bangla news

বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষায় রোশনারার ক্যাম্পেইন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০৬-২১ ১০:৪১:৪০ এএম

বাংলাদেশের সিলেটে জন্ম নেওয়া ব্রিটিশ এমপি ও ব্রিটেনের শ্যাডো আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী রোশনারা আলী এবার বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষায় নেমেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের ক্ষতির বিষয়টির দিকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে জনমত সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

লন্ডন: বাংলাদেশের সিলেটে জন্ম নেওয়া ব্রিটিশ এমপি ও ব্রিটেনের শ্যাডো আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী রোশনারা আলী এবার বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষায় নেমেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের ক্ষতির বিষয়টির দিকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে জনমত সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও গ্রুপের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভা সেমিনারে তিনি নিয়মিতই অংশ নিচ্ছেন। তার এই ক্যাম্পেইন নিয়ে মঙ্গলবার বাংলানিউজের সাথে একান্তভাবে কথা বলেন রোশনারা।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন, অক্সফামের জলবায়ু পরিবর্তন ক্যাম্পেইনে সহযোগী হয়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফর করেছেন তিনি। বর্তমানে এই ইস্যুতে জনমত সংগ্রহে বিভিন্ন ক্যাম্পেইনে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ সফরের সময় এই ইস্যুতে অর্জিত অভিজ্ঞতা নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা ও মানব সভ্যতার জন্যে এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তিনি নতুন প্রজন্মের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান।

তিনি বলেন,‘জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল সংগ্রহ ইস্যুতে পার্লামেন্টে দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই আমরা কাজ করতে চাই, সারাও পাচ্ছি অনেক।’

নভেম্বরে বাংলাদেশ ঘুরে এসেই তিনি হাউস অব কমন্সে প্রশ্ন উত্থাপন করে জানতে চান এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের করণীয়। রোশনারা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি আমাদের সকলের ভাবনার বিষয় হলেও আমার মূল চিন্তা হলো বাংলাদেশ নিয়ে।’

গত বছরের নভেম্বরে অক্সফামের ক্যাম্পেইন সহযোগী হয়ে বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে রোশনারা বাংলানিউজকে বলেন,‘ ঢাকায় অক্সফামের একটি ট্রাইব্যুনালে অংশ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের মারাত্মক ক্ষতির কথা আমি জানতে পেরেছি।’

রোশনারা বলেন, ‘শুধু তাই নয়, আমি মনে করি সমুদ্রসীমা বাড়ার ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় দরিদ্র মানুষ যে কি বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনও অধিকারই নেই বিশ্ব সম্প্রদায়ের।’
রোশনারা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার কোনও কোনও মহিলা যখন আমাকে বললেন সমুদ্রে তাদের স্বামী  হারানোর কথা, কেউ বললেন নিজ সন্তান হারানোর কথা, তখন সভ্য দুনিয়ার অংশ হিসেবে আমার নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়েছে।’

বাংলানিউজকে রোশনারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু নিয়ে তার দল লেবার পার্টির ন্যাশনাল পলিসি ফোরামে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছেন তিনি। শ্যাডো ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি হ্যারিয়েট হারমেনও রয়েছেন এই ফোরামে। হ্যারিয়েট হ্যারমেন এ বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা দিয়ে সহযোগিতা করছেন। রোশনারা জানান, লেবার পার্টির ক্ষমতাসীন সময়ের পলিসি সামনে রেখে আমরা এ বিষয়ে একটি কার্যকর পলিসি তৈরি করে তা পার্লামেন্টে উত্থাপন করবো।

আশা করি সরকার এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করবে। যদি তা না হয়, তাহলে আগামীতে আমাদের পার্টি ক্ষমতায় গেলে এই পলিসি বাস্তবায়ন করবে, এমনটিই আমাদের লক্ষ্য। অবশ্য ব্রিটেনের বর্তমান সরকার লেবার পার্টির জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুর পলিসি ফলো করেই এ বিষয়ে আগাতে চাচ্ছে বলে ধারণা রোশনারার, এমনটিই বাংলানিউজকে জানালেন তিনি।

ক্লাইমেট চেইঞ্জ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে গত মাসে ব্রিটেনের শ্যাডো ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি হ্যারিয়েট হারমেনকে সাথে নিয়ে রোশনারা আমেরিকাও সফর করেন। ঐ সফরের সময় তারা ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফসহ জাতিসংঘের অন্য এজেন্সিগুলোর সাথেও বৈঠক করেছেন বলে জানান বাংলানিউজকে।

রোশনারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় যেখানে প্রয়োজন ১০০ বিলিয়ন ডলার, সেখানে সংগৃহীত হয়েছে মাত্র ৭ বিলিয়ন ডলার। এই ১০০ বিলিয়ন ডলার ২০২০ সালের মধ্যেই আক্রান্ত দেশগুলোর প্রয়োজন। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোকে এখনই এ বিষয়ে আরও সক্রিয় হতে হবে। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের ভবিষ্যতের স্বার্থেই এ ইস্যু সম্পর্কে সচতেন হতে হবে, এমনই মন্তব্য করে রোশনারা বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থান বাংলাদেশের।’

আশঙ্কা ব্যক্ত করে রোশনারা বলেন, ‘বাংলাদেশে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের সাথে ব্রিটেনে জন্ম ন্ওেয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের একটি যোগসূত্র তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে। এই যোগসূত্রটি নিজেদের ভয়াবহ ভবিষ্যৎ মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা আদায়ে ব্রিটেন-বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের ক্যাম্পেইনে কাজে লাগবে।’

রোশনারা জানান, এরই মধ্যে সিলেটের কয়েকটি স্কুলের সাথে লন্ডনে তাঁর নির্বাচনী এলাকার কয়েকটি স্কুলের যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে। এইসব ক্যাম্পেইনে পেছন থেকে অক্সফামই সহযোগিতা করছে। চলতি সপ্তাহে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু নিয়ে ক্যাম্পেইনরত টাওয়ার হ্যামলেটস এর সেন্ট্রাল ফাউন্ডেশন গার্লস স্কুলের একটি গ্রুপ পার্লামেন্টে রোশনারা’র সাথে সাক্ষাৎ করে।

এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদেরই একটি গ্রুপ জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ব্রিটেনে জনমত সৃষ্টির কাজ করছে অক্সফামের সহযোগী হয়ে। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকার এই স্কুলের গ্র“পটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের ক্ষতির বিষয়টি ব্রিটিশ মূলধারাকে জানাতে চায়। সেন্ট্রাল ফাউন্ডেশন গার্লস স্কুলের ক্যাম্পেইনরত এই গ্রুপটি তাদের যোগাযোগ নেটওয়ার্কের অংশীদার বাংলাদেশের একটি স্কুলকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ক্ষতির বিষয়ে কিছু সেই স্কুল  থেকে পাঠানো একটি ডকুমেন্টারি তারা তুলে দেয় রোশনারার হাতে। রোশনারা তা গ্রহণ করে ছ্রাত্রছাত্রীদের উৎসাহ দিয়ে বলেন, ‘নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যেই এই ক্যাম্পেইন প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘আমার নিজ নির্বাচনী এলাকার তরুণ প্রজন্মের এ ধরনের একটি মহতী উদ্যোগে আমি সত্যিই আনন্দিত।’

‘প্রত্যেক প্রজন্মের কাছেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কিছু বলার থাকে’ বলে উল্লেখ করে রোশনারা বলেন, ‘আমি মনে করি, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটি এরকমই একটি ইস্যু। বর্তমান প্রজন্ম এই ইস্যুর বিপদ সম্পর্কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সতর্ক করে দেবেন, জলবায়ু পরিবর্তন ক্যাম্পেইনকে আমাদের এভাবেই ছড়িয়ে দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ব্রিটেনের প্রতিটি এলাকার তরুণ প্রজন্মকে যার যার স্থানীয় এমপি’র কাছে এ বিষয়ে লবি করতে হবে, যাতে এখনই ব্রিটিশ সরকার ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর পাশে দাঁড়ায়।’

 জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় ভূূমিকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে রোশনারা বলেন, ‘যে হারে সমুদ্রসীমা বাড়ছে, তাতে আগামী ৩০/৩৫ বছরের মধ্যে যে বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হবে, তার প্রভাব শুধু ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোই নয়, সারা পৃথিবীতেই পড়বে। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবতে হবে ব্রিটেন, আমেরিকাসহ পৃথিবীর উন্নত ও ক্ষমতাশালী দেশগুলোকে। আর যার যার দেশ ও সরকারকে এ বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করতে পারে একমাত্র তরুণ প্রজন্মই।’

রোশনারা বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা হয়তো বন্ধ করতে পারবো না, কিন্তু এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণতো কমিয়ে আনতে পারবো।’

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু বিশেষ করে বাংলাদেশের চরম ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে তার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এ আশ্বাস দিয়ে রোশনারা বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিভিন্ন দলের এমপিদের কাছ থেকে এ বিষয়ে প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। লেবার পার্টিতো ইস্যুটিকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর তালিকায়ই স্থান দিয়েছে।’
 
বাংলাদেশ সময়:২০২৬ঘণ্টা, জুন ২১, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2011-06-21 10:41:40