ঢাকা, বুধবার, ২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৮ মহররম ১৪৪৪

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

করমজলে ২৩টি ডিম দিয়েছে বাটাগুর বাসকা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩৬ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০২১
করমজলে ২৩টি ডিম দিয়েছে বাটাগুর বাসকা

বাগেরহাট: সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে আবারও ডিম দিয়েছে কচ্ছপ বাটাগুর বাসকা।  

শনিবার (২০ মার্চ) সকালে বন্যপ্রাণী কেন্দ্রে কচ্ছপ লালন-পালন কেন্দ্রের পুকুর পাড়ে একটি কচ্ছপ ২৩টি ডিম দিয়েছে।

ডিমগুলো ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে। ৬৫-৬৭ দিন শেষে এই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হবে।

এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি কচ্ছপ ২৭টি, ৩ মার্চ আরেকটি কচ্ছপ ২৩টি, এবং ৫ মার্চ অন্য একটি কচ্ছপ ২৩টি ডিম পাড়ে। এই নিয়ে ২০২১ সালে চারটি কচ্ছপ ডিম দিল। এ বছর আরও দুটি কচ্ছপ ডিম পাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবনের করমজল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির।

আজাদ কবির বাংলানিউজকে বলেন, বিলুপ্ত প্রজাতির এই কচ্ছপ আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে লালন পালন করি। বংশবৃদ্ধির জন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজরে রাখছি। এর আগে, আমাদের এখানে কচ্ছপ ডিম দিয়েছে। সেই ডিম থেকে বাচ্চাও ফুটেছে। সকালে একটি কচ্ছপ ২৩টি ডিম দিয়েছে। সেই ডিমগুলো থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য ইনকিউবেটরে রেখেছি। আশাকরি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হবে। বর্তমানে আমাদের এখানে ৩ শতাধিক কচ্ছপ রয়েছে।

২০১৭ সালে দুটি কচ্ছপের ৬৩টি ডিম থেকে ৫৭টি বাচ্চা হয়। ২০১৮ সালে দুটি কচ্ছপের ৪৬ ডিম থেকে ২১টি বাচ্চা পাওয়া যায়। ২০১৯ সালে একটি কচ্ছপের ৩২টি ডিম থেকে ৩২টি বাচ্চা পাওয়া যায়। ২০২০ সালে ১০ মে একটি কচ্ছপের ৩৫টি ডিম থেকে ৩৪টি বাচ্চা পাওয়া যায়। এসব বাচ্চা থেকে ২০১৭ সালে ২টি, ২০১৮ সালে ৫টি, ২০১৯ সালে ৫টি কচ্ছপ সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে অবমুক্ত করে বন বিভাগ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২১ সালের মধ্যে ১০টি কচ্ছপ সুন্দরবনে অবমুক্ত করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।

উল্লেখ, ২০০০ সালের দিকে বন্যপ্রাণী গবেষকরা মনে করেন পৃথিবীতে আর বাটাগুর বাসকার কোনো অস্তিত্ব নেই। পরে ২০০৮ সালে গবেষকরা প্রকৃতিতে বাটাগুর বাসকা আছে কিনা তা খুঁজতে শুরু করেন। খুঁজতে খুঁজতে নোয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন জলাশয়ে ৮টি বাটাগুর বাসকা পাওয়া যায়। যার মধ্যে ৪টি পুরুষ ও ৪টি স্ত্রী। প্রজননের জন্য গাজীপুরে নিয়ে যাওয়া হয় কচ্ছপগুলোকে। বনবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকেরা নিবিড়ভাবে লালন পালন ও প্রজননের চেষ্টা করে বাটাগুর বাসকাগুলোকে। তারপরও তেমন সাফল্য পাওয়া যায়নি। তবে কয়েক বছরে গাজীপুরে প্রায় ৯৪টি বাচ্চা দিয়েছিল ৮টি মা কচ্ছপ। সেখানে ভাল সাড়া না পাওয়ায় ২০১৪ সালে মূল ৮টি বাটাগুর বাসকা ও তাদের জন্ম দেওয়া ৯৪টি ছানাসহ করমজল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১৯ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০২১
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa