন। তিনিও সিশেলসে ফুটবল খেলেছেন। ছোটবেলা থেকেই আমাকে পার্কে নিয়ে গিয়ে ফুটবলের ট্রেনিং দিতেন। সেখান থেকে আমি ইংল্যান্ডের সানডে লিগের একটি দলে যোগ দেই, যেটা পেশাদার কোনো দল নয়।  

তখন আমার বয়স আট বছর। চেলসির একজন কর্মকর্তা আমাদের খেলা দেখছিলেন, যার নাম স্কাল্প। আমি খুব ভালো খেলেছিলাম সেই টুর্নামেন্টে। টুর্নামেন্ট শেষে তিনি আমার বাবার সাথে কথা বলেন। আমাকে চেলসিতে যাওয়ার জন্য অফার দেন এবং পরের দিন আমি চেলসির সঙ্গে চুক্তি করি।

প্রশ্ন: চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচও আপনি খেলেছেন, জুভেন্তাসের বিপক্ষে।

মাইকেল মাসিয়েন: হ্যাঁ। চ্যাম্পিয়নস লিগে জুভেন্তাসের বিপক্ষে আমি খেলেছিলাম। দারুণ এক অভিজ্ঞতা ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগ অনেক বড় আসর। আমার মনে হয় সেখানে খেলার স্বপ্ন সব ফুটবলারেরই থাকে।

প্রশ্ন : আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? পরবর্তীতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

মাইকেল মাসিয়েন: আমি আমার ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ দিকে এবং সত্যি বলতে আমার কোন আফসোস নেই। আমার ক্যারিয়ার অসাধারণ ছিলো। আমি জার্মানি, আমেরিকা, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ এবং ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছি। এখন লিগ ওয়ানে খেলছি। সুতরাং আমার ক্যারিয়ার নিয়ে কোনও আফসোস নেই। আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছু ভাবিনি।

প্রশ্ন: সিশেলসের কোচ হওয়ার ইচ্ছে আছে?

মাইকেল মাসিয়েন: না, আমি চিন্তা করিনি এই বিষয়ে। এটি খুব কঠিন কাজ, যার প্রতি আমার সম্মান আছে। তবে আমি নিজেকে কোচ হিসেবে দেখতে চাই না।  

প্রশ্ন: আগামীকাল (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবেন। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে এক ডিফেন্ডারের গোলে। আপনি যেহেতু ডিফেন্ডার, তাই আগামী ম্যাচে গোল করার বিষয়ে কি আশাবাদী?

মাইকেল মাসিয়েন: আমি যেহেতু ডিফেন্ডার সেহেতু গোলের খাতায় নিজের নাম দেখছি না, তবে সেটি দলের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সুযোগ পেলে অবশ্যই গোল করবো, যেমনটা সের্হিও রামোস করে থাকেন।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে?

মাইকেল মাসিয়েন: এটি বেশ সুন্দর জায়গা। আমি এখানে প্রথমবারের মতো এসেছি। সুতরাং পৃথিবীতে যেকোনো অভিজ্ঞতা প্রথমবারের মতো নেয়া ভালো। এবং আমি এখানে এসে খুশি।  

 

বাংলাদেশ সময়: ২০৪৭ ঘণ্টা, মার্চ ২৭, ২০২৩
এআর/এএইচএস
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।