ঢাকা, রবিবার, ২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ জুন ২০১৯
bangla news

সায়েদের সাইকেল এবং দেশ ঘিরে স্বপ্ন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-০৯-১২ ৭:৩২:৪০ এএম

‘সাইকেলে চড়ে পুরো দেশ ভ্রমণ’-- এমন সংবাদ শুনলে মনে হয় এটি নিশ্চয়ই কোনও শাদা চামড়া বা বিদেশির ভ্রমণ কাহিনী। দেশের মানুষের এত দিনের এ ধারণা ২০০৬ সালের ৬ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত ঠিক ছিল। সেদিন সায়েদ নামে এক যুবক আমাদের প্রচলিত ধারণা ভেঙ্গে দিলেন।

‘সাইকেলে চড়ে পুরো দেশ ভ্রমণ’-- এমন সংবাদ শুনলে মনে হয় এটি নিশ্চয়ই কোনও শাদা চামড়া বা বিদেশির ভ্রমণ কাহিনী। দেশের মানুষের এত দিনের এ ধারণা ২০০৬ সালের ৬ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত ঠিক ছিল। সেদিন সায়েদ নামে এক যুবক আমাদের প্রচলিত ধারণা ভেঙ্গে দিলেন। শেষ করলেন সাইকেলে চড়ে ৬৪ জেলা ভ্রমণ। সম্প্রতি তিনি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ভ্রমণ শেষে তার দল নিয়ে এসেছিলেন বাংলানিউজ কার্যালয়ে। আলাপে-আড্ডায় বললেন তার ভ্রমণ আর স্বপ্নের কথা।

এখন তার ইচ্ছা, দেশের সব থানা-উপজেলা ঘুরে দেখা। দেশের সব স্থানের  ইতিহাস-ঐতিহ্য- সংস্কৃতি জানার পাশাপাশি প্রতিটি স্থানে থাকা খাওয়ার কী ব্যবস্থা আছে বা নেই এমন প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করা। আর এসব তথ্য দিয়ে তিনি নির্মাণ করতে চান এমন একটি ওয়েবসাইট যা দেখে দেশি-বিদেশি সবাই আকৃষ্ট হবে বাংলাদেশ ভ্রমণে। তিনি ওয়েব সাইটের মাধ্যমে দেখাতে চান বাংলাদেশের নীলগিরি পশ্চিবঙ্গের দার্জিলিং থেকে কম নয়, বরং অনেকাংশে বেশি; আমাদের রাঙামাটি দেখলে নেপাল না দেখলেও যে চলতে পারে। তার ভাষায় ‘এই ওয়েবসাইটের মাধ্যামে যদি দেশের পর্যটন শিল্পের ন্যূনতম উন্নতি হয়, যদি কিছু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হয় তাহলেই আমার আর আমাদের দলের স্বপ্ন সার্থক হবে।’

সায়েদের এবারের চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ভ্রমণটি একেবারেই আচমকা। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় মো. আবদুল বাতেনের সঙ্গে। তার একটা সাইকেল কেনা প্রয়োজন, কারণ প্রতিদিন বাসে ঠেলাঠেলি করে অফিসে যেতে তার ভালো লাগে না। আবার স্বাস্থ্যও বেড়ে যাচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। সব মিলিয়ে সাইকেল তার অপরিহার্য। যেহেতু সায়েদের নাম ফেসবুকে ‘বাংলাদেশি সাইকেল টুরিস্ট সায়েদ’ তাই তিনি তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন কোথা থেকে সাইকেল কিনলে ভালো হয় তা জানার জন্য।

এদিকে সায়েদেরও সাইকেল কেনা দরকার।  তার  ৬৪ জেলা ভ্রমণ করা সাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে কিছু দিন আগে। সে প্রস্তাব করলো, চলো না চট্টগ্রাম থেকে সাইকেল কিনে সাইকেলে চড়ে ঢাকায় আসি। বাতেন রাজি হলো। ও দিকে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. রেজাউল করিম অনেক আগেই সায়েদকে বলে রেখেছিল, ‘ভাইয়া সামনে যে কোনো ভ্রমণ হলে আমাকে জানাবেন, আমি যাব।’ তাই তাকে জানাতেই রাজি হয়ে গেল।   

১২ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেসকাব থেকে তিন জনের দলটি যাত্রা শুরু করে। মুখে তাদের একটি স্লোগান ‘নিরাপদ সড়ক চাই’। ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে তারা এ স্লোগানটি গ্রহণ করে। ‘রহিম স্টিল শিপ ব্রেক ইয়ার্ডে’ ইফতারি করে তারপর প্যাডেল চালায় সীতাকুন্ডের দিকে। তবে সীতাকুন্ডের বাড়ৈয়া ঢালা এসে থামতে বাধ্য হয় তিনজনের দলটি, কেননা এর মধ্যে বৃষ্টি নামে এবং রেজাউলের সাইকেলের চাকা পাংচার হয়ে যায়। এ এলাকায় তেমন কোনও হোটেল না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বেড়ার হোটেলে রাত্রিযাপন করে।

পরদিন সকাল সাড়ে ১০টায় তাদের যাত্রা শুরু হয় ফেনীর উদ্দেশে। চাকা চলতে চলতে তারা থামে ফেনীর ‘মহিপাল চত্বরে’। এখানে  ইফতার সেরে রওয়ানা দেয় কুমিল্লার পথে। রাত আড়াইটায় তারা ওঠে বাতেনের বাড়ি কুমিল্লার ইপিজেড রোডে। এখানেই চলে তাদের সেহরি ও মনের মতো ঘুম। ঘুম থেকে উঠে সকাল ১১টায়; বাড়ি ত্যাগ করে ১২টায়। কুমিল্লায় দেখে তারা ধর্মসাগর, বীরচন্দ্র পাঠাগার, রানীকুঠি এবং টাউনের ব্রিটিশ যুগের সব স্কুল-কলেজ। ৪টার সময় বাইপাস রোডে দেখা করে তারা সাংবাদিকদের সাথে। চান্দিনার কাছের এক মসজিদে ইফতার করে তারা। রাত সাড়ে ১১টায় পৌঁছে মেঘনা-গোমতি সেতুতে। বাধা আসে সাইকেল নিয়ে সেতু পার হতে ; তারপর বলে-কয়ে সেতু পার হয় রাত দেড়টায়।

এখান থেকে তারা যাত্রা শুরু করে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ আভিমুখে, উদ্দেশ্য বাতেনের খালার বাড়িতে রাত্রিযাপন। সেতুতে অনুমতি নিতে দেরি হওয়াতে পথে এক রাস্তার ধারের  রেস্তোরাঁয় সেহরি খেতে হয়। ফজরের নামাজ পড়ে বাতেনের খালার বাড়ি। কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে যাত্রা করে ঢাকার পথে। তাদের এ যাত্রা শেষ হয় ১৫ আগস্ট রোববার বাংলানিউজ কার্যালয়ে এসে।

পুরো দেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সায়েদের সাইকেল পথে নেমেছিল ২০০৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। ৬৪  জেলা ঘুরে ঢাকায় ফিরে এসেছিলেন তারা ২০০৬ সালের এপ্রিলের ৬ তারিখ। শুরুতে তারা ছিলেন চারজন-- অ্যাঞ্জেলা, দীপু, রানা ও সায়েদ। কিন্তু ৩৪ জেলা শেষে অভিভাবকদের পীড়াপীড়িতে প্রথম তিনজনকে ফিরে যেতে হয়েছিল। আর তাই সায়েদকে ৬৪ জেলা ভ্রমণ শেষ করতে হয়েছিল একা।

সায়েদের পুরো নাম খন্দকার আহম্মদ আলী। জন্ম ও বড় হওয়া ঢাকায়। ১৯৯৩ সালে ডিগ্রি পাস করেছেন। পেশায় তিনি ওয়েব ডেভেলপার। বই পড়ার নেশা তার ছোটবেলা থেকেই। জুল ভার্ন, এইচ জি ওয়েলস, মার্ক টোয়েনের লেখা পড়ে ভ্রমণের আগ্রহ জাগে। বিশ্ব ঘুরে দেখার শখ হয় কিন্তু জুল ভার্নের নায়কদের মতো কারি কারি টাকা আর সঙ্গী-সহকারী তার নেই। আছে অদম্য ইচ্ছা, তা সম্বল করেই সে বেরিয়েছিলেন পুরো দেশ ভ্রমণে এবং শেষও করেছেন সফলভাবে। এখন বের হবেন বাংলাদেশের উপজেলা-থানা ভ্রমণে।

তার সাথে যোগাযোগ করে আপনিও তার সঙ্গী হতে পারেন। যোগাযোগ করতে পারেন ০১৫৫২ ৪৯ ৮৮০৪ নম্বরে এবং মেইলে : bangladeshi_tourist@yahoo.com। আর সায়েদের ওয়েব সাইট www.tourbangla.com

বাংলাদেশ স্থানীয় সময় ১৯২০, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2010-09-12 07:32:40