bangla news

পেঁপে বাদশার মেওয়া বাগান

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০৭-১১ ৬:০২:১৩ এএম

ঈশ্বরদীর একজন কৃষক এমন সব ফলের আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন যেসব ফলের আবাদ চোখে পড়ে না। এ কৃষকের নাম শাহজাহান আলী বাদশা। কিন্তু সবাই তাকে পেঁপে বাদশা নামেই চেনেন। শাহজাহান রাষ্ট্রীয় পদকসহ প্রচুর পুরস্কার অর্জন করেছেন।

ঈশ্বরদীর একজন কৃষক এমন সব ফলের আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন যেসব ফলের আবাদ চোখে পড়ে না। এ কৃষকের নাম শাহজাহান আলী বাদশা। কিন্তু সবাই তাকে পেঁপে বাদশা নামেই চেনেন। শাহজাহান রাষ্ট্রীয় পদকসহ প্রচুর পুরস্কার অর্জন করেছেন।

কদবেল, সফেদা, বেল সহ নানা ধরনের ফলের চারা রোপনের পর ফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ের জন্য চাষীরা এ ধরনের ফল আবাদের আগ্রহ খুঁজে পায় না। ঠিক সে কারণেই বাদশা ঈশ্বরদীতে বানিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেছেন মেওয়া বা শরিফার বাগান।

৫ বছর আগে গড়া বাদশার বাগানে প্রথম বার ফলন কম হলেও গত দুই-তিন বছরের মধ্যে ফলন ভালো দেখে অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামে এখন অনেক কৃষকরাই অল্প বিস্তর করে এ ফলের আবাদ বাড়ির আশে পাশের জায়গাতে শুরু করেছেন।

ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে ঈশ্বরদীর সফল চাষী শাহজাহান আলী বাদশা নিজের খামারের পাশে তিন বিঘা পতিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ৪শ শরিফার চারা রোপন করেন।

বাংলানিউজকে বাদশা বলেন, এখন তার দুটি বাগানে শরিফা গাছের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। আতা ফলের মত দেখতে শরিফাকে স্থানীয়রা ‘মেওয়া’ নামেই চেনেন। প্রথমবার চারা রোপনের পরে ফল আসতে দীর্ঘ সময় লাগায় অনেকেই শরিফার বাগান করতে তাকে নিরুৎসাহিত করলেও নতুন কিছু গড়ার প্রত্যয়ে বাগানের পিছনে লেগে থাকেন শাহজাহান আলী বাদশা। নিয়মিত গাছের পরিচর্যা, সার, কীটনাশক প্রদান সহ অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যান। একসময়ে তার অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়। কঠোর পরিশ্রমের পর তিনি গড়ে তুলতে পেরেছেন মেওয়ার বাগান। পরপর তিন বছর প্রতিটি গাছেই পর্যাপ্ত ফল আসছে।

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের রসনা বিলাসীদের কাছে এখন প্রতিনিয়ত ঈশ্বরদীর মেওয়া পৌঁছে যায় শাহজাহান আলী বাদশার খামার থেকে।

বাদশা জানান, প্রতিটি শরিফার গাছে কমবেশি ৩ থেকে ৪শ বা তারও বেশি ফল আসে। যার ওজন দাঁড়ায় ৮০ থেকে ১শ কেজি পর্যন্ত। বাজারে শরিফা বিক্রি হয় কেজি প্রতি আড়াইশ থেকে ৩শ টাকা দরে। এই হিসাবে শরিফা থেকে তার আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার রাস্তা এখন প্রশস্থ হয়েছে। বাগানে পর্যাপ্ত ফল আসায় তা দেখতে এবং বাগান গড়ার ধারনা নিতে প্রতিদিন পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে মানুষরা এসে ভীড় জমাচ্ছেন বাদশার মেওয়া বাগানে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে এ ফলের আবাদের কোন পরিসংখ্যান নেই বলে বাংলানিউজকে জানান ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিসার ইলিয়াস আলী। তিনি বলেন, অপ্রচলিত ফল হলেও এসব ফলের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি তাই এসব অপ্রচলিত ফলের আবাদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৫ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

ফিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2011-07-11 06:02:13