ঢাকা, রবিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৬ মে ২০১৯
bangla news

শেষ মুহূর্তে বৈশাখী রং লেগেছে রেশমপল্লিতে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৪-১৩ ১২:২৮:০৬ পিএম
রেশমের পোশাক বাচ্চাকে দেখাচ্ছেন এক মা

রেশমের পোশাক বাচ্চাকে দেখাচ্ছেন এক মা

রাজশাহী: উৎসব মানেই পোশাকের ছড়াছড়ি। আর সেই উৎসব যদি হয় পহেলা বৈশাখ, তাহলে তো কথাই নেই। শরীরে রেশমি পোশাকতো জড়াতেই হবে। কারণ হাজারও পণ্যের ভিড়েও বাঙালি সংস্কৃতিতে রেশমের আভিজাত্য একরত্তিও কমেনি। আর যখনই কোথাও রেশমের কথা উঠবে, তখনই মনে পড়বে উত্তরের শহর রাজশাহীর নাম।

ঐতিহ্যের পরম্পরায় আজও রেশম ও রাজশাহী দু’টি নামই বহন করছে একে অপরের পরিচিতি। তাই রাজশাহীর মানুষের যেকোনো আনন্দোৎসব আর রেশম একই সুতোয় গাঁথা। রেশমি পোশাক ছাড়া যেনো সব খুশিই বেমানান। 

লাল-সাদা রঙের বাহারি থ্রিপিস, রেশমি শাড়ি না হয় পাঞ্জাবি। রেশমের শুভ্রতা লাগবেই। রেশমের প্রতি রমণীদের বিশেষ টান যেমন নতুন কিছু নয়। তেমনি এমন অনেক পুরুষও রয়েছেন যাদের উৎসব উদযাপনে রেশমি পাঞ্জাবি লাগবেই।

রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ। তাই রাজশাহী মহানগরীর সপুরা বিসিক এলাকায় অবস্থিত রেশম বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি বিপণি-বিতানই বৈশাখী রঙে রাঙানো হয়েছে।

বৈশাখ সামনে রেখে প্রতিটি শোরুমই বাহারি রেশমি পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছে। আর বাজার ঘুরে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে ক্রেতাদের মধ্যে এখনও রেশমের প্রধান্য কতো। বিষয়টি মাথায় রেখেই রাত-দিন এক করে কাজ করে যাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী রাজশাহীর বিভিন্ন রেশম কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা। রেশম সুতা দিয়ে নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, পাঞ্জাবি, থ্রিপিস ও শিশুদের পোশাক তৈরি করে চলেছেন আজও। 

রাজশাহীর সপুরায় রেশমপল্লিতে বৈশাখের প্রস্তুতিটা শুরু হয় দু’মাস আগ থেকেই। এরপরও ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় এখনও চলছে কাপড় বুননের কাজ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাড়তি পারিশ্রমিক নিয়ে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। সংগ্রহ ভালো থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই খুশি। বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে বেচাবিক্রিও জমে উঠেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

রেশমপল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে প্রতিটি শোরুমই ক্রেতায় ঠাসা। সময় ঘনিয়ে আসায় ভিড় বেড়েছে। সিল্ক হাউসগুলোয় কেনাকাটা চলছে পুরোদমে। 

লাল-সাদা রঙের প্রতিটি পোশাকেই যেনো আলোর ঝিলিক। চোখ ধাঁধানো রং আর বাহারি ডিজাইনের অভিজাত রেশমি পোশাকের টানে সেখানে ছুটছেন ক্রেতারা। হাজার কাপড়ের ভিড়ে নিজের ও পরিবারের প্রিয় মানুষগুলোর জন্য সেরা এবং স্বতন্ত্র পোশাকটি পরখ করে নিচ্ছেন সবাই। 

রাজশাহীর সপুরা সিল্কে বৈশাখের কেনাকাটায় আসা রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী ফাতেমা জাহান বলেন, বৈশাখ হচ্ছে সার্বজনীন উৎসব। সাধারণত অন্যসময় যে যার উৎসবের ধরণ মিলিয়ে কেনাকাটা করেন। কিন্তু বর্ষবরণে মেতে উঠতে এই বৈশাখে সব ধর্মের মানুষ একই সঙ্গে নিজের ও প্রিয়জনের জন্য কেনাকাটা করতে শোরুমগুলোতে ভিড় করেন। এজন্য রং এক হলেও কারুকাজে ভিন্নতা খোঁজেন সবাই।  

ফাতেমা জাহান বলেন, রেশমের পোশাক মানেই আভিজাত্যের ছোঁয়া। তাই যা দেখছেন, সেটাই তার চোখে ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে সবগুলো নিলেও মন ভরবেনা। এরপরও অনেক কাপড়ের মধ্যে নিজের জন্য সেরাটা বাছাই করতেই হবে। এজন্য পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সঙ্গে নিয়ে কেনাকাটায় এসেছেন বলেও জানান ফাতেমা জাহান।      

শোরুম ঘুরে দেখা গেছে বৈশাখ উপলক্ষে এবার রেশমের বিপুল পণ্যের সমাহার ঘটিয়েছেন তারা। বলাকা কারচুপি, সুঁই-সুতা কাতান, কোটি সিল্ক, জয়শ্রী, সিল্ক কাতান, এনডি, থ্রি স্টার কাতান, ওয়াটার কাতান, জামদানি কাতান, র-কাতান, দুপিয়ানা, ঝরনা কাতান, কারুচুপিসহ হরেক নামের শাড়ি-কাপড়, থ্রিপিস, ওড়না, পাঞ্জাবি-পায়জামা, শার্ট, ফতুয়া, স্কার্প এবং টাই থরে থরে সাজানো রয়েছে রেশমের  এই শোরুম। লাল, নিল, সবুজ, বেগুনি; বর্ণিল সব রঙের আলোয় সব সময় ঝলমল করছে নতুন পোশাকগুলো।

এখানে সিল্ক শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৯৯ টাকা থেকে ১২ হাজার ৫৯৯ টাকার মধ্যে। পাঞ্জাবি রয়েছে ৫৯৯ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। সিল্ক ছাড়াও সুতির পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। মসলিন সিল্ক রয়েছে ৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে। মটকা সিল্ক রয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। থ্রিপিস রয়েছে দুই হাজার টাকা থেকে চার হাজার টাকায়। রেশমের ফতুয়া রয়েছে ৪৫০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। 

সফট সিল্ক শাড়ি রয়েছে এক হাজার ৬৫০ থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যে। এন্ডি সিল্ক রয়েছে তিন হাজার ৭০ থেকে পাঁচ হাজার টাকায়। বলাকা সিল্ক রয়েছে চার হাজার ২০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকায়। র-মসলিন রয়েছে ছয় হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। বলাকা স্টিজ শাড়ি রয়েছে ৬ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়া শোরুমে রয়েছে কন্ট্রাস্ট থান শাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের সুতি পোশাক।

রাজশাহীর সপুরা শোরুমের ম্যানেজার সাইদুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, বৈশাখকে সামনে রেখে নতুন নতুন রেশম পণ্য যোগ করছেন তারা। বিশেষ করে গ্রীষ্ম-বর্ষা সব ঋতুতেই ব্যবহার উপযোগী করে এবার বিভিন্ন ডিজাইনের মসলিন সিল্কে পোশাক তৈরি করা হয়েছে। প্রথম দিকে কেনাবেচা কম ছিল। তবে পহেলা বৈশাখ ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তে বিক্রি বেড়েছে বলে জানান সপুরা সিল্কের এই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ সময়: ১২২৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৩, ২০১৯
এসএস/জেডএস

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

ফিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2019-04-13 12:28:06