ঢাকা, রবিবার, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ শাবান ১৪৪৫

ফিচার

সন্ধ্যায় আলো জ্বলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আলোর দিশারীতে

জাহিদুল ইসলাম মেহেদী, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৫৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৭, ২০২৩
সন্ধ্যায় আলো জ্বলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আলোর দিশারীতে

বরগুনা: বরগুনায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আলোর পথ দেখানোর জন্য কাজ করেছে ব্যতিক্রমধর্মী স্কুল ‘আলোর দিশারী’। মানবিক বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীদের হাত ধরে চলছে এ স্কুলটি।

বরগুনার ডিকেপি সড়কে ইমার্জিং টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের একটি কক্ষে সন্ধ্যার পরে গিয়ে দেখা যায় সেখানে বসে লেখাপড়া করছে বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীরা। এ কলেজেই শিশুদের পাঠদান করেন সংগঠনের সদস্যরা। সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী চলমান এ স্কুলটিতে সপ্তাহে ছয়দিনের ক্লাসে ৩০-৩৫ জন শিশু রয়েছে।

আলোর দিশারী স্কুলটি ঘুরে জানা যায়, বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত সাইফুর রহমানের পরামর্শে ২০২২ সালে নিজেদের উদ্যোগে এ স্কুলটি তৈরি করেন মানবিক বাংলাদেশ সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা। তাদের মধ্যে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, স্কুলের শিক্ষক ও কলেজের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। শুরুটা মাত্র সাতজন স্বেচ্ছাসেবীর হাত ধরে হলেও এখন এলাকার অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়াচ্ছেন স্কুলটিতে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যবইসহ কলম, খাতা ও প্রতিদিন নাস্তা দেয় সংগঠনটি।  

এলাকাবাসীরা বাংলানিউজকে বলেন, এখানে যারা কাজ করছেন তারা সম্পূর্ণ নিজেদের খরচে স্কুলটিতে সময় দিচ্ছেন এবং ফ্রি শেখাচ্ছেন। তাদের কারণে এলাকার অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা অন্তত অক্ষর জ্ঞান পাচ্ছেন। এ ধরনের কাজে আমরাও তাদের পাশে থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করি।

আলোর দিশারী শিক্ষার্থী জুঁই বাংলানিউজকে বলে, আমার বাবা সাইকেল মেরামতের কাজ করেন। মা ছোট একটি দোকান চালান। সকাল হলেই তারা কাজে চলে যায়। আমি বাসায় থাকি, স্কুলের সময়ে স্কুলে যেতে পারি না। তাই সন্ধ্যায় দুই ঘণ্টা এ ফ্রি স্কুলে আসি। এখান থেকে আমাদের খাতা, কলম দেওয়া হয়।

আরেক শিক্ষার্থী মো. সালমান ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমার বাবা মানুষের বাসায় ভ্যানে করে ফিল্টারের পানি দেন। বাবাকে বলে স্কুলের স্যার আমাকে এখানে ভর্তি করেছেন। স্যার, ম্যাডামরা খুব ভালোবাসেন। প্রতিদিন আমাদের নাস্তা দেন।

এ বিষয়ে স্কুলটির স্বেচ্ছাসেবক ফয়জুল মালেক সজিব বাংলানিউজকে বলেন, আমরা এলাকায় ঘুরে সুবিধাবঞ্চিত যারা রয়েছে তাদের খুঁজে বের করে লেখাপড়ায় আগ্রহী করি। যাদের স্কুলে যাওয়ার মতো সুযোগ আছে কিন্তু স্কুলে যায় না, তাদের স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করি। তাছাড়া যারা স্কুল ছেড়ে দিয়েছে ও এখন স্কুলে যাওয়ার বয়স নেই, আমরা তাদের বুঝিয়ে আমাদের স্কুলে ভর্তি করি।

স্কুলটির আরেক স্বেচ্ছাসেবক নাজমুল কবির লিমন বাংলানিউজকে বলেন, আমি বরগুনা খাজুরতলা মডেল কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি এখানে সময় দেই। আমার মতো এখানে যারা সুবিধা বঞ্চিতদের শিক্ষা দিচ্ছেন তারা সবাই স্বেচ্ছায় এ কাজ করছেন। আমরা সবাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যেক মাসে নিজেদের চাঁদার টাকায় আলোর দিশারী স্কুলটি চালাচ্ছি।

তার প্রত্যাশা, এখানকার শিশুরা লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হবে। দূর হবে চরাঞ্চলের অন্ধকার।  

বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত সাইফুর রহমান মুঠোফোনে বাংলানিউজকে বলেন, আলোর দিশারী স্কুলে কেউ এসে সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল শিশুদের বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষকতা করতে পারবেন। আমরা এ স্কুলের মাধ্যমে বরগুনায় সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল শিশুদের প্রাক-প্রাইমারি স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করি। এ স্কুলের বাচ্চাদের দেখে অনেক বাবা মা তাদের বাচ্চাদেরকেও এখনে পাঠাচ্ছেন, এটাই আমাদের সফলতা।

এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, এটা শুধু সরকারের করার বিষয় নয়। আমরা যে যেখানে আছি, সেখান থেকে তাদের সহযোগিতা করতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৭, ২০২৩
এসআইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।