ঢাকা, বুধবার, ৪ কার্তিক ১৪২৮, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ফিচার

ডাক দিয়ে যায় পথের ধারে কৃষ্ণচূড়ায়...

দীপন নন্দী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩১১ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০২১
ডাক দিয়ে যায় পথের ধারে কৃষ্ণচূড়ায়... ছবি: বাদল

ঢাকা: সময়টা বৈরিতার। আপনজন হারানোর বেদনার।

চারপাশে মৃত্যুর মিছিল। তবু থেমে নেই জীবন। প্রকৃতি চলছে তার নিজস্ব গতিতে। বৈরী এ সময়েও তাই নিয়ম মেনে ঠিক ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া! ঢাকার রাজপথে এখন ঝলমলে রঙিন শোভা। অবিরাম সৌন্দর্য। কিন্তু উপভোগ করবে কে! অপেক্ষায় কৃষ্ণচূড়া। হয়তো তারও অপেক্ষা মহামারি কেটে স্বাভাবিক জীবনের।

করোনার সংক্রমণ রোধে গেল ১৪ এপ্রিল থেকে চলছে কঠোর লকডাউন। সোমবার (১৯ এপ্রিল) সরকার জানিয়ে দিয়েছে, আরো এক সপ্তাহ বাড়বে গৃহবন্দি থাকার কাল।

বিষণ্ন এ কালে রঙিন হয়ে ধরা দিচ্ছে কৃষ্ণচূড়া। রাজধানীর বেশিরভাগ সড়কের পাশে, উদ্যানে দৃশ্যমান কৃষ্ণচূড়া ফুল।

গেল কয়েকদিন চন্দ্রিমা উদ্যান, রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায় থোকায় থোকায় ফুটেছে ফুলটি।

জাতীয় সংসদ ভবনের পেছনের সড়কে অবস্থিত চন্দ্রিমা উদ্যানের দুই পাশে কৃষ্ণচূড়ার সারি। বৃষ্টিও হয়েছে দিন দুই আগে। এতে যেন কৃষ্ণচূড়া আরো বর্ণিল রূপ ধারণ করেছে।

নিসর্গবিদ মোকারম হোসেন কৃষ্ণচূড়ার বর্ণনা দিতে তার ‘মজার ফুল মজার গাছ’ বইয়ে লিখেছেন, কৃষ্ণচূড়া সবার প্রিয় একটি ফুল। লাল টুকটুকে উজ্জ্বল রঙের এই ফুলটি অনেক দূর থেকেই আমাদের চোখে পড়ে। তবে গ্রীষ্মের ফুল হলেও আমাদের কবিরা ভুল করে বসন্তের নানান উপমায় কৃষ্ণচূড়ার কথা বলেছেন। সে যাই হোক, কৃষ্ণচূড়া গ্রীষ্মকালজুড়েই আমাদের চারপাশ রাঙিয়ে রাখে।

গাছের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, গাছ মাঝারি আকারের, মাথার দিকটা এলোমেলো আর ডালগুলো নিচের দিকে নুয়ে থাকে। পাতাগুলো খুবই সুন্দর, বড় একটা ডাটার ডালে চিকন চিকন সব পাতা, দেখতে ঝালরের মতো। শীতে সবগুলো পাতা ঝরে যায়। তখন ন্যাড়া গাছে ঝুলতে থাকে কালচে রঙের চ্যাপ্টা ফলগুলো। কিন্তু গরমের শুরুতে একপশলা বৃষ্টি হলেই মরা ডালে নতুন পাতার আগেই ফুলের কুঁড়িগুলো উঁকি দিতে শুরু করে। তখন গাঢ় লাল, লাল, কমলা, হলুদ এবং হালকা হলুদ রঙের ফুলে ফুলে ভরে ওঠে গাছ। দূর থেকে গোটা গাছটাকেই একটি বিশাল ফুলের তোড়া মনে হয়।

উদ্ভিদবিদদের তথ্য অনুযায়ী, কৃষ্ণচূড়ার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এটি ফাবাসিয়ি পরিবারের অন্তর্গত। অনেকে এর ফলকে গুলমোহর নামেও ডাকেন।

কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস আফ্রিকার মাদাগাস্কার। ১৮২৪ সালে সেখান থেকে প্রথম মরিসাস, পরে ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিস্তার ঘটে। এখন আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশে দেখা যায়।

যারা এখন গৃহবন্দি তারা বন্দিদশা পেরিয়ে কৃষ্ণচূড়া দেখতে যাবেন, সেটিরই প্রত্যাশা হয়তো গাছটির। যাওয়ার সময় কবিগুরুর সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে বলতে পারেন- ‘গ্রামের পথে ক্ষণে ক্ষণে ধুলা উড়ায়,/ ডাক দিয়ে যায় পথের ধারে কৃষ্ণচূড়ায়;/এমনি করে বেলা বহে যায়,/ এই হাওয়াতে চুপ করে রই একলা জানালায়। ’'

বাংলাদেশ সময়: ১৩০৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০২১
ডিএন/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa