ঢাকা, বুধবার, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ফিচার

আধুনিকতার ছোঁয়ায় রাজশাহীর কামারুজ্জামান উদ্যান

শরীফ সুমন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২০৭ ঘণ্টা, জুলাই ২৬, ২০১৩
আধুনিকতার ছোঁয়ায় রাজশাহীর কামারুজ্জামান উদ্যান

রাজশাহী: আধুনিকতার ছোঁয়া লাগায় দর্শক টানছে রাজশাহীর শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা। উদ্যান ও চিড়িয়াখানার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কাজ শেষ হলে এটি হবে দেশের অন্যতম চিত্তাকর্ষক একটি বিনোদন কেন্দ্র।



সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, নবনির্বাচিত সিটি মেয়র ও তার পরিষদ যদি কাজ অব্যাহত রাখেন তাহলে বাকি কাজটুকু অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হবে।

সম্প্রতি উদ্যান ও চিড়িয়াখানার উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র সরিফুল ইসলাম বাবু। উদ্যানের বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি।

ইতিমধ্যেই মাস্টার প্ল্যানের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়নের প্রায় ষাট শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নবনির্মিত প্রধান ফটকসহ সুদৃশ্য প্রাচীর সবার দৃষ্টি কাড়ছে। প্রধান ফটকের সামনেই চোখে পড়ছে সুদৃশ্য লেকসহ গাড়িপার্কিং। এর সঙ্গেই আছে পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা।

পশু-পাখির আস্তানাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পশ্চিমে। কংক্রিট, রড, সিমেন্টের টর্চার সেলের বদলে বাঘ, সিংহ, বানর, ভাল্লুক, মায়া হরিণ, চিত্রল হরিণ, গাধা, খরগোশসহ বিভিন্ন পশুরা এখন থেকে এখানে পাবে অরণ্যের প্রকৃতি। সেভাবেই তাদের আবাস কাঠামোগুলো ইতিমধ্যেই নির্মিত হয়েছে। পাখিদের জন্য ৫০ ফুট উঁচু বিশাল আকৃতির এভয়ারি নির্মাণের কাজও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এছাড়া সুদৃশ্য ভেনাস দ্বীপ স্থাপন করা হয়েছে লেকের মাঝখানে। নির্মিত হয়েছে দু’টি কার্ভ সেতু। ওয়াকওয়েগুলোকে করা হয়েছে আরও মনোরম। দক্ষিণের মাটির পাহাড়কে নয়নাভিরাম করে তার উপর ফোয়ারা স্থাপনের কাজ চলছে।

ছোট-বড় সবার জন্য বিনোদনের একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসাবে শিশুদের জন্য নির্মিত হয়েছে ফেরিজ হুইল ও চিলড্রেন কর্ণার। এছাড়া তাদের মন মাতানোর জন্য থাকছে আরও নানা আয়োজন। ফেরিজ হুইল ও চিলড্রেন কর্ণার আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই উদ্বোধন হবে। পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুন্দর করার জন্য আরও সবুজের কারুকার্যের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুরনো বসার আসনগুলোতে টাইলস বসানো হয়েছে। পিকনিক কর্ণারগুলোর উন্নয়ন করা হয়েছে।

চমক এখানেই শেষ নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল ভিত্তিক দেশের সর্বাধুনিক নভোথিয়েটার স্থাপন হতে যাচ্ছে এখানেই।

প্রসঙ্গত, শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা রাজশাহী মহানগরবাসীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। ব্রিটিশ আমলে উদ্যানটি ছিল ঘোড়দৌড়ের মাঠ। শহরবাসীর বিনোদনের আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলার জন্য তৎকালীন মন্ত্রী এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান ও জেলা প্রশাসক আবদুর রউফ এখানে উদ্যান নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭২ সালে এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৩৩ একর ভূমিতে নির্মিত উদ্যানটি ১৯৯৬ সালের ২৬ নভেম্বর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন গ্রহণ করে।

তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জিল্লুর রহমান মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনুর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যানটিকে হস্তান্তর করেন।

পরে উদ্যানটিকে আধুনিক বিনোদনের আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন সদ্য সাবেক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বাধীন পরিষদ।

বাংলাদেশ সময়: ১১৫৬ ঘণ্টা, জুলাই ২৬, ২০১৩
সম্পাদনা: রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa